Home SportsFIFA 2026 টাইব্রেকারের মানসিক লড়াইয়ে মার্কিন প্রস্তুতি, ‘কে নেবে প্রথম পাঁচ শট, তা ঠিক করবেন কোচই’

টাইব্রেকারের মানসিক লড়াইয়ে মার্কিন প্রস্তুতি, ‘কে নেবে প্রথম পাঁচ শট, তা ঠিক করবেন কোচই’

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
13 views 4 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের টাইব্রেকারে বিদায়ের পর বাড়তি সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র।
  • পেনাল্টির জন্য ১৮ মাস ধরে বিশেষজ্ঞ সংস্থার সহায়তায় আলাদা প্রস্তুতি নিচ্ছেন মরিসিও পোচেত্তিনো।
  • খেলোয়াড়ের ইচ্ছার ওপর নয়, আগে থেকেই নির্ধারিত থাকবে প্রথম পাঁচ শট নেওয়ার ক্রম।
  • মস্তিষ্কের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ থেকে বলের গতিপথ—আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে মার্কিন দল।
  • বুধবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে শেষ ষোলোয় ওঠার লড়াইয়ের আগে অনুশীলনে নিয়মিত পেনাল্টি মহড়া।

ফুটবলে পেনাল্টি টাইব্রেকারের মতো বিতর্কিত বিষয় খুব কমই আছে। কেউ একে নিষ্ঠুর ভাগ্যের খেলা বলেন, কেউ আবার মনে করেন এটাই সর্বোচ্চ মানসিক পরীক্ষার মঞ্চ। তবে মতভেদ যাই থাকুক, এর নাটকীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। সোমবার বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের দুটি ম্যাচ সেই সত্যই আবার সামনে এনে দিল।

প্রথমে টাইব্রেকারে বিদায় নেয় জার্মানি। কাই হাভার্টজ, নিক ভোল্টেমাডে ও যোনাথন তাহ পেনাল্টি নষ্ট করায় অপ্রত্যাশিতভাবে জয় পায় প্যারাগুয়ে। এরপর একই পরিণতি হয় নেদারল্যান্ডসের। টাইব্রেকারে মরক্কোর কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় ডাচরা।

এই দুই অঘটনের পর বুধবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্র শিবিরে পেনাল্টি প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। দলের প্রধান কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো জানিয়েছেন, টাইব্রেকারের জন্য তাঁরা অনেক আগে থেকেই সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

জার্মান সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে লেওন গোরেৎসকা, ভাল্ডেমার আন্তন, নাথানিয়েল ব্রাউন ও মালিক থিয়াও নাকি পেনাল্টি নিতে অস্বীকার করেছিলেন। ফলে এমন একজন যোনাথন তাহকে শট নিতে হয়, যিনি পেশাদার ফুটবলে আগে কখনও পেনাল্টি নেননি। তাঁর শট ব্যর্থ হওয়াতেই বিদায় নিশ্চিত হয় জার্মানির।

এই ঘটনায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমানের প্রস্তুতি নিয়ে। সমালোচকদের মতে, আগে থেকেই নির্দিষ্ট শট নেওয়ার তালিকা না থাকা বড় ভুল।

পোচেত্তিনোর পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা।

সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “এ নিয়ে খুব বেশি বলতে চাই না। তবে আমরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছি। কোচিং স্টাফ হিসেবে আমরা খেলোয়াড়দের এমন কিছু উপায় দিতে চাই, যাতে তারা এই পরিস্থিতিতে আরও ভালোভাবে নিজেদের সামলাতে পারে। অবশ্য ম্যাচের চাপ ও মানসিক উত্তেজনা অনুশীলনে পুরোপুরি তৈরি করা সম্ভব নয়।”

এরপর আরও স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম পেনাল্টি কে নেবে, সেই সিদ্ধান্ত কোচিং স্টাফই নেবে। সেই মুহূর্তে গিয়ে আমরা কোনও খেলোয়াড়কে জিজ্ঞেস করব না, সে আত্মবিশ্বাসী কি না।”

