উৎসবের আনন্দে শব্দদানব নয়, ‘ডিজে-মুক্ত’ মহারাষ্ট্রের দাবি মন্ত্রীদের

যা জানা জরুরি
- মুম্বই: উৎসবের আনন্দ যেন কারও অসুস্থতা কিংবা মৃত্যুর কারণ না হয়ে ওঠে—এই যুক্তিতে মহারাষ্ট্রে গণেশোৎসব-সহ সমস্ত ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানকে ‘ডিজে-মুক্ত’ করার দাবি ক্রমশ…
- রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন শব্দযন্ত্রের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।
- তাঁদের বক্তব্য, উৎসব পালন অবশ্যই হবে, তবে তা মানুষের শ্রবণশক্তি, হৃদ্যন্ত্র এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে নয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
মুম্বই: উৎসবের আনন্দ যেন কারও অসুস্থতা কিংবা মৃত্যুর কারণ না হয়ে ওঠে—এই যুক্তিতে মহারাষ্ট্রে গণেশোৎসব-সহ সমস্ত ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানকে ‘ডিজে-মুক্ত’ করার দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন শব্দযন্ত্রের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, উৎসব পালন অবশ্যই হবে, তবে তা মানুষের শ্রবণশক্তি, হৃদ্যন্ত্র এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে নয়।
এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন পুণের সমাজকর্মী বিদ্যানন্দ বাপট। পুণে পুরসভা ও পুলিশের ডাকা গণেশোৎসব প্রস্তুতি বৈঠকে তিনি প্রথম প্রকাশ্যে ডিজে এবং মাত্রাতিরিক্ত শব্দসৃষ্টিকারী যন্ত্র নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন। তাঁর বক্তব্য, নির্ধারিত শব্দমাত্রা মেনে বিপুল ক্ষমতাসম্পন্ন ডিজে বাজানো কার্যত অসম্ভব। তাই জনবসতির মধ্যে তার ব্যবহার বন্ধ করে বদ্ধ ও শব্দনিরোধক প্রেক্ষাগৃহে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
বাপট স্পষ্ট করেছেন, তাঁর আপত্তি কোনও ধর্মীয় উৎসবের বিরুদ্ধে নয়। ধর্ম, জাতি কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সব ধরনের শোভাযাত্রা, জন্মজয়ন্তী ও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া দরকার। কিন্তু এই অবস্থানের জন্য তাঁকে হেনস্থা হতে হয়েছে। একটি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় তাঁর উপর হামলাও হয়। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং বাপটকে নিরাপত্তা দেয়। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসও হামলার নিন্দা করেছেন।
বিতর্কের মধ্যেই পুণের কয়েকশো বাসিন্দা পথে নেমে ডিজে ও কানে তালা ধরানো শব্দযন্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। প্রবীণ, অসুস্থ মানুষ এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের সদস্যেরা মিছিলে অংশ নেন। তাঁদের অভিযোগ, আইন থাকলেও পুলিশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ তা ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করে না। আন্দোলনকারীরা প্রতিদিনের শব্দমাত্রা প্রকাশ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নাম ও যোগাযোগের নম্বর জানানো এবং শব্দদূষণে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও দাবি করেছেন।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় উচ্চমাত্রার শব্দের মধ্যে থাকলে শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে। পাশাপাশি রক্তচাপ বৃদ্ধি, হৃদ্স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা, অনিদ্রা, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ দেখা দিতে পারে। শিশু, প্রবীণ, অন্তঃসত্ত্বা এবং হৃদ্রোগীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। আচমকা তীব্র শব্দ হৃদ্রোগীর ক্ষেত্রে মারাত্মক বিপদও ডেকে আনতে পারে।
মহারাষ্ট্রের সোলাপুর ইতিমধ্যেই প্রশাসন, পুলিশ ও নাগরিকদের সহযোগিতায় ‘ডিজে-মুক্ত শহর’-এর নজির গড়েছে। সেখানে বৈদ্যুতিন শব্দের বদলে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের পরিবেশমন্ত্রী পঙ্কজা মুন্ডে এই মডেলের প্রশংসা করলেও জানিয়েছেন, কেবল সরকারি নিষেধাজ্ঞায় স্থায়ী পরিবর্তন আনা কঠিন; সামাজিক সম্মতি ও জনসচেতনতা প্রয়োজন। রাত দশটার পরে কিংবা অনুমোদিত মাত্রার বেশি শব্দ বাজানো অবশ্যই বেআইনি।
মুখ্যমন্ত্রী ফডণবীসও আইন চাপিয়ে দেওয়ার বদলে উৎসব কমিটি ও নাগরিকদের আলোচনার মাধ্যমে পথ খোঁজার পক্ষে। তবে জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নে প্রশাসনের এই সতর্ক অবস্থান যথেষ্ট কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নাগরিক আন্দোলনের দাবি পরিষ্কার—উৎসবের অধিকার যেমন আছে, তেমনই শান্তিতে ও সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকারও সকলের।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



