বিহারের বহুচর্চিত বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। এই উপনির্বাচনকে শুধু একটি আসনের লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং এটি বিজেপি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এবং জন সুরাজের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর—তিন পক্ষের কাছেই মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে এটাই প্রশান্ত কিশোরের প্রথম সরাসরি নির্বাচনী পরীক্ষা হওয়ায় গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলের নজর এই কেন্দ্রের দিকে।
বাঁকিপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। দলীয় সভাপতি হওয়ার পর প্রাক্তন বিধায়ক নীতিন নবীন আসন ছাড়ায় এই উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এখানে ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিল। ফলে এই আসন ধরে রাখা বিজেপির কাছে সম্মানের প্রশ্ন। এবার বিজেপি প্রার্থী করেছে নীরজ কুমার সিনহাকে।
অন্যদিকে, জন সুরাজের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর নিজেই এই আসনে প্রার্থী হয়ে রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়েছেন। দীর্ঘদিন নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত থাকার পর এবার প্রথমবার ভোটের ময়দানে নেমেছেন তিনি। তাঁর দাবি, নিরাপদ আসন না বেছে বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে লড়াই করার সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে তিনি বিহারের রাজনীতিতে বিকল্প শক্তি গড়তে চান। এই নির্বাচনের ফল তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
আরজেডিও এই লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই। দলটি রেখা গুপ্তাকে প্রার্থী করেছে এবং বিজেপি-বিরোধী ভোট নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করেছে। নির্বাচনী প্রচারে মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, নগর পরিকাঠামো এবং সাম্প্রতিক জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুগুলিকে সামনে আনা হয়েছে। প্রচারের শেষ পর্বে বিজেপি ও জন সুরাজ—উভয়কেই আক্রমণ করে আরজেডি নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করে।
এবারের নির্বাচনে মোট ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রায় ৩.৮ লক্ষ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্পর্শকাতর বুথগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সর্বত্র কড়া নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে। ভোট গণনা হবে ৩ আগস্ট।
ভোটের দিনও রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। প্রশান্ত কিশোর অভিযোগ করেছেন, তাঁর কয়েকজন সমর্থককে ভোটের আগে পুলিশ আটক করেছে এবং এর পিছনে শাসক বিজেপির প্রভাব রয়েছে। বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই ভোট চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপনির্বাচনের ফল শুধু বাঁকিপুরের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ করবে না, বরং বিহারের আগামী রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। বিজেপি তাদের শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখতে পারে কি না, আর প্রশান্ত কিশোর তাঁর রাজনৈতিক অভিষেকে কতটা সাড়া পান—সেই উত্তর মিলবে ৩ আগস্টের ফল ঘোষণায়।