হাইলাইটস:

  • ২০১৮ সালে এক স্থানীয় বিজেপি নেতার উপর হামলার ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর দায়ের।
  • অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবার এলাকায় পরিকল্পিত আক্রমণের ঘটনায় তাঁর নাম যুক্ত করা হয়েছে।
  • ইতিমধ্যেই একাধিক মামলায় তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন অভিষেক।
  • বিরোধীদের দাবি, আইন তার নিজস্ব পথে এগোচ্ছে; তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।

বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকটের মাঝেই নতুন করে আইনি চাপে পড়লেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৮ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার এলাকায় এক স্থানীয় বিজেপি নেতার উপর হামলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ওই হামলা ছিল পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অভিযোগপত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও যুক্ত করা হয়েছে।

এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই একাধিক বিতর্ক ও তদন্তের মুখোমুখি। সম্প্রতি বিধানসভার স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় তাঁকে বারবার তলব করেছে রাজ্যের সিআইডি। তিনি নির্ধারিত সময়ে হাজিরা না দিয়ে অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন বলেও খবর।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ডায়মন্ড হারবারের কাপাঠাট মোড় এলাকায় স্থানীয় বিজেপি নেতা ববি নামে পরিচিত এক কর্মীর উপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন ছিল না; বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ সংগঠিত হয়েছিল। নতুন এফআইআরে সেই অভিযোগই পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।

বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বহু রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ প্রশাসনিক কারণে চাপা পড়ে ছিল। সরকার পরিবর্তনের পরে পুরনো অভিযোগগুলি নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের দাবি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই অতীতের ঘটনাগুলির তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যেই পুরনো মামলাগুলি পুনরায় খোলা হচ্ছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিজেপি সরকার প্রশাসনিক যন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করছে।

তবে রাজনৈতিক তরজা ছাড়িয়ে আইনি পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনও পুরনো অভিযোগ নতুন করে তদন্তের আওতায় আসা অস্বাভাবিক নয়, যদি অভিযোগকারী নতুন তথ্য বা সাক্ষ্যপ্রমাণ হাজির করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থা এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করতেই পারে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েক সপ্তাহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি চাপ ক্রমশ বেড়েছে। নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ করে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযোগ ছিল, ওই বক্তব্যে উসকানিমূলক এবং ভয় প্রদর্শনের উপাদান ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভাঙন এবং বিদ্রোহী শিবিরের উত্থান, অন্যদিকে ধারাবাহিক আইনি জটিলতা। ফলে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ২০১৮ সালের একটি পুরনো হামলার মামলা নতুন করে সামনে আসায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং অভিযোগের পক্ষে কতটা প্রমাণ উঠে আসে, তার উপরই নির্ভর করবে এই মামলার ভবিষ্যৎ। তবে এটা স্পষ্ট যে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক লড়াই এখন আর শুধু বিরোধীদের বিরুদ্ধে নয়; আদালত, তদন্ত এবং দলের অভ্যন্তরীণ সংকট—সব মিলিয়ে তাঁকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।