International

শত বছর, তারপর?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • জাপানে একশো বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লক্ষ পেরিয়ে গেল।
  • স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রকের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হিসাবে, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে শতায়ুর সংখ্যা ১,০৭,৬৭৭।
  • ১৯৬৩ সালে এই হিসাব শুরু হওয়ার সময় সংখ্যাটি ছিল মাত্র ১৫৩।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

জাপানে একশো বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লক্ষ পেরিয়ে গেল। স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রকের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হিসাবে, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে শতায়ুর সংখ্যা ১,০৭,৬৭৭। এক বছরেই বেড়েছে ৭,৯১৪ জন। ১৯৬৩ সালে এই হিসাব শুরু হওয়ার সময় সংখ্যাটি ছিল মাত্র ১৫৩।

তালিকায় নারীদের আধিপত্য স্পষ্ট—প্রায় ৮৮ শতাংশই মহিলা। জাপানের প্রবীণতম স্বীকৃত নারী কিয়োটোর ফুয়ো কিশিমোতো, বয়স ১১৪। প্রবীণতম পুরুষ কুমামোতোর হিকারু কাতো, ১১২। চলতি অর্থবছরে একশো বছরে পা দেবেন এমন ৫৪,২৯৪ জনকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দনপত্র এবং রুপোর সাকে-পাত্র দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছে সরকার। ১৫ সেপ্টেম্বর ‘প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা দিবস’ ঘিরেই প্রকাশ করা হয় এই পরিসংখ্যান।

কিন্তু এক লক্ষের এই সংখ্যা শুধু দীর্ঘ জীবনের উৎসবের গল্প নয়। এর পিছনে আছে কয়েক দশকের জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসাব্যবস্থা, পুষ্টি, নিরাপদ প্রসব, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমার সম্মিলিত প্রভাব। কোনও একটি খাবার, ব্যায়াম বা ‘জাপানি দীর্ঘায়ুর রহস্য’ দিয়ে এই সাফল্য ব্যাখ্যা করা যায় না। আজকের শতায়ুরা যে সময়ে বড় হয়েছেন, সেই সময়ে দেশটি যুদ্ধ, খাদ্যাভাব, শিল্পায়ন এবং দ্রুত নগরায়ণের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তাঁদের সবার জীবনযাপনও এক ছিল না।

আসল অঙ্ক শুরু হচ্ছে এখানেই।

জাপানে এখন প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের বয়স ৬৫ বা তার বেশি। ২০২৫ সালে দেশের মোট প্রজননহার নেমে এসেছে ১.১৪-তে—জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার প্রয়োজনীয় মাত্রার অনেক নিচে। সরকারি অনুমান বলছে, ২০৭০ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ৭০ লক্ষে নেমে যেতে পারে। তখন প্রতি দশজনের মধ্যে চারজনই প্রবীণ হতে পারেন।

তাই প্রশ্নটা শতায়ু কত জন, তা নয়। প্রশ্ন হল—তাঁদের শেষের বছরগুলো কেমন কাটছে?

দীর্ঘ জীবন মানেই দীর্ঘ সুস্থতা নয়। স্মৃতিভ্রংশ, চলাফেরার অসুবিধা, একাকিত্ব এবং একাধিক দীর্ঘস্থায়ী রোগের সঙ্গে লড়াই করতে হয় বহু প্রবীণকে। ফলে পরিবার, পরিচর্যাকর্মী, হাসপাতাল এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপর চাপ বাড়ে। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমলে করদাতা কমে, স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি বাড়ে, বাড়ে গৃহভিত্তিক পরিচর্যার প্রয়োজনও।

জাপান তাই পরিচর্যা-রোবট, দূরবর্তী স্বাস্থ্যপরামর্শ এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের মতো নানা পথ পরীক্ষা করছে। কিন্তু প্রযুক্তি এখনও কাউকে স্নান করিয়ে দিতে পারে, অথচ রাতের একাকিত্বে পাশে বসে কথা বলার কাজটি পুরোপুরি করতে পারে না।

আর প্রবীণদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় আরও একটি প্রশ্ন সামনে আসে—অর্থনৈতিক নিরাপত্তার। কর্মজীবনে কম আয় বা দীর্ঘ সময় কাজের বাইরে থাকার প্রভাব শেষ বয়সের পেনশন ও সঞ্চয়েও পড়তে পারে।

এই সময় শতায়ুদের সংখ্যা বাজারি ‘দীর্ঘায়ু-ফর্মুলা’র বিজ্ঞাপনে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। জাপানি খাবার বা গ্রিন টি স্বাস্থ্যকর হতে পারে, কিন্তু কোনও একটি খাবার মানুষকে একশো বছর বাঁচাবে—এমন প্রমাণ নেই। শতায়ুদের নিয়ে গবেষণায় একটি পরিচিত সমস্যাও আছে: যাঁরা আগে মারা গিয়েছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা সেখানে থাকে না। একে বলা হয় ‘সারভাইভারশিপ বায়াস’ বা বেঁচে থাকা ব্যক্তির পক্ষপাত।

তাই এক লক্ষ শতায়ু জাপানের জন্য নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। কিন্তু সংখ্যাটির আসল অর্থ উদ্‌যাপনে নয়, প্রস্তুতিতে। মানুষকে দীর্ঘ জীবন দেওয়া এক সাফল্য; সেই অতিরিক্ত বছরগুলোকে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং সঙ্গপূর্ণ করে তোলা আরও বড় পরীক্ষা।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles