হাইলাইটস
- জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে মিলিত হন Narendra Modi ও Donald Trump।
- দুই নেতা কর্মকর্তাদের দ্রুত একটি “ভারসাম্যপূর্ণ, পারস্পরিক লাভজনক ও বাণিজ্যিকভাবে অর্থবহ” চুক্তি চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেন।
- অন্তর্বর্তী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) নিয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি।
- মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে আসছেন।
- শুল্ক, বাজারে প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটার আশা জোরদার।
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা দ্রুত শেষ করার জন্য উভয় দেশের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। দুই নেতা এমন একটি চুক্তির পক্ষে মত দেন যা হবে ভারসাম্যপূর্ণ, উভয় দেশের জন্য লাভজনক এবং বাণিজ্যিকভাবে অর্থবহ।
ফ্রান্সের এভিয়াঁ শহরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন। বিশেষ গুরুত্ব পায় চলমান অন্তর্বর্তী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বা বিটিএ নিয়ে আলোচনা। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, আলোচনায় ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং সেই কারণেই দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার ব্যাপারে রাজনৈতিক স্তরে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত এক বছরে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কে একাধিক টানাপোড়েন দেখা গিয়েছিল। শুল্কনীতি, ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি এবং বিভিন্ন বাজার-সংক্রান্ত ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি স্বীকার করেছেন যে বাণিজ্য ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছিল, তবে শীর্ষ নেতৃত্ব সেই সমস্যা সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
এই প্রেক্ষাপটে মোদী-ট্রাম্প বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ উভয় দেশই দীর্ঘমেয়াদে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে চায়। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শুল্ক হ্রাস, কৃষি ও শিল্পপণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার, ডিজিটাল বাণিজ্য, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের নিরাপত্তা।
দুই নেতা ভারত-আমেরিকা কমপ্যাক্ট উদ্যোগের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেন। প্রতিরক্ষা, কৌশলগত প্রযুক্তি, জ্বালানি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রগুলিতে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
চুক্তির অগ্রগতি কতটা দ্রুত হবে, তার একটি ইঙ্গিত মিলেছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের আসন্ন ভারত সফর থেকে। তিনি আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে এসে বাণিজ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং চুক্তির কাঠামোকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি জুলাইয়ের মধ্যেই প্রথম পর্যায়ের চুক্তি সম্পন্ন হয়, তবে তা শুধু দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককেই নতুন গতি দেবে না, বরং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনও অনেকটাই প্রশমিত করবে। একই সঙ্গে এটি বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেবে।
সব মিলিয়ে, এভিয়াঁ বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হল—দীর্ঘ আলোচনার পর ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি এখন আর কেবল কূটনৈতিক আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং দ্রুত বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এখন নজর থাকবে আগামী কয়েক সপ্তাহের আলোচনার দিকে, যেখানে ঠিক হবে বিশ্বের দুই বৃহৎ গণতন্ত্রের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন রূপরেখা।