রাজ্য-রাজনীতি

পুরভোটের আগে কৃষ্ণেন্দুর ইস্তফা, ইংরেজবাজারে দলবদলের জল্পনা

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • মালদহ: পুরভোটের আগে ইংরেজবাজার পুরসভার প্রধানের পদ ছাড়লেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী।
  • বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, পুরসভার কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠকের পরে তিনি ইস্তফার কথা ঘোষণা করেন।
  • স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারার অভিযোগ তুলে তাঁর সরে দাঁড়ানোয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

মালদহ: পুরভোটের আগে ইংরেজবাজার পুরসভার প্রধানের পদ ছাড়লেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, পুরসভার কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠকের পরে তিনি ইস্তফার কথা ঘোষণা করেন। স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারার অভিযোগ তুলে তাঁর সরে দাঁড়ানোয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষত, তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

বৈঠকে ১৪ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পদত্যাগপত্র পেশ করার পাশাপাশি রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী এবং সচিবের কাছেও তা পাঠানোর কথা জানিয়েছেন কৃষ্ণেন্দু। দক্ষিণ মালদহের বিজেপি সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিযোগ, দুর্নীতির দায় এড়াতেই তিনি পদ ছেড়েছেন। কৃষ্ণেন্দু এই অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পদত্যাগের আগের দিনই কৃষ্ণেন্দু জানিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে তিনি আর নির্বাচনে লড়বেন না। ইস্তফার পরে আগামী দিনে ‘বড় ছাতার তলায়’ থাকার কথা বলেন তিনি। পরিস্থিতি বিচার করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান। এই মন্তব্যের পরেই তাঁর দলবদলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তিনি কোন দলে যাবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

কৃষ্ণেন্দু পাঁচবার ইংরেজবাজারের পুরপ্রধান হয়েছেন। তাঁর পদত্যাগের পরেও পুরসভায় তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে পুরপ্রধানের সরে দাঁড়ানোকে সরাসরি পুরবোর্ডের পতন হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন এবং কাউন্সিলরদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখাই এখন দলের সামনে তাৎক্ষণিক কাজ।

বিজেপির অভিযোগের সঙ্গে পুরসভার আর্থিক অবস্থার প্রশ্নও সামনে এসেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার প্রতিবেদনে পুরসভা সূত্রে প্রায় সাত কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে বকেয়া থাকা এবং দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে রাজনৈতিক অভিযোগকেও তদন্তের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানো যায় না।

কৃষ্ণেন্দুর রাজনৈতিক জীবনে দল পরিবর্তন নতুন ঘটনা নয়। কংগ্রেস দিয়ে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করে তিনি ১৯৯৮ সালে তৃণমূলে যান। পরে কংগ্রেসে ফিরে ২০০৬ ও ২০১১ সালে ইংরেজবাজার বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। পরবর্তী সময়ে আবার তৃণমূলে ফিরে ২০১৩ সালের উপনির্বাচনে একই আসনে জেতেন। পুরসভার দায়িত্বের পাশাপাশি বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে পর্যটন দপ্তরের দায়িত্ব সামলানোর পরে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন দপ্তরেও ছিলেন কৃষ্ণেন্দু। ২০২২ সালের মার্চে তিনি ফের ইংরেজবাজার পুরসভার প্রধানের দায়িত্ব নেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি তাই কেবল একটি পুরপদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘ উপস্থিতিই বর্তমান সিদ্ধান্তটিকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে।

রাজনৈতিক দিক থেকে এই ইস্তফা তৃণমূলের জন্য দুটি আলাদা প্রশ্ন তৈরি করছে। প্রথমটি প্রশাসনিক—পুরসভার কাজে নেতৃত্বের পরিবর্তন কীভাবে সামলানো হবে। দ্বিতীয়টি সাংগঠনিক—দলের হয়ে আর ভোটে না লড়ার ঘোষণা করা একজন অভিজ্ঞ নেতার সঙ্গে সম্পর্ক কোন পথে যাবে। তাঁর সঙ্গে অন্য কাউন্সিলররা কী অবস্থান নেবেন, সেই প্রশ্নের উত্তরও এখনও স্পষ্ট নয়।

নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে নেতৃত্বের এই পরিবর্তনের তাৎপর্যও রয়েছে। পুরসভার আয়ব্যয়, বকেয়া মেটানো এবং চলতি কাজের অগ্রগতি নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বকে দেখতে হবে। ফলে রাজনৈতিক জল্পনার পাশাপাশি প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার প্রশ্নটিও সামনে থাকছে। শুধু নতুন পুরপ্রধানের নাম ঘোষণা নয়, দায়িত্ব হস্তান্তরের পরে পরিষেবা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা কীভাবে চলবে, সেটিও পরিস্থিতি বোঝার একটি মাপকাঠি।

ভোটের আগে ব্যক্তিগত প্রভাব, দলীয় সংগঠন এবং নাগরিক পরিষেবা—এই তিনের সম্পর্ক স্থানীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই বিচারে কৃষ্ণেন্দুর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। তবে এখনই সম্ভাব্য দলবদল বা ভোটের ফল নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। আপাতত নিশ্চিত ঘটনা তাঁর পুরপ্রধানের পদত্যাগ; ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ঠিকানা নিয়ে তিনি যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার বাস্তব রূপ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles