হাইলাইটস:

  • এনডিএতে যোগদানের জল্পনা উড়িয়ে দিলেন এনসিপি (শরদচন্দ্র পাওয়ার) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে।
  • তবে ডিলিমিটেশন বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে “সব বিকল্প খোলা” রয়েছে বলে মন্তব্য।
  • বিরোধী জোটের আশঙ্কা, বিল এলে কয়েকটি আঞ্চলিক দল এনডিএর পাশে দাঁড়াতে পারে।
  • সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জল্পনা তীব্র।
  • দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্য জনসংখ্যাভিত্তিক আসন পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতা করছে।

বাংলাস্ফিয়ার: সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে সম্ভাব্য ডিলিমিটেশন বিল। তার মধ্যেই জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (শরদচন্দ্র পাওয়ার গোষ্ঠী)-র কার্যকরী সভাপতি ও সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে এনডিএতে যোগদানের জল্পনা উড়িয়ে দিলেও এমন একটি মন্তব্য করেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা ব্যাখ্যার জন্ম দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নানা জল্পনা চলছিল যে, শরদ পাওয়ারের দল কি কেন্দ্রের শাসক জোটের সঙ্গে কোনও সমঝোতার পথে হাঁটতে পারে? সেই প্রশ্নের জবাবে সুলে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এনডিএতে যোগ দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, সংসদে কোনও নির্দিষ্ট বিল বা জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে তাঁদের অবস্থান পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ, কোনও বিষয়ে সরকারকে সমর্থন করা মানেই জোটে যোগ দেওয়া নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্যের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য ডিলিমিটেশন বিলকে ঘিরে। কেন্দ্র যদি আসন্ন অধিবেশনেই লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত বিল আনে, তাহলে বিরোধী জোটের অভ্যন্তরে মতভেদ সামনে আসতে পারে।

ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের অভিযোগ, পরিবার পরিকল্পনায় সফল রাজ্যগুলি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রেখেছে। কিন্তু নতুন করে শুধুমাত্র জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভা আসন বণ্টন হলে উত্তর ভারতের জনবহুল রাজ্যগুলি বেশি আসন পাবে এবং দক্ষিণের প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কমে যাবে। একই ধরনের উদ্বেগ পূর্ব ভারতের কিছু রাজ্যেও রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের আশঙ্কা, কয়েকটি আঞ্চলিক দল নিজেদের রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক স্বার্থের ভিত্তিতে আলাদা অবস্থান নিতে পারে। ফলে ইন্ডিয়া জোটের অভিন্ন কৌশল দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুপ্রিয়া সুলের মন্তব্য সেই আশঙ্কাকেই আরও উসকে দিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।

যদিও এনসিপি (শরদচন্দ্র পাওয়ার) শিবিরের নেতারা দাবি করছেন, তাঁদের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। বিজেপি বা এনডিএর সঙ্গে জোটের প্রশ্নই নেই। সংসদে প্রতিটি বিলের বিষয়বস্তু বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দল হিসেবে এটাই স্বাভাবিক অবস্থান বলে তাঁদের দাবি।

অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব এখনও ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরেই সংবিধান অনুযায়ী জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হচ্ছে। নতুন জনগণনা ও তার ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিলিমিটেশন শুধু আসনসংখ্যা বাড়ানো বা কমানোর বিষয় নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কোন রাজ্যের প্রভাব সংসদে কতটা থাকবে, ভবিষ্যতে সরকার গঠনের সমীকরণ কীভাবে বদলাবে—এসব প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত।

ফলে সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই ডিলিমিটেশন ইস্যু রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সুপ্রিয়া সুলের কৌশলী মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তিনি এনডিএতে যোগদানের সম্ভাবনা নাকচ করলেও, নির্দিষ্ট ইস্যুতে সরকারের পাশে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেননি। আর সেই কারণেই বিরোধী শিবিরে অস্বস্তি বাড়ছে।

এখন নজর থাকবে, সরকার আদৌ ডিলিমিটেশন বিল আনে কি না এবং এলে বিভিন্ন আঞ্চলিক দল—বিশেষ করে মহারাষ্ট্র, দক্ষিণ ভারত ও পূর্ব ভারতের দলগুলি—শেষ পর্যন্ত কোন অবস্থান গ্রহণ করে। সেই সিদ্ধান্তই আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতির সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।