আকাশ বিদায়, ঈশানের উত্থান: বিএসপিতে কর্তৃত্বের রাশ শক্ত করলেন মায়াবতী

যা জানা জরুরি
- একসময় নিজের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে তুলে ধরা ভাইপো আকাশ আনন্দকে দল থেকে সরিয়ে দিয়েছেন মায়াবতী।
- উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে এই রদবদল দলের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
- ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে আকাশের স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখার চেষ্টা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বহুজন সমাজ পার্টিতে উত্তরাধিকার নিয়ে ফের ঝড়। একসময় নিজের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে তুলে ধরা ভাইপো আকাশ আনন্দকে দল থেকে সরিয়ে দিয়েছেন মায়াবতী। একই সময়ে সামনে আসছেন আকাশের ছোট ভাই ঈশান। উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে এই রদবদল দলের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে আকাশের স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখার চেষ্টা। দলীয় সূত্রের দাবি, গত মাসে হাথরস ও জেওয়ারে কর্মিসভায় তাঁর দায়িত্ব ছিল মায়াবতীর বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু তিনি নিজের কিছু বক্তব্যও রাখেন। তাতেই ক্ষুব্ধ হন মায়াবতী। ফলে এই পদক্ষেপকে দলের একমাত্র ক্ষমতাকেন্দ্র হিসেবে নিজের কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার উদ্যোগ বলে দেখছেন বিএসপির নেতাদের একাংশ।
পারিবারিক টানাপড়েনও এখানে বড় বিষয়। আকাশের শ্বশুর, প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ অশোক সিদ্ধার্থকে রাজনীতি ছাড়তে বলেছিলেন মায়াবতী। বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, সিদ্ধার্থ অবসর ঘোষণা করেন। তাঁর বক্তব্য, পারিবারিক সম্পর্কের চেয়েও মায়াবতীর নির্দেশ তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। জামাইকে প্রভাবিত করার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। মনে করিয়ে দেন, আকাশ দীর্ঘদিন মায়াবতীর তত্ত্বাবধানেই বড় হয়েছেন।
কিন্তু তাতেও বরফ গলেনি। মায়াবতীর অভিযোগ, আকাশ ও সিদ্ধার্থ দলের এবং বহুজন আন্দোলনের স্বার্থের তুলনায় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সিদ্ধার্থের অবসর নিয়ে তাঁর আগের বার্তা আকাশ সমাজমাধ্যমে পুনঃপ্রচার না করায় আনুগত্যের প্রশ্নও তোলেন তিনি। মায়াবতী বলেন, সিদ্ধার্থের অবসর সঠিক পদক্ষেপ হলেও বড় দেরিতে নেওয়া হয়েছে। এর পরেই আকাশকে দল থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা আসে।
আকাশের উত্থান ও পতনের ইতিহাস অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে উত্তরসূরি ঘোষণা করেছিলেন মায়াবতী। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারের মাঝপথেই জাতীয় সমন্বয়কের পদ এবং উত্তরসূরির মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়। সীতাপুরের বক্তৃতা ঘিরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা আসে। ২০২৫ সালের মার্চে বহিষ্কার, পরে অনুশোচনা ও আনুগত্য জানানোর পর প্রত্যাবর্তন। সেই বছরের মে মাসে প্রধান জাতীয় সমন্বয়ক এবং অগস্টে জাতীয় আহ্বায়কের দায়িত্ব পান তিনি।
এবারও পুনরুজ্জীবনের প্রস্তুতি চলছিল। গত ১০ অগস্ট হাথরসে এবং ২৫ অগস্ট জেওয়ারে কর্মিসভা করেন ৩১ বছরের আকাশ। দুটি আসনের প্রার্থীও ঘোষণা করেন। অক্টোবর ও নভেম্বরে রাজ্যজুড়ে তাঁর সভার পরিকল্পনা ছিল বলে দলীয় সূত্রের খবর। অথচ সেপ্টেম্বরের গোড়াতেই মায়াবতী জানান, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার আগে আকাশের আরও পরিণত হওয়া প্রয়োজন। লখনউয়ের জাতীয় পদাধিকারীদের বৈঠকে তাঁর অনুপস্থিতিতে পরিচিত আসনটিতে বসেন ঈশান।
বিবৃতিতে কাঁশিরামের নীতির কথাও তুলেছেন মায়াবতী। তাঁর বক্তব্য, আত্মীয়েরা দলের কাজে সাহায্য করতে পারেন, কিন্তু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা সরকারে পদ পাওয়ার প্রশ্নে প্রতিষ্ঠাতার আপত্তি ছিল। বিরোধীদের কৌশলে নির্বাচনী ক্ষতি এড়াতেই আকাশের দায়িত্ব সীমিত করার প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।
ঈশান লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনস্নাতক। পারিবারিক হোটেল ব্যবসার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁকে দলের প্রধান আঞ্চলিক সমন্বয়কের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাংগঠনিক কাঠামোয় দুই অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং তাঁদের বৈঠকে ডাকার ক্ষমতা পাচ্ছেন তিনি। মায়াবতী ও নিজের বাবা, দলের সহসভাপতি আনন্দ কুমারের কাছে কাজের হিসাব দেবেন। তবে ঈশানকে আনুষ্ঠানিক উত্তরসূরি ঘোষণা করা হয়নি।
রাজনৈতিক তাৎপর্য হল, নেতৃত্ব বদলের মধ্যেও নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র একই থাকছে। আকাশের ক্ষেত্রে স্বাধীন বক্তব্য ও পারিবারিক আনুগত্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে; ঈশানের দায়িত্ববৃদ্ধি ঘটছে সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের অধীনে। এই বিন্যাস থেকে বোঝা যায়, নতুন প্রজন্মকে জায়গা দিতে চাইলেও কর্তৃত্ব ভাগ করার সীমা মায়াবতী নিজেই নির্ধারণ করছেন। নির্বাচনের আগে সংগঠনের প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, কর্মীদের প্রয়োজন স্পষ্ট নির্দেশ। বারবার পদচ্যুতি ও প্রত্যাবর্তনের মধ্যে সেই নিশ্চয়তা কতটা তৈরি হবে, সেটাই এখন দলের সামনে বড় পরীক্ষা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



