Home খবর ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা মান্যতা বহাল, অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশে না কলকাতা হাইকোর্ট

ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা মান্যতা বহাল, অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশে না কলকাতা হাইকোর্ট

টিএমসির আবেদন খারিজ, বিধানসভায় বিরোধী শিবিরের লড়াইয়ে নতুন মোড়

Authored By Diptyajit Roy Chowdhury
5 views 2 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করল কলকাতা হাইকোর্ট।
  • টিএমসির পক্ষ থেকে স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপর অবিলম্বে রাশ টানার আবেদন জানানো হয়েছিল।
  • আদালত জানিয়ে দিল, চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান অবস্থাই বহাল থাকবে।
  • বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে টিএমসি ও বিদ্রোহী শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত।
  • বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব পড়তে পারে এই সিদ্ধান্তের।

কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত বিরোধী দলনেতা বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা (লিডার অব অপোজিশন) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আবেদন আদালত খারিজ করে দিয়েছে। ফলে আপাতত বিধানসভার স্পিকারের দেওয়া স্বীকৃতি বহাল থাকছে।

এই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিধানসভার বিরোধী শিবিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টিএমসি ও দলছুট বিধায়কদের সংঘাত। তৃণমূলের দাবি ছিল, দলীয় সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক সুপারিশ উপেক্ষা করে স্পিকার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় দল।

শুনানিতে টিএমসির আইনজীবীরা যুক্তি দেন, কোনও রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বের প্রস্তাব উপেক্ষা করে স্পিকার একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাঁদের বক্তব্য, বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দলের সাংগঠনিক অবস্থান এবং বৈধ নেতৃত্বকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।

অন্যদিকে স্পিকারপক্ষ ও বিদ্রোহী বিধায়কদের প্রতিনিধিরা আদালতে জানান, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিরোধী বিধায়কদের সমর্থন যাঁর পক্ষে রয়েছে, তাঁকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অধিকার স্পিকারের রয়েছে। তাঁরা দাবি করেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিধায়কের সমর্থন ছিল এবং সেই কারণেই তাঁকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি শুনানির সময় স্পিকারের সাংবিধানিক ক্ষমতা ও বিধানসভার অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালীর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন। আদালত স্পষ্ট করে দেয়, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে অন্তর্বর্তী পর্যায়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার মতো পরিস্থিতি এই মুহূর্তে তৈরি হয়নি।

ফলে আদালতের এই অবস্থানের অর্থ হল, মামলার চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত বিরোধী দলনেতার মর্যাদা ও অধিকার ভোগ করতে পারবেন। বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন তাঁর ভূমিকা, বক্তব্য এবং প্রশাসনিক সুবিধাগুলিও বহাল থাকবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত টিএমসির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ধাক্কা। কারণ দলটি আদালতের মাধ্যমে অন্তত সাময়িকভাবে স্পিকারের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ চেয়েছিল। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় বিদ্রোহী শিবিরের অবস্থান আপাতত আরও শক্তিশালী হল।

অন্যদিকে ঋতব্রত শিবির এই সিদ্ধান্তকে গণতান্ত্রিক স্বীকৃতির জয় বলে ব্যাখ্যা করেছে। তাঁদের দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের সমর্থনের ভিত্তিতেই বিরোধী দলনেতা নির্বাচন হয়েছে এবং আদালতের অবস্থান সেই বাস্তবতাকেই প্রতিফলিত করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি পদকে ঘিরে নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী শক্তির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ের দিকনির্দেশও নির্ধারণ করতে পারে। সামনে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী কৌশল— সব ক্ষেত্রেই বিরোধী দলনেতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এখন নজর থাকবে মামলার চূড়ান্ত শুনানির দিকে। আদালত শেষ পর্যন্ত স্পিকারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে নাকি টিএমসির যুক্তিকে মান্যতা দেয়, তার উপর নির্ভর করবে বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ। তবে আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট বার্তা— বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতিতে অবিলম্বে কোনও বাধা নেই, এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংঘাতের এই অধ্যায় আরও কিছুদিন আদালত ও বিধানসভা— দুই মঞ্চেই সমান্তরালভাবে চলবে।

 

 

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles