দেশ

খেলনা, ফল আর বিশেষ খাদ্যতালিকা: পাঁচ খুদে ওরাংওটাংয়ের আদরযত্নে নন্দনকানন

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • ভুবনেশ্বর: খেলার জন্য খেলনা, দোল খাওয়ার ব্যবস্থা, দু’ঘণ্টা অন্তর কলা ও আপেল।
  • সঙ্গে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত আশ্রয় এবং চব্বিশ ঘণ্টা নজরদারি।
  • পাঁচ খুদে ওরাংওটাংয়ের যত্নে এমনই আয়োজন করেছে ওড়িশার নন্দনকানন চিড়িয়াখানা।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

ভুবনেশ্বর: খেলার জন্য খেলনা, দোল খাওয়ার ব্যবস্থা, দু’ঘণ্টা অন্তর কলা ও আপেল। সঙ্গে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত আশ্রয় এবং চব্বিশ ঘণ্টা নজরদারি। পাঁচ খুদে ওরাংওটাংয়ের যত্নে এমনই আয়োজন করেছে ওড়িশার নন্দনকানন চিড়িয়াখানা। বালেশ্বরের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হওয়া এই অপ্রত্যাশিত অতিথিদের আপাতত আলাদা রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের জন্য তৈরি হয়েছে বিশেষ খাদ্যতালিকাও।

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাবকদের শারীরিক প্রয়োজনের পাশাপাশি মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। তাই খাবার ও আশ্রয়ের সঙ্গে রাখা হয়েছে খেলনা এবং ঝোলার উপকরণ। নতুন পরিবেশে পাঁচটি প্রাণীর পরিচর্যায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছেন না চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

গত ৮ সেপ্টেম্বর বালেশ্বর জেলার একটি জঙ্গলে শাবকগুলির খোঁজ মেলে। উদ্ধার হওয়া পাঁচটির মধ্যে তিনটি পুরুষ এবং দু’টি স্ত্রী। এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, সকলের বয়স এক বছরের কম। স্থানীয় বন সুরক্ষা সমিতির এক সদস্যের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পরে বনকর্মীরা বিষয়টি পরীক্ষা করেন। প্রাণীগুলিকে ওরাংওটাং হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে তাদের ভুবনেশ্বরের নন্দনকাননে নিয়ে যাওয়া হয়। সাধারণত ভারতের জঙ্গলে এই প্রাণী দেখা যায় না বলেই ঘটনাটি প্রথম থেকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

ওরাংওটাংয়ের স্বাভাবিক আবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বোর্নিয়ো ও সুমাত্রা দ্বীপের বনাঞ্চল। লালচে বাদামি লোমে ঢাকা এই বৃহৎ বনমানুষ জীবনের অধিকাংশ সময় গাছেই কাটায়। শক্তিশালী লম্বা হাত এবং আঁকড়ে ধরতে সক্ষম হাত-পা তাদের ডালপালার মধ্যে চলাফেরা করতে সাহায্য করে। বুনো ফল তাদের খাবারের বড় অংশ। বিশ্রাম ও ঘুমের জন্য গাছের উপর বাসাও বানায় তারা। ফলে নিজেদের পরিচিত বাসভূমি থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ওড়িশায় পাঁচটি শাবকের একসঙ্গে উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে।

মালয় ভাষায় ‘ওরাংওটাং’ কথাটির অর্থ ‘বনের মানুষ’। বুদ্ধিমান এই প্রাণীর আচরণ, খাদ্যাভ্যাস এবং গাছে থাকার প্রয়োজন বুঝেই তার পরিচর্যার পরিবেশ সাজানো জরুরি। উদ্ধার করা প্রাণীকে আশ্রয় দেওয়ার সঙ্গে তার স্বাভাবিক আচরণের সুযোগ রাখার প্রশ্নটিও তাই সব সময় জড়িয়ে থাকে।

সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু হয়েছে তদন্ত। এনডিটিভি জানিয়েছে, উপ-পুলিশ সুপার মানস বারিকের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী বাহিনীর চার সদস্যের একটি দল সংশ্লিষ্ট জঙ্গল পরিদর্শন করেছে। বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বন্যপ্রাণ পাচারের সম্ভাবনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর পৃথক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে বিশেষ তদন্তকারী বাহিনী এবং বন্যপ্রাণ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো অনুসন্ধান করছে। শাবকগুলির উৎস এবং ভারতে পৌঁছনোর পরিস্থিতি নির্ধারণ করাই এই অনুসন্ধানের মূল লক্ষ্য।

তবে পাচারের সন্দেহ উঠলেও কীভাবে প্রাণীগুলি এখানে এল, সেই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। কোন পথে তাদের আনা হয়েছিল, কোথায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল কিংবা কারা এর সঙ্গে যুক্ত—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আরও প্রমাণ প্রয়োজন। তাই উদ্ধার হওয়ার ঘটনাকে এখনই কোনও নির্দিষ্ট পাচারচক্রের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য বলা যায় না। তদন্তের ফলেই এই অস্বাভাবিক যাত্রার প্রকৃত বিবরণ জানা সম্ভব হবে।

সংরক্ষণের দিক থেকেও বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্ব প্রকৃতি তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, বন ধ্বংস, শিকার এবং বেআইনি পোষ্য ব্যবসা ওরাংওটাংয়ের অস্তিত্বের বড় বিপদ। অনেক ক্ষেত্রে পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী প্রাণীকে হত্যা করার পরে তার শাবককে পোষ্য হিসেবে বিক্রির জন্য ধরে রাখা হয়। তবে ওড়িশায় উদ্ধার হওয়া এই পাঁচটির ক্ষেত্রে এমন ঘটেছিল কি না, তা জানা যায়নি। ধীর প্রজননের কারণে সংখ্যায় ক্ষতি হলে তা পূরণ করতেও ওরাংওটাংদের দীর্ঘ সময় লাগে।

প্রাকৃতিক অরণ্যে ফল খেয়ে বীজ ছড়িয়ে বন গড়ে ওঠাতেও সাহায্য করে এই প্রাণী। তাই তাদের বাঁচিয়ে রাখার গুরুত্ব একটি চিড়িয়াখানার আকর্ষণ বাড়ানোর চেয়ে অনেক বিস্তৃত। বালেশ্বরের ঘটনায় এখন দুটি কাজ পাশাপাশি চলছে—উদ্ধার হওয়া শাবকগুলিকে নিরাপদে রাখা এবং তাদের অস্বাভাবিক উপস্থিতির কারণ খুঁজে বার করা।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles