Table of Contents
বাংলাস্ফিয়ার: তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে একটি আইনি “সিজ অ্যান্ড ডেসিস্ট নোটিশ” পাঠিয়েছেন। নোটিশের শিরোনাম — “মিথ্যা, মানহানিকর ও অযাচিত মন্তব্য সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা”। দলের মধ্যে দানা বাঁধতে থাকা বিবাদ এবার প্রকাশ্য আইনি সংঘাতের রূপ নিল।
যাঁদের বিরুদ্ধে নোটিশ
নোটিশে সাংসদ মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায় এবং প্রাক্তন বিধায়িকা সোনালি গুহর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ডিএনএ-র রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁরা জনসমক্ষে দাবি করেছিলেন যে বৈদ্যনাথ বারাসাত বিধানসভা আসনে তৃণমূলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। বৈদ্যনাথ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, তিনি কখনও দলীয় টিকিট চাননি এবং এই ধরনের মন্তব্য “১০০% মিথ্যা”।
পরিবারকে টেনে আনার বিরোধিতা
বৈদ্যনাথ আরও আপত্তি তুলেছেন প্রকাশ্যে তাঁর পরিবারকে নিয়ে মন্তব্য করা নিয়ে। তাঁর মতে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, দলের মধ্যে মতভেদ “রাজনৈতিকভাবে মেটানো উচিত — ব্যক্তিগত মানুষ বা পরিবারকে টেনে এনে নয়।”
পেশাদার সুনামে আঘাতের অভিযোগ
নোটিশে বৈদ্যনাথের চিকিৎসাগত যোগ্যতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং লন্ডনের এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই মনোরোগ বিশেষজ্ঞের দাবি, বারবার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য তাঁর পেশাদার সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতায় মারাত্মক ক্ষতি করেছে।
আইপ্যাক-যোগাযোগের অভিযোগও খারিজ
নোটিশে আরও উল্লেখ রয়েছে, আইপ্যাক-সংযুক্ত ব্যক্তিরা এবং দল-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা নাকি বৈদ্যনাথকে নির্বাচনী রাজনীতিতে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছিলেন। বৈদ্যনাথ বারাসাত থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য কোনো প্রস্তাব পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।
১৫ দিনের সময়সীমা, না মানলে মামলা
নোটিশে নামোল্লিখিত নেতাদের ১৫ দিনের মধ্যে তাদের মন্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। ওই ক্ষমাপ্রার্থনায় স্পষ্টভাবে স্বীকার করতে হবে যে বৈদ্যনাথ কখনও বারাসাত আসনের মনোনয়ন চাননি এবং তাঁর ব্যক্তিগত চরিত্র বা আচরণ সম্পর্কে করা মন্তব্যগুলি ভুল। সময়সীমার মধ্যে সাড়া না দিলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা রুজু করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মমতার উপহার ফেরত
আইনি নোটিশের পাশাপাশি বৈদ্যনাথ আরও একটি সাংকেতিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে তিনি জানান, বিয়ের সময় তাঁর স্ত্রীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া সোনার হার এবং দুর্গাপুজোয় তাঁকে দেওয়া কুর্তা-পাজামা তিনি ফেরত দিচ্ছেন। তিনি লেখেন, উপহারগুলির জন্য কৃতজ্ঞ থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং বিবেকের তাগিদে এটিই তাঁর কাছে সঠিক সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক বিরোধ যে এখন ব্যক্তিগত স্তরেও পৌঁছে গিয়েছে, এই পদক্ষেপ তারই ইঙ্গিত।
তৃণমূলের নীরবতা
এখন পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা নোটিশে উল্লিখিত অন্য কোনো নেতা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। এই ঘটনা তৃণমূলের অন্দরমহলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে এবং দলীয় কোন্দলকে জনপরিসর ও আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। আগামী কয়েক দিনে সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রতিক্রিয়া এবং নোটিশের পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।