প্রায় দেড় বছর আগে পোচেত্তিনো তাঁর সহকারী ও বিশ্লেষকদের নিয়ে একটি বিশেষ কর্মীদল গঠন করেন। লক্ষ্য ছিল স্থির বলের পরিস্থিতি এবং পেনাল্টিতে দলের সাফল্য বাড়ানো। এ জন্য তারা দুটি বিশেষ সংস্থার সাহায্য নিচ্ছে— নিউরো১১ এবং ট্র্যাকম্যান।নিউরো১১ খেলোয়াড়ের মস্তিষ্কের তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে। পেনাল্টি নেওয়ার সময় বিশেষ ধরনের হেলমেট পরিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মানসিক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর আগে এই সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছিল লিভারপুলও।অন্যদিকে ট্র্যাকম্যান রাডার ও উন্নত সেন্সরের সাহায্যে বলের গতি, ঘূর্ণন ও গতিপথ বিশ্লেষণ করে। মার্কিন মিডফিল্ডার সেবাস্টিয়ান বারহাল্টার জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তির সাহায্যেই তাঁর স্থির বল নেওয়ার দক্ষতা অনেক বেড়েছে বিশ্বকাপে এখন নিয়মিত অনুশীলনের অংশ হয়ে উঠেছে পেনাল্টি মহড়া। সোমবারের দুটি টাইব্রেকারও গোটা দল একসঙ্গে বসে দেখেছে।বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনও টাইব্রেকারে অংশ নেয়নি। বড় মঞ্চে পেনাল্টি সংক্রান্ত স্মরণীয় মুহূর্ত বলতে ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে গোলরক্ষক ব্র্যাড ফ্রিডেলের পেনাল্টি রক্ষা করাকেই মনে করা হয়।

দলের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ বলেন, “পেনাল্টি নিতে এগিয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন কাজ। এর জন্য অনেক সাহস লাগে। গোলরক্ষকেরাও প্রতি বছর আরও উন্নত হচ্ছে। যারা সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী, তারাই শট নিতে চাইবে। কেউ যদি খুব বেশি অনুশীলন না করে থাকে বা স্বচ্ছন্দ না থাকে, তাতেও সমস্যা দেখি না। আমাদের দল সাহসী, প্রয়োজন হলে সবাই দায়িত্ব নেবে।”পেনাল্টি নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন নির্ভরযোগ্য ফুটবলার রয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে সাতটি পেনাল্টির সবকটিতেই সফল পুলিসিচ। ক্লাব ফুটবলেও তাঁর রেকর্ড দুর্দান্ত। একইভাবে রিকার্ডো পেপি, হাজি রাইট ও ফোলারিন বালোগুনও নিয়মিত সফল পেনাল্টি গ্রহণকারী।

তবে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন।হাসতে হাসতে ক্রিস রিচার্ডস বলেন, “আমি তো ডিফেন্ডার হয়েছি একটা কারণেই! সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির কথা ভাবতে চাই না। তবে অনুশীলনে আমরা সবকিছুর জন্যই প্রস্তুতি নিই—অতিরিক্ত সময় হোক বা টাইব্রেকার। কোনও দিকই অপ্রস্তুত রাখতে চাই না।”সোমবারের দুটি টাইব্রেকারে ছোট দৌড়, থেমে যাওয়া, ধীরগতির রান-আপসহ নানা ধরনের অভিনব কৌশল দেখা গেছে। কিন্তু মার্কিন ফুটবলারদের মতে, এত অল্প সময়ে নিজের পদ্ধতি বদলানোর কোনও মানে হয় না।পুলিসিচ বলেন, “প্রত্যেকের নিজস্ব ধরন আছে। একটা ম্যাচ দেখে হঠাৎ নিজের কৌশল বদলে ফেলা ঠিক হবে না। এটা খেলারই অংশ।”রিচার্ডসের রসিক মন্তব্য, “আমার মধ্যে খুব বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল নেই। তাই আমি শুধু একটা কোণা বেছে নিই, তারপর জোরে শট মারি।”

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles