পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুই বিজেপি কর্মীর নামও রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই দুই ব্যক্তি রথের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে কাজ করলেও একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতেন।
গত ৬ মে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাত্র দু’দিন পর এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। প্রথমে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) তদন্ত শুরু করলেও পরে রাজ্য সরকারের অনুরোধে মামলার দায়িত্ব সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তদন্তের জন্য সিবিআই একটি সাত সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করে।
সিবিআইয়ের চার্জশিটে মোট ১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল সুপরিকল্পিত। দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চলেছিল এবং এর জন্য অর্থের লেনদেনও হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে সিবিআই আদালতে জানিয়েছে।
তদন্ত চলাকালীন উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। উত্তরপ্রদেশ থেকে মূল অভিযুক্ত রাজ কুমার সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বারাণসী, গাজীপুর এবং বলিয়া থেকেও আরও কয়েকজনকে ধরা হয়। তদন্তে পেশাদার ভাড়াটে খুনিদের ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত দুই বিজেপি কর্মী সম্পর্কে সিবিআই জানিয়েছে যে তাঁরা রথের দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত সিবিআই প্রকাশ্যে কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেনি।
এখন চার্জশিট গ্রহণের পর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। সিবিআই জানিয়েছে, তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি এবং প্রয়োজনে পরিপূরক চার্জশিটও দাখিল করা হতে পারে। তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে অন্য কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।