হাইলাইটস:

  • শনিবার ভোররাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতার বাসভবনে পৌঁছয় শালবনি থানার পুলিশ।
  • পুলিশ সূত্রে দাবি, অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়কে খুঁজতেই এই অভিযান।
  • একাধিক প্রতিবেদনে দাবি, বাড়ির গেটের তালা ভেঙে পুলিশ ভিতরে প্রবেশ করে।
  • খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • তৃণমূলের অভিযোগ, বিরোধী নেতৃত্বকে চাপে রাখতেই এই পদক্ষেপ; প্রশাসনের বক্তব্য, তদন্তের স্বার্থেই অভিযান।

বাংলাস্ফিয়ার: শনিবারের কলকাতার রাজনৈতিক সকাল শুরু হয়েছে এক নাটকীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে। কাকভোরে, যখন শহরের অধিকাংশ মানুষ এখনও ঘুমিয়ে, তখনই শালবনি থানার একটি পুলিশ দল কলকাতার কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে হাজির হয়। সঙ্গে ছিল বিপুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গেট না খোলায় পুলিশ তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালায়।

পুলিশের লক্ষ্য ছিলেন সুমিত রায়। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বা সহকারী হিসেবে পরিচিত। শালবনি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার সূত্র ধরেই তাঁকে খোঁজা হচ্ছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বেড়ে যায় যখন খবর পেয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত সেখানে পৌঁছে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর আগমনের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমতে শুরু করে। পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও দলীয় কর্মীদের উপস্থিতিতে গোটা এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যায়।

এই অভিযান এমন এক সময়ে হল, যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই একাধিক তদন্তের মুখোমুখি। সিআইডি তাঁকে সম্প্রতি দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং নতুন করে তলবও করেছে বলে জানা গিয়েছে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরে তথাকথিত স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলাও এখন তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে।

ফলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, সুমিত রায়কে খোঁজার অভিযান কি শুধুই একটি ফৌজদারি তদন্তের অংশ, নাকি এর পিছনে আরও বড় রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে? বিশেষত, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে তৃণমূলের একাধিক নেতা, সাংসদ ও বিধায়কের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং দল ভাঙনের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে আলাদা করে দেখা যাচ্ছে না।

তৃণমূলের বক্তব্য, প্রশাসনিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করে বিরোধী নেতৃত্বকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে। দলের নেতারা এটিকে “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা”র ধারাবাহিকতা বলে আখ্যা দিচ্ছেন। অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান, তদন্তের প্রয়োজনেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং আইনের চোখে কেউ বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন না।

রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন। এতে স্পষ্ট বার্তা রয়েছে—অভিষেককে ঘিরে যে কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপকে তিনি শুধুমাত্র আইনি বিষয় হিসেবে দেখছেন না; বরং সেটিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করছেন।

বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূল একের পর এক ধাক্কার মুখে। বিধায়ক ভাঙন, সাংগঠনিক সংকট, তদন্ত এবং আইনি লড়াইয়ের মধ্যে শনিবারের এই অভিযান নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি করল। আগামী কয়েক দিনে সুমিত রায়কে ঘিরে তদন্ত কোন দিকে যায়, অভিষেককে আরও কী প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে কীভাবে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেন—সেদিকেই এখন নজর থাকবে বাংলার রাজনীতির।