Home International অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে বিতর্কে ট্রাম্প, তথ্য ফাঁসকারীদের জেল দেওয়ার হুঁশিয়ারি

অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে বিতর্কে ট্রাম্প, তথ্য ফাঁসকারীদের জেল দেওয়ার হুঁশিয়ারি

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
15 views 3 minutes read
A+A-
Reset

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের ভাণ্ডার দ্রুত ফুরিয়ে আসছে—এমন সব প্রতিবেদনকে সরাসরি উড়িয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু তা-ই নয়, সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার সংক্রান্ত গোপন তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করার অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প দাবি করেন, আমেরিকার হাতে এখনও ‘বিপুল পরিমাণ’ গোলাবারুদ রয়েছে এবং নতুন অস্ত্র ও গোলাবারুদ দ্রুত উৎপাদন করে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে।

নিজের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি লেখেন, “প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলি আমাদের দেশের ইতিহাসে সর্বাধিক সংখ্যক কারখানা ও উৎপাদনকেন্দ্র তৈরি করছে।” তবে ঠিক কোন অস্ত্র কত পরিমাণে তৈরি হচ্ছে বা বর্তমান মজুত কত, সে বিষয়ে তিনি কোনও নির্দিষ্ট তথ্য দেননি।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন ঘিরেই বিতর্ক

ট্রাম্পের এই প্রতিক্রিয়ার আগে The Washington Post-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত সপ্তাহে মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথের কাছে অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে ব্যাখ্যা চান প্রেসিডেন্ট। দুই অজ্ঞাত সূত্রের দাবি, ট্রাম্প নাকি হেগসেথকে বলেন, তাঁকে জানানো হয়েছিল সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে, অথচ বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, হেগসেথ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি দায়ের একাংশ ডেপুটি স্টিফেন ফাইনবার্গের উপর চাপানোর চেষ্টা করেন।

‘দেশদ্রোহিতামূলক’ তথ্য ফাঁস, ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

এসব প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। তথ্য ফাঁসকে তিনি ‘দেশদ্রোহিতামূলক’ বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, দায়ীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে।

তাঁর কথায়, “এই দেশদ্রোহিতামূলক তথ্য যারা ফাঁস করেছে, তাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। তাদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের ব্যবস্থা করা হবে।”

এদিকে The Wall Street Journal জানিয়েছে, অস্ত্রভাণ্ডার সংক্রান্ত তথ্য কীভাবে বাইরে এল, তা নিয়ে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাম্প।

সিএনএনের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে

অন্যদিকে CNN-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি ইতিমধ্যেই ইরান যুদ্ধের সামরিক কৌশলে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের THAAD (Terminal High Altitude Area Defense) ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে ফেলেছে।

The Washington Post-এর দাবি, অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কাই ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী বড় হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। যদিও তার আগে ট্রাম্প একাধিকবার তেহরানের বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের পাল্টা দাবি

হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগন—দুই পক্ষই এই সব প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানান, ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্প ও হেগসেথের মধ্যে কোনও তর্কাতর্কিই হয়নি।

এক্স-এ তিনি লেখেন, “আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং সেক্রেটারি হেগসেথের সঙ্গে ক্যাম্প ডেভিডে ছিলাম। এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি।”

হেগসেথের পদ নিয়ে জল্পনাও খারিজ করে লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট তাঁর কাজে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেলও ট্রাম্প-হেগসেথ দ্বন্দ্ব এবং অস্ত্রের ঘাটতি—দুই সংক্রান্ত খবরকেই ‘সম্পূর্ণ কাল্পনিক’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, হেগসেথ ডেপুটি স্টিফেন ফাইনবার্গের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করবেন।

পরবর্তীতে ট্রাম্প নিজেও হেগসেথের পাশে দাঁড়িয়ে লেখেন, “পিট হেগসেথ যে কাজ করছেন, তাতে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট।” প্রতিরক্ষাসচিবকে সরিয়ে দেওয়ার জল্পনাকেও তিনি ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন।

যুদ্ধের মাঝেই বাড়ছে প্রশ্ন

ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, অস্ত্রভাণ্ডারের প্রকৃত অবস্থা নিয়ে বিতর্ক থামছে না।

এরই মধ্যে পেন্টাগনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা, মার্কিন হতাহতের সংখ্যা প্রকাশে অনীহা এবং নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠক না করার অভিযোগও উঠেছে।

প্রাক্তন রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ও এমএসএনবিসি-র সঞ্চালক জো স্কারবরোও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নকে বারবার ‘ভুয়ো খবর’ বলে উড়িয়ে দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। তিনি বলেন, এই বিষয়ে কংগ্রেসের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, কারণ আমেরিকার জনগণের প্রকৃত তথ্য জানার অধিকার রয়েছে।

বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles