শেফালি–স্মৃতির ভিতের উপর স্পিনের দুর্গ, এশিয়া কাপ ফিরল ভারতের দখলে

যা জানা জরুরি
- ব্যাট হাতে দুই ওপেনার পথ তৈরি করেছিলেন, বল হাতে স্পিনাররা বাকি দরজাগুলি বন্ধ করে দিলেন।
- রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুবাইয়ে মহিলাদের এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারাল ভারত।
- প্রথমে ব্যাট করে ভারতের সংগ্রহ ছিল পাঁচ উইকেটে ১৮৩।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ব্যাট হাতে দুই ওপেনার পথ তৈরি করেছিলেন, বল হাতে স্পিনাররা বাকি দরজাগুলি বন্ধ করে দিলেন। রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুবাইয়ে মহিলাদের এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারাল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ভারতের সংগ্রহ ছিল পাঁচ উইকেটে ১৮৩। জবাবে শ্রীলঙ্কা থামল ১১১ রানে। শেফালি বর্মার ৬৮ এবং স্মৃতি মন্ধানার ৫৯ রানের পর শ্রী চরণীর চার উইকেট ম্যাচকে ভারতের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
ভারতের উদ্বোধনী জুটিতে ওঠে ১২৯ রান। শেফালি এবং স্মৃতি দু’জনেই খেলেন ৩৯টি করে বল, কিন্তু তাঁদের ইনিংসের চরিত্র এক ছিল না। শেফালির আক্রমণ শ্রীলঙ্কার বোলিংকে শুরু থেকেই চাপে রাখে, অন্যদিকে স্মৃতি রান তোলার গতি বজায় রেখে জুটিকে স্থায়িত্ব দেন। বড় ম্যাচে দ্রুত রান এবং উইকেট বাঁচানো সাধারণত পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী চাহিদা হয়ে দাঁড়ায়। এ দিন ভারতীয় ওপেনাররা দু’টিই একসঙ্গে সামলেছেন, যার সুবিধা পেয়েছে পরের ব্যাটিং।
শেষের দিকে শ্রীলঙ্কা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরালেও ভারতের তৈরি করে রাখা ভিত ভাঙা যায়নি। ফাইনালে ১৮৪ রানের লক্ষ্য মানে শুধু একটি বড় সংখ্যা নয়, প্রথম থেকেই নির্দিষ্ট গতিতে রান তোলার বাধ্যবাধকতা। শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের সামনে তাই ধীরে ইনিংস গুছিয়ে পরে আক্রমণের সুযোগ সীমিত ছিল। ভারতের স্কোরকার্ডে ওপেনারদের বড় অবদান যেমন স্পষ্ট, তেমনই বোঝা যায়, শ্রীলঙ্কার শেষপর্বের প্রতিরোধ আরও আগে শুরু হওয়া প্রয়োজন ছিল।
রান তাড়ায় চামারি আতাপাত্তু ৩২ বলে ৩৬ করেন। বিষ্মি গুণরত্নে করেন ২০ এবং নীলাক্ষিকা সিলভা ২২। কিন্তু কেউই প্রয়োজনীয় বড় ইনিংসের দিকে এগোতে পারেননি। আতাপাত্তুকে দীপ্তি শর্মার বলে স্টাম্প করেন রিচা ঘোষ। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ককে সরানো ছিল গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁর উপস্থিতিই বড় লক্ষ্য তাড়ার সবচেয়ে কার্যকর আশ্বাস। চরণীর বাঁহাতি স্পিন এরপর মাঝের ব্যাটিংকে ভেঙে দেয়। ব্যাট হাতে সাফল্যের পাশাপাশি শেফালিও একটি উইকেট নিয়ে নিজের অবদান সম্পূর্ণ করেন।
ভারতের এই জয়কে বোঝার জন্য সেমিফাইনালের দিকে তাকানো দরকার। ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারত প্রথমে সমস্যায় পড়েও ১৪৯/৬ তুলেছিল এবং শেষ পর্যন্ত ৪০ রানে জিতেছিল। সেই ম্যাচেও স্পিনারদের ভূমিকা ছিল বড়। দীপ্তি তিন উইকেট নিয়েছিলেন, চরণী দিয়েছিলেন প্রয়োজনীয় প্রথম আঘাত। অর্থাৎ ফাইনালে ভারতের বোলিং সাফল্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচে একই শক্তি কাজে এসেছে, যদিও ব্যাটিংয়ের পরিস্থিতি ছিল আলাদা।
শ্রীলঙ্কাও নিছক দুর্বল প্রতিপক্ষ হিসেবে ফাইনালে আসেনি। ১১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চাপের মধ্যে রান তাড়া করে তারা জিতেছিল। হার্ষিতা সমরবিক্রমা এবং কবিশা দিলহারির জুটি সেই ম্যাচে দলকে ফিরিয়েছিল। কিন্তু ফাইনালে ভারতের বেশি রান এবং নিয়মিত উইকেট তোলার ক্ষমতা একই ধরনের পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেয়নি। একটি ম্যাচে সফল ব্যাটিং পদ্ধতি পরের ম্যাচে একই ফল দেবে না—দুবাইয়ের দুই নকআউট ম্যাচে সেই পার্থক্যই সামনে এসেছে।
ম্যাচশেষে কোচ অমল মজুমদার ব্যাখ্যা করেন, আগে রান তুলে তিন মানসম্পন্ন স্পিনারের সাহায্যে তা রক্ষা করার পরিকল্পনা ছিল। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর বিশেষ ভাবে প্রশংসা করেন উদ্বোধনী জুটির। আতাপাত্তু স্বীকার করেন, বিশেষত প্রথম ছয় ওভারে শ্রীলঙ্কার বোলিং প্রত্যাশিত মানে পৌঁছয়নি। এই তিনটি প্রতিক্রিয়া পাশাপাশি রাখলে জয়ের সমীকরণ পরিষ্কার: ভারত যে পর্যায়ে আক্রমণ করতে চেয়েছিল, সেই পর্যায়েই প্রতিপক্ষ প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।
বিশ্লেষণে এই সাফল্যের সবচেয়ে বড় দিক ভারসাম্য। শুধু তারকা ওপেনারদের রান বা শুধু স্পিনের দক্ষতা নয়, এক বিভাগের কাজ অন্য বিভাগকে সহজ করেছে। তবে বড় ব্যবধানকে ভবিষ্যতের সব ম্যাচের নিশ্চয়তা ভাবা ভুল হবে। কম রান উঠলে কিংবা স্পিন কম সাহায্য পেলে ভারতকে অন্য সমাধানও খুঁজতে হবে। আপাতত এশিয়া কাপের ফাইনাল দেখাল, পরিকল্পনা অনুযায়ী শুরু এবং প্রতিপক্ষের প্রধান ব্যাটারদের সময়মতো ফেরানো—এই দুই জায়গায় সফল হলে ভারত কতটা প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



