Home খবরদেশ বফর্স মামলার শেষ অধ্যায়ে সুপ্রিম কোর্টের সিলমোহর, ২০০৫ সালের খালাসের বিরুদ্ধে আবেদন খারিজ

বফর্স মামলার শেষ অধ্যায়ে সুপ্রিম কোর্টের সিলমোহর, ২০০৫ সালের খালাসের বিরুদ্ধে আবেদন খারিজ

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
13 views 2 minutes read
A+A-
Reset

প্রায় চার দশক ধরে ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত দুর্নীতির অভিযোগ হিসেবে পরিচিত বফর্স মামলার আইনি পরিসমাপ্তি ঘটল। সুপ্রিম কোর্ট ২০০৫ সালে দিল্লি হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দিয়েছে, এত দীর্ঘ সময় পর এই মামলাকে পুনরুজ্জীবিত করার কোনও যৌক্তিকতা নেই। এর ফলে বফর্স কেলেঙ্কারিকে ঘিরে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কার্যত অবসান ঘটল।

বিচারপতিদের বেঞ্চ জানায়, ২০০৫ সালে দিল্লি হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে এত বছর পরে নতুন করে বিচার শুরু করার মতো কোনও আইনি ভিত্তি আদালতের সামনে তুলে ধরা যায়নি। ফলে আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয়।

বফর্স কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ১৯৮০-র দশকের মাঝামাঝি। ১৯৮৬ সালে ভারতের সেনাবাহিনীর জন্য সুইডেনের বফর্স সংস্থার কাছ থেকে ১৫৫ মিমি হাউইৎজার কামান কেনার চুক্তি হয়। পরের বছর সুইডিশ রেডিওর এক প্রতিবেদনে অভিযোগ ওঠে, এই চুক্তি পেতে কয়েকজন ভারতীয় রাজনীতিক, মধ্যস্থতাকারী এবং প্রতিরক্ষা কর্তাদের বিপুল অঙ্কের কমিশন বা ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগের জেরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয় এবং বিষয়টি তৎকালীন রাজীব গান্ধী সরকারের ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হানে।

পরে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) এই মামলার তদন্ত শুরু করে। ইতালীয় ব্যবসায়ী ওত্তাভিও কোয়াত্রোক্কি-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তবে দীর্ঘ তদন্ত, বিদেশ থেকে নথি সংগ্রহে জটিলতা, সাক্ষ্যপ্রমাণের দুর্বলতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে মামলাটি বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকে।

২০০৫ সালে দিল্লি হাইকোর্ট বফর্স মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খারিজ করে দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিল, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে তদন্তকারী সংস্থা ব্যর্থ হয়েছে। এরপরও মামলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চললেও শেষ পর্যন্ত কোনও দণ্ডাদেশ হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে ২০০৫ সালের খালাসের রায় বহাল থাকল। আদালতের এই রায়ের পর বফর্স মামলায় নতুন করে আইনি পদক্ষেপের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বফর্স কেলেঙ্কারি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই অভিযোগ শুধু একটি অস্ত্রচুক্তিকে নয়, বরং দুর্নীতি, রাজনৈতিক জবাবদিহি এবং প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। বহু নির্বাচনে এই ইস্যু বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারতের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এবং বহুল আলোচিত দুর্নীতি মামলার আইনি অধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হল। তবে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিতর্ক হিসেবে বফর্সের নাম ভারতীয় জনজীবনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles