রানের বিরুদ্ধে আমেরিকার যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বর্তমান অচলাবস্থা বজায় থাকলে সংঘাত আরও অন্তত ছ’মাস চলতে পারে—এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রতিরক্ষাসচিব এবং সিআইএ-র প্রাক্তন অধিকর্তা লিয়ন প্যানেটা। তাঁর সতর্কবার্তা, ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো ইরানও আমেরিকার আর একটি অন্তহীন যুদ্ধে পরিণত হতে পারে।

বারাক ওবামা প্রশাসনে প্রতিরক্ষাসচিবের দায়িত্ব পালন করা প্যানেটা বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান এখন এমন এক ভয়াবহ অচলাবস্থায় আটকে রয়েছে, যেখান থেকে বেরোনোর সহজ কোনও পথ নেই। কোনও পক্ষই আত্মসমর্পণ বা অর্থবহ আলোচনায় রাজি নয়। আবার সংঘাতের মাত্রা বাড়ালে গোটা পশ্চিম এশিয়া আরও বড় যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আগামী ছ’মাসেও যুদ্ধের নিষ্পত্তি হবে বলে তিনি মনে করেন না।

প্যানেটার মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সিদ্ধান্তেই কার্যত নিজেকে কোণঠাসা করেছেন। তাঁর সামনে এখন তিনটি পথ রয়েছে। প্রথমত, আমেরিকা যুদ্ধ থেকে সরে এসে অভিযান ব্যর্থ হয়েছে বলে মেনে নিতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক চরিত্র এবং বিজয়ী ভাবমূর্তির প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ বিবেচনায় তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেবেন বলে প্যানেটা মনে করেন না।

দ্বিতীয় পথ হল বর্তমান অচলাবস্থা চালিয়ে যাওয়া। সে ক্ষেত্রে আমেরিকা ও ইরান পরস্পরের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে হামলা চালাবে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ কিংবা আলোচনার পথে যাবে না। প্যানেটার আশঙ্কা, এই ‘আঘাতের বদলে আঘাত’ নীতিই সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলবে।

তৃতীয় এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথ হল হরমুজ প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে যায়। সেটি বন্ধ বা ব্যাহত করার ক্ষমতাই আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত অস্ত্র। প্যানেটার বক্তব্য, ট্রাম্প যদি সত্যিই যুদ্ধ জিততে চান, তবে প্রণালীটি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়াকে প্রধান লক্ষ্য করতে হবে। কিন্তু তার জন্য বৃহত্তর নৌ-অভিযান প্রয়োজন হতে পারে, যার ফলে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর আগে বিশেষজ্ঞেরাও বলেছিলেন, সামরিক অভিযান বাড়ালে আমেরিকা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে যেতে পারে।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন প্রাক্তন প্রতিরক্ষাসচিব। সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকলের আকস্মিক পদত্যাগ এবং প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথের সঙ্গে শীর্ষ কর্তাদের মতবিরোধ আমেরিকার প্রতিপক্ষদের কাছে দুর্বলতার বার্তা পাঠাচ্ছে বলে তাঁর দাবি। যদিও পেন্টাগন এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

ট্রাম্প বারবার যুদ্ধের দ্রুত অবসান এবং হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ার দাবি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি তার সঙ্গে মিলছে না। প্যানেটার মতে, এর ফলে প্রেসিডেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনমতেও অসন্তোষ বাড়ছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনেও এই সংঘাত ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।