নয়াদিল্লিতে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা নিট-ইউজি ২০২৬ আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ করে আন্দোলনের সময় কিছু বিক্ষোভকারীর ব্যবহৃত অশালীন ভাষার সমালোচনা করলেও, আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগের প্রসঙ্গে নীরব থাকায় সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় ভূমি বলেন, দেশের তরুণদের ক্ষোভ প্রকাশের অধিকার রয়েছে, কিন্তু সেই ক্ষোভ প্রকাশের ভাষা যেন শালীন হয়। তাঁর কথায়, “যে ধরনের ভিডিও এখন সামনে আসছে, তাতে যে ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নয়। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিকে নিয়ে এভাবে কথা বলা উচিত নয়।”
তিনি আরও বলেন, মতভেদ থাকতেই পারে, প্রতিবাদও গণতন্ত্রের অংশ। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অশালীন ভাষা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্মের আচরণ দেশের মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির প্রতিফলন হওয়া উচিত।
কিন্তু অভিনেত্রীর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। বহু নেটাগরিকের অভিযোগ, ভূমি শুধুমাত্র আন্দোলনকারীদের ভাষা নিয়ে মন্তব্য করেছেন, অথচ ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির সময় পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, পেলেট নিক্ষেপ এবং ছাত্রছাত্রীদের আহত হওয়ার ঘটনায় একটি কথাও বলেননি।
সমালোচকদের একাংশের দাবি, শুধুমাত্র প্রতিবাদকারীদের ভাষাকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করা ঘটনাটির একপাক্ষিক মূল্যায়ন। তাঁদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় যদি রাষ্ট্রের তরফে বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে, তবে সেই বিষয়েও সমানভাবে কথা বলা উচিত ছিল।
আবার অন্য একটি অংশ ভূমির বক্তব্যকে সমর্থন করেছে। তাদের মতে, রাজনৈতিক মতভেদ বা আন্দোলনের আবহ যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত কটূক্তি বা অশালীন ভাষা কখনওই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রতিবাদের ভাষা সংযত ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়াই উচিত।
ফলে ভূমি পেডনেকরের এই মন্তব্য নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। একদিকে শালীন ভাষার পক্ষে তাঁর অবস্থান, অন্যদিকে আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নীরবতা— এই দুইয়ের সংঘাতই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।