দশ বছরের পরীক্ষা শেষে খাম খুলতেই অমিল

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: নিউটনের সূত্র পৃথিবীতে আপেল পড়া থেকে নক্ষত্রপুঞ্জের গতি পর্যন্ত ব্যাখ্যা করে।
- অথচ সেই সূত্রের অন্যতম মৌলিক সংখ্যা—সার্বজনীন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বা ‘বিগ জি’—ঠিক কত, তা অন্য মৌলিক ধ্রুবকের সমান নির্ভুলতায় এখনও জানা যায়নি।
- যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজির দশ বছরের পরীক্ষা সমস্যাটির সমাধান করেনি; বরং প্রতিষ্ঠিত একটি মাপের সঙ্গে নতুন অমিল যোগ করেছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: নিউটনের সূত্র পৃথিবীতে আপেল পড়া থেকে নক্ষত্রপুঞ্জের গতি পর্যন্ত ব্যাখ্যা করে। অথচ সেই সূত্রের অন্যতম মৌলিক সংখ্যা—সার্বজনীন মহাকর্ষীয় ধ্রুবক বা ‘বিগ জি’—ঠিক কত, তা অন্য মৌলিক ধ্রুবকের সমান নির্ভুলতায় এখনও জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজির দশ বছরের পরীক্ষা সমস্যাটির সমাধান করেনি; বরং প্রতিষ্ঠিত একটি মাপের সঙ্গে নতুন অমিল যোগ করেছে।
স্টেফান শ্লামিঙ্গারের নেতৃত্বে গবেষকেরা ফ্রান্সে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ওজন ও পরিমাপ ব্যুরোর ২০০৭ সালের পরীক্ষাটি স্বাধীনভাবে পুনরাবৃত্তি করেন। পদ্ধতির কেন্দ্রে ছিল টর্শন ব্যালান্স—অতি সরু ধাতব ফিতা থেকে ঝোলানো ভরগুলির উপর কাছাকাছি রাখা ভারী ভরের ক্ষীণ আকর্ষণে কতটা মোচড় তৈরি হচ্ছে, তা মাপার ব্যবস্থা। মহাকর্ষ এত দুর্বল যে তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, যন্ত্রের সামান্য বিকৃতি কিংবা আশপাশের ভরের অবস্থানও ফল বদলাতে পারে।
প্রত্যাশিত উত্তর জানার কারণে বিশ্লেষণে অচেতন পক্ষপাত ঢুকে পড়া ঠেকাতে পরীক্ষাটি আংশিকভাবে ‘অন্ধ’ রাখা হয়। সহকর্মী প্যাট্রিক অ্যাবট পরীক্ষার কয়েকটি ভরের প্রকৃত মান থেকে একটি গোপন সংশোধনী বাদ দিয়েছিলেন। সেটি ছাড়া শ্লামিঙ্গার ফল বিশ্লেষণ করলেও প্রকৃত জি জানতে পারেননি। সংশোধনীটি একটি খামে বন্ধ ছিল।
২০২২ সালে খাম খোলার কথা উঠলেও বায়ুচাপের একটি সূক্ষ্ম প্রভাব যথেষ্টভাবে হিসাব করা হয়নি বুঝে গবেষকেরা আরও দুই বছর অপেক্ষা করেন। ২০২৪ সালের ১১ জুলাই একটি সম্মেলনে অবশেষে খাম খোলা হয়। আরও দুই বছরের যাচাই শেষে ২০২৬ সালে মেট্রোলজিয়া সাময়িকীতে ফল প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন মাপ অনুযায়ী জি-এর মান প্রতি কিলোগ্রাম প্রতি বর্গসেকেন্ডে ৬.৬৭৩৮৭ গুণ ১০-এর ঋণাত্মক ১১ ঘনমিটার। ফরাসি পরীক্ষার ফলের চেয়ে এটি ০.০২৩৫ শতাংশ কম। দৈনন্দিন ওজন বা গ্রহের কক্ষপথের হিসাবের ক্ষেত্রে পার্থক্যটি প্রায় অর্থহীন। কিন্তু পরিমাপগুলির ঘোষিত অনিশ্চয়তার তুলনায় ব্যবধানটি যথেষ্ট বড়।
তামা ও নীলকান্তমণির ভর ব্যবহার করে পরীক্ষা পুনরাবৃত্তি করেও প্রায় একই ফল পাওয়া গেছে। ফলে ব্যবহৃত পদার্থের কোনও অজানা বৈশিষ্ট্য অমিলটির কারণ—এমন একটি সম্ভাবনা দুর্বল হয়েছে। দুই শতকের পুরনো পদ্ধতির আধুনিক সংস্করণেও সমস্যাটি থেকে গেল।
বিশ্লেষণ: অমিল মানেই মহাকর্ষের নতুন সূত্র আবিষ্কৃত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তের কোনও ভিত্তি নেই। গবেষকদের নিজের মূল্যায়নেও অজানা পরীক্ষাগত প্রভাবই বেশি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। অত্যন্ত দুর্বল বল মাপতে আলাদা যন্ত্রে আলাদা ধরনের পদ্ধতিগত ভুল তৈরি হতে পারে।
তবু ‘প্রত্যাশিত’ ফল না-পাওয়াটিই পরীক্ষাটির মূল্য। গোপন সংশোধনীর ব্যবস্থা গবেষকদের নিজেদের প্রত্যাশা থেকে ফলকে রক্ষা করেছে। পরবর্তী কাজ হবে একই নকশা অন্য পরীক্ষাগারে পুনরাবৃত্তি করা এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতির মাপের সঙ্গে তুলনা করা। সিল করা খামটি রহস্যের নাটকীয় সমাধান দেয়নি; বরং দেখিয়েছে, বিজ্ঞানে অস্বস্তিকর সংখ্যাও প্রকাশিত হতেই পারে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



