Home International এপস্টাইনের হয়ে নারী সংগ্রহের অভিযোগে অভিযুক্ত মডেল স্কাউট ড্যানিয়েল সিয়াদ প্যারিসের কাছে নিজ বাড়িতে মৃত

এপস্টাইনের হয়ে নারী সংগ্রহের অভিযোগে অভিযুক্ত মডেল স্কাউট ড্যানিয়েল সিয়াদ প্যারিসের কাছে নিজ বাড়িতে মৃত

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
15 views 3 minutes read
A+A-
Reset

ফ্রান্সের প্যারিসের উপকণ্ঠে নিজের বাড়িতে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হলেন জেফ্রি এপস্টাইনের হয়ে তরুণী সংগ্রহের অভিযোগে অভিযুক্ত মডেল স্কাউট ড্যানিয়েল সিয়াদ (৬৯)। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত করা হবে।

মানবপাচার-সংক্রান্ত মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলিদের তদন্তের আওতায় ছিলেন সিয়াদ। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মানবপাচার-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন বিচার দফতর (DoJ) প্রকাশিত এপস্টাইন-সংক্রান্ত নথিতে তাঁর নাম এক হাজারেরও বেশি নথিতে উঠে আসে।

অভিযোগ, সিয়াদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরে মডেল খোঁজার আড়ালে এমন তরুণীদের খুঁজে বের করতেন, যাঁদের সঙ্গে এপস্টাইনের পরিচয় করিয়ে দেওয়া যেতে পারে। পূর্ব ইউরোপের ছোট ছোট গ্রাম থেকে শুরু করে কিউবা, সুইডেন—বিভিন্ন জায়গায় তিনি সম্ভাব্য মডেলদের খুঁজতেন। ২০১৪ সালে এপস্টাইনকে লেখা এক ই-মেলে তিনি নিজের কাজকে মাছ ধরার সঙ্গে তুলনা করে লিখেছিলেন, “কখনও দ্রুত মাছ ধরা পড়ে, কখনও একটাও নয়।”

তদন্তে প্রকাশ, এপস্টাইনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ যোগাযোগকারী ছিলেন সিয়াদ। এপস্টাইনের মৃত্যুর কয়েক মাস আগেও তাঁদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সম্ভাব্য নারী খোঁজার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সফরের খরচ বাবদ তিনি অর্থও পেতেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

মডেলিং জগতে তাঁর যথেষ্ট যোগাযোগ ছিল। দীর্ঘদিন তিনি ফরাসি মডেল এজেন্ট জ্যঁ-লুক ব্রুনেলের হয়ে কমিশনভিত্তিক স্কাউট হিসেবে কাজ করেন। ব্রুনেলের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। বিচার শুরুর আগেই ২০২২ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করেন তিনি। অন্যদিকে, এপস্টাইনও ২০১৯ সালে যৌনপাচারের মামলার বিচার চলাকালীন জেলে আত্মহত্যা করেছিলেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দ্য গার্ডিয়ান-কে পাঠানো এক বিবৃতিতে সিয়াদ দাবি করেছিলেন, তিনি কেবল বৈধ মডেল কাস্টিংয়ের জন্যই তরুণীদের এপস্টাইনের কাছে নিয়ে যেতেন। তাঁর কথায়, “প্যারিসে এপস্টাইনের একটি বড় অ্যাপার্টমেন্ট ছিল, সেখানে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট ও এমসি-টু সংস্থার জন্য কাস্টিং হতো। কাস্টিং দশ মিনিটের বেশি চলত না। আমি সবসময় মডেলদের নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতাম।”

কিন্তু এ বছরই সুইডেনের প্রাক্তন মডেল এবা কার্লসন তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। কার্লসনের দাবি, ১৯৯০ সালে স্টকহোমে তাঁকে মডেল হিসেবে নির্বাচন করার পর ফ্রান্সে নিয়ে গিয়ে সিয়াদ তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে এপস্টাইন-সংক্রান্ত নথিতে সিয়াদের ছবি দেখে তিনি তাঁকে শনাক্ত করেন এবং ফ্রান্সে ধর্ষণ ও মানবপাচারের অভিযোগ দায়ের করেন। সিয়াদের আইনজীবী সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

সিয়াদের মৃত্যুর খবর পেয়ে কার্লসন সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে বলেন, “এটা ভীষণ হতাশাজনক। আমরা এত পরিশ্রম করেছি, ন্যায়বিচারের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার মুখে ছিলেন।”

প্রকাশিত ই-মেল থেকে জানা যায়, সিয়াদ নিয়মিত এপস্টাইনকে সম্ভাব্য তরুণীদের সম্পর্কে তথ্য পাঠাতেন। ২০০৯ সালে তিনি লিখেছিলেন, “স্লোভাকিয়াই এখন সবচেয়ে ভালো জায়গা। এখানে আমার ৪৫ জনের সঙ্গে দেখা করার কথা।” আরেকটি ই-মেলে তিনি জানান, গ্রীষ্মকাল তিনি স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরির ছোট ছোট গ্রামে ঘুরে কাটাবেন। ২০১৬ সালেও তিনি এপস্টাইনকে লিখেছিলেন, “আমি বার্সেলোনায় আছি। অসাধারণ সুন্দরী কয়েকজন রয়েছে।”

এপস্টাইনের ই-মেলগুলিও ছিল সংক্ষিপ্ত—“নতুন মেয়ে?”, “কোনও খবর?”, “প্যারিসে যাওয়ার মতো কেউ আছে?”, “আকর্ষণীয় কোনও নারী?” অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের নামের বদলে তাঁদের জাতীয়তা উল্লেখ করা হতো। একবার সিয়াদ লিখেছিলেন, “বয়স ২৬, কিন্তু দেখতে ১৮ বছরের মতো।”

ফরাসি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিয়াদ দাবি করেছিলেন, এপস্টাইন তাঁর বিশ্বাসের অপব্যবহার করেছেন এবং তিনি জানতেন না যে ওই ব্যক্তি এতটা বিপজ্জনক। তাঁর বক্তব্য ছিল, “পরে জানতে পেরেছি তিনি ভয়ঙ্কর অপরাধ করেছেন। সৌভাগ্যবশত, আমি এমন কোনও অপ্রাপ্তবয়স্ক বা প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে তাঁর সঙ্গে পরিচয় করাইনি, যিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আমার নিজের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকার কথা নয়।”

মার্কিন বিচার দফতরের নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালেই এফবিআই সিয়াদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য পেয়েছিল। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফরাসি প্রসিকিউটররা এপস্টাইন-সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখিত ফরাসি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ বিচারক দল গঠন করেন। সেই তালিকায় ড্যানিয়েল সিয়াদ ও জ্যঁ-লুক ব্রুনেলের নামও ছিল।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles