খবর

ছয় রাজ্যের জলচুক্তি, বাঁধ এখনও কাগজ পেরোয়নি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: যমুনা অববাহিকার ছয় সরকার কিশাউ বহুমুখী প্রকল্পের খরচ ও সুবিধা ভাগ করার চুক্তিতে ১৫ সেপ্টেম্বর সই করেছে।
  • উত্তরাখণ্ড ও হিমাচলপ্রদেশের সীমানায় টনস নদীর উপর প্রস্তাবিত বাঁধ থেকে ৪২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও রাজস্থানসহ ছয় অংশীদারকে জল দেওয়ার…
  • প্রায় আট বছর ধরে ভাগাভাগির সূত্র নিয়ে অচলাবস্থার পরে এই সমঝোতা প্রকল্পকে প্রশাসনিকভাবে এগিয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: যমুনা অববাহিকার ছয় সরকার কিশাউ বহুমুখী প্রকল্পের খরচ ও সুবিধা ভাগ করার চুক্তিতে ১৫ সেপ্টেম্বর সই করেছে। উত্তরাখণ্ড ও হিমাচলপ্রদেশের সীমানায় টনস নদীর উপর প্রস্তাবিত বাঁধ থেকে ৪২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও রাজস্থানসহ ছয় অংশীদারকে জল দেওয়ার পরিকল্পনা। প্রায় আট বছর ধরে ভাগাভাগির সূত্র নিয়ে অচলাবস্থার পরে এই সমঝোতা প্রকল্পকে প্রশাসনিকভাবে এগিয়েছে। তবে চুক্তি সই হওয়া নির্মাণ শুরু, সব পরিবেশগত ছাড় পাওয়া বা পরিবার পুনর্বাসন সম্পূর্ণ হওয়ার সমান নয়।

বর্তমান হিসাবে প্রকল্পের ব্যয় ১৫,৬২৪ কোটি টাকা। এর ৯০ শতাংশ বহন করার কথা কেন্দ্রের; বাকি ১০ শতাংশ অংশীদার রাজ্যগুলির। নতুন বন্দোবস্তে হিমাচলপ্রদেশকে সরাসরি প্রকল্প-খরচ দিতে হবে না। নিজের জল-ভাগের একটি অংশ দিল্লি ও রাজস্থানকে দিয়ে তাদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ-উপাদানের ব্যয় মেটানোর সূত্র তৈরি হয়েছে। এই আর্থিক সমাধানই দীর্ঘদিনের প্রধান বিরোধ কাটিয়েছে বলে রাজ্য সরকার জানিয়েছে।

টনস যমুনার বৃহত্তম উপনদীগুলির একটি। জলাধারে বর্ষার জল ধরে শুষ্ক মৌসুমে ছাড়লে পানীয় জল, সেচ এবং নদীর প্রবাহে সুবিধা হওয়ার দাবি রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র জল ছাড়ার সময় শক্তি উৎপাদন করবে। প্রকল্পটি উত্তরাখণ্ডের দেহরাদুন ও হিমাচলের সিরমৌর জেলার পাহাড়ি এলাকায় পড়বে। বড় জলাধার হওয়ায় জমি ডোবা, গ্রাম ও বনভূমি প্রভাবিত হওয়া এবং নদীর স্বাভাবিক পলি ও মাছের চলাচল বদলানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

সমঝোতার পরে রাজনৈতিক কৃতিত্ব নিয়ে হিমাচলে শাসক কংগ্রেস ও বিরোধী বিজেপির বিরোধ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু বলেছেন, তাঁর সরকার রাজ্যের উপর সরাসরি আর্থিক বোঝা না-দিয়ে চুক্তি আদায় করেছে। বিজেপির বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগ ও ৯০ শতাংশ অর্থায়ন ছাড়া প্রকল্প এগোত না। দুই দাবির মধ্যে বিরোধ থাকলেও প্রশাসনিক সত্যটি সহজ: কেন্দ্রীয় অর্থ, ছয় সরকারের অনুমোদন এবং বাস্তবায়নকারী রাজ্যগুলির সহযোগিতা—সবকটিই প্রয়োজন। কোনও এক পক্ষের ঘোষণায় বাঁধ তৈরি হবে না।

ব্যয়ের বর্তমান অঙ্কও স্থির নয়। আট বছরের বিলম্বে নির্মাণসামগ্রী, সুদ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ-প্রশমনের দাম বেড়েছে; কাজ শুরুতে আরও দেরি হলে আবার সংশোধন হতে পারে। ৪২২ মেগাওয়াট হল স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা, সারা বছর প্রতি ঘণ্টায় একই বিদ্যুৎ পাওয়ার প্রতিশ্রুতি নয়। জলপ্রবাহ, মৌসুম ও পরিচালনার নিয়ম বাস্তব উৎপাদন নির্ধারণ করবে। একইভাবে বরাদ্দ হওয়া জল এবং রাজধানীর কল পর্যন্ত পৌঁছনো জল এক নয়; পরিবহণের পরিকাঠামো ও পথে ক্ষয়ও হিসাব করতে হবে।

কোন রাজ্য কোন সময়ে কত জল পাবে, খরার বছরে ভাগ কীভাবে কমবে এবং বিদ্যুৎ বিক্রির আয় কার হিসাবে যাবে—এসব পরিচালন-বিধি চুক্তির মূল পরীক্ষার জায়গা। বর্ষা স্বাভাবিক থাকার অনুমান দিয়ে স্থায়ী প্রতিশ্রুতি দিলে জলবায়ু পরিবর্তনের অনিশ্চয়তায় নতুন বিরোধ তৈরি হতে পারে। প্রবাহের স্বাধীন পরিমাপ এবং রাজ্যগুলির জন্য একই তথ্যভান্ডার ভবিষ্যৎ মামলা কমাতে সাহায্য করবে।

বিশ্লেষণ: জলবণ্টন চুক্তি একটি প্রয়োজনীয় মাইলফলক, কিন্তু প্রকল্প মূল্যায়নের কঠিন প্রশ্নগুলি এখন সামনে আসবে। কত পরিবার সরবে, জমির বদলে জমি কোথায় পাওয়া যাবে, বন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি কীভাবে মাপা হবে এবং নিম্নপ্রবাহে ন্যূনতম জল কত থাকবে—এসব তথ্য জনশুনানির আগেই স্থানীয় ভাষায় প্রকাশ করা দরকার। ক্ষতিপূরণের মোট অঙ্ক পুনর্বাসনের মান প্রমাণ করে না; নতুন জায়গায় জীবিকা ও সামাজিক সম্পর্ক টিকে থাকাও জরুরি।

হিমালয়ে ভূমিকম্প, ভূমিধস এবং অতি বৃষ্টির ঝুঁকি বড় বাঁধের নকশাকে আরও কঠোর করে। স্বাধীন নিরাপত্তা পর্যালোচনা, আপৎকালীন সতর্কতা এবং জলাধারের পলি জমার বাস্তব অনুমান ছাড়া শুধু বিদ্যুৎ ও জলের লাভ লেখা অসম্পূর্ণ। আট বছরের রাজনৈতিক গিঁট খোলা অবশ্যই খবর। পরবর্তী পরীক্ষা হল, ছয় সরকার একই স্বচ্ছতায় পরিবেশ, নিরাপত্তা ও উচ্ছেদের দায়ও ভাগ করে কি না—নাকি চুক্তির মঞ্চে সুবিধা ভাগ হবে, আর ক্ষতির হিসাব পাহাড়ের গ্রামগুলির হাতে থাকবে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles