দশজনের সিটির ডার্বি জয়, হালান্ডের গোল নিয়ে ভুল স্বীকার রেফারিদের

যা জানা জরুরি
- ম্যাঞ্চেস্টার ডার্বি শেষ হয়েছে, কিন্তু ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থামেনি।
- রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডকে ১–০ গোলে হারিয়েছে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি।
- পরে রেফারিদের সংস্থা প্রো রেফ জানায়, ওই আক্রমণে অফসাইডে থাকা এনজো ফের্নান্দেসের অবস্থানের সম্ভাব্য প্রভাব ভিডিও সহকারী রেফারি যথাযথ ভাবে ধরতে পারেননি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ম্যাঞ্চেস্টার ডার্বি শেষ হয়েছে, কিন্তু ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থামেনি। রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডকে ১–০ গোলে হারিয়েছে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। জয়সূচক গোল আর্লিং হালান্ডের। পরে রেফারিদের সংস্থা প্রো রেফ জানায়, ওই আক্রমণে অফসাইডে থাকা এনজো ফের্নান্দেসের অবস্থানের সম্ভাব্য প্রভাব ভিডিও সহকারী রেফারি যথাযথ ভাবে ধরতে পারেননি। মাঠের রেফারিকে ঘটনাটি আবার দেখতে বলা উচিত ছিল।
সিটির জয়ের আলাদা গুরুত্ব ছিল সংখ্যার অসুবিধায়। প্রথমার্ধের ২৩ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেসের বিরুদ্ধে আচরণের জন্য লাল কার্ড দেখেন ফিল ফোডেন। ফলে দীর্ঘ সময় দশজনকে নিয়ে খেলতে হয় অতিথিদের। ইউনাইটেডের সামনে সুযোগ তৈরি হলেও মার্কাস র্যাশফোর্ড এবং কোবি মাইনুর প্রচেষ্টা পোস্টে বাধা পায়। সংখ্যায় এগিয়ে থাকা দল গোল করতে পারেনি; উল্টে দ্বিতীয়ার্ধে সিটিই ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে। ফলের এই বৈপরীত্যই ডার্বির হতাশাকে ইউনাইটেডের জন্য আরও বাড়িয়েছে।
গোলের ঘটনাটি ঘটে ৬০ মিনিটে। প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল অফসাইড, পরে ভিডিও পরীক্ষায় হালান্ডকে বৈধ অবস্থানে পাওয়া যায়। কিন্তু পরীক্ষা সেখানেই শেষ হওয়ার কথা নয়: একই আক্রমণে অফসাইডে থাকা অন্য খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের খেলায় প্রভাব ফেলেছেন কি না, সেটিও দেখতে হয়। প্রো রেফের স্বীকৃত ভুলটি এই দ্বিতীয় অংশে। সংস্থা ইউনাইটেডের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং ঘটনাটি পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে। অর্থাৎ বিতর্কটি কেবল হালান্ডের পায়ের অবস্থান নিয়ে নয়।
ফুটবলের আইনপ্রণেতা সংস্থা আইএফএবি-র একাদশ আইন এই পার্থক্যটি স্পষ্ট করে। অফসাইড জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলেই অপরাধ হয় না। কিন্তু কাছের বল খেলার স্পষ্ট চেষ্টা যদি প্রতিপক্ষের উপর প্রভাব ফেলে, অথবা কোনও দৃশ্যমান কাজ প্রতিপক্ষের বল খেলার ক্ষমতা ব্যাহত করে, তা অফসাইড অপরাধ হতে পারে। বল ছোঁয়া তার একমাত্র শর্ত নয়। ফলে একজন গোলদাতা বৈধ অবস্থানে থাকলেও সতীর্থের হস্তক্ষেপের কারণে একই আক্রমণের গোল বাতিল হতে পারে।
আইনটির ব্যাখ্যায় আরও একটি দরকারি উদাহরণ রয়েছে। অফসাইডে থাকা আক্রমণকারী হেড করার চেষ্টা করলেন, বল ছুঁলেন না, কিন্তু তাঁর নড়াচড়ায় গোলরক্ষক বিভ্রান্ত হলেন—এমন পরিস্থিতিতেও অপরাধ হতে পারে। উদাহরণটি রবিবারের ঘটনার হুবহু প্রতিলিপি নয়; তবে কেন ‘বল লাগেনি’ বললেই সব প্রশ্নের উত্তর হয় না, তা বুঝতে সাহায্য করে। অবস্থান, বলের কাছে যাওয়ার চেষ্টা এবং প্রতিপক্ষের উপর প্রভাব—এই আলাদা বিষয়গুলি মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
প্রযুক্তির ভূমিকার বিশ্লেষণে এখানেই একটি সীমা সামনে আসে। ক্যামেরা এবং রেখা টেনে একজন খেলোয়াড় কোথায় ছিলেন, তা নির্ণয় করা যায়। কিন্তু তাঁর উপস্থিতি একজন ডিফেন্ডারের সিদ্ধান্ত বা নড়াচড়াকে কতটা প্রভাবিত করেছে, সেই বিচার পুরোপুরি যান্ত্রিক নয়। তাই ভিডিও সহায়তা থাকলেও মাঠের রেফারির পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন ফুরোয় না। প্রো রেফের বক্তব্যে সেই প্রক্রিয়াগত ঘাটতিই স্বীকৃত হয়েছে; কোনও নতুন অফসাইড আইন চালুর ঘোষণা করা হয়নি।
ইউনাইটেডের জন্য অবশ্য সিদ্ধান্তের বিতর্ক এবং নিজেদের পারফরম্যান্স দু’টি আলাদা প্রশ্ন। একটি গোল নিয়ে আপত্তি ন্যায্য হতে পারে, আবার সংখ্যায় এগিয়ে থেকেও গোল না পাওয়ার ব্যাখ্যাও খুঁজতে হয়। সিটির ক্ষেত্রেও বিপরীত সত্যটি প্রযোজ্য: জয় এসেছে, দীর্ঘ সময় দশজন নিয়ে প্রতিরোধও হয়েছে, কিন্তু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ভূমিকা উপেক্ষা করা যাবে না। ম্যাচের মূল্যায়নে এক দিক দিয়ে অন্য দিককে সম্পূর্ণ আড়াল করলে ছবিটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
আপাতত প্রকাশিত ফল সিটির পক্ষে ১–০। ইউনাইটেডের সরকারি ম্যাচ-তালিকাতেও সেটিই নথিভুক্ত রয়েছে। ভুল স্বীকারের পরে কী পরিবর্তন করা হবে, পর্যালোচনায় দায় বা প্রক্রিয়া নিয়ে কী সিদ্ধান্ত আসবে, তা এখনও এই ঘটনার পরবর্তী অধ্যায়। রবিবারের ডার্বি তাই একদিকে সিটির প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পাওয়া জয়, অন্যদিকে ভিডিও সহায়তার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন। প্রযুক্তি ভুল কমাতে এসেছে; কিন্তু প্রযুক্তির সাহায্যে নেওয়া সিদ্ধান্তেরও ব্যাখ্যা এবং জবাবদিহি প্রয়োজন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



