হলদওয়ানির ‘শুদ্ধিকরণ’ কাণ্ডে ২৪ দিনেও এফআইআর নেই, নাড্ডাকে প্রতিশ্রুতি স্মরণ করালেন খাড়্গে

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ার: হলদওয়ানির রামলীলা ময়দানে তাঁর জনসভার পরে কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্কের ২৪ দিন কেটে গেলেও কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি।
- এই নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্যসভার নেতা জগৎপ্রকাশ নাড্ডাকে চিঠি লিখলেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে।
- সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে উত্তরাখণ্ড সরকারকে অবিলম্বে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়ার জন্য নাড্ডার কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ার: হলদওয়ানির রামলীলা ময়দানে তাঁর জনসভার পরে কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্কের ২৪ দিন কেটে গেলেও কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি। এই নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্যসভার নেতা জগৎপ্রকাশ নাড্ডাকে চিঠি লিখলেন কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে। সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে উত্তরাখণ্ড সরকারকে অবিলম্বে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়ার জন্য নাড্ডার কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি।
গত ৮ আগস্ট উত্তরাখণ্ডের হলদওয়ানির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের জনসভায় বক্তৃতা করেছিলেন খাড়্গে। সভা শেষ হওয়ার পরে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্যেরা সেখানে যজ্ঞ করে ময়দানটির ‘শুদ্ধিকরণ’ করেন বলে অভিযোগ। দলিত সম্প্রদায়ের নেতা খাড়্গের সভার পরে এমন অনুষ্ঠানকে জাতপাত ও অস্পৃশ্যতার মানসিকতার প্রকাশ বলে অভিযোগ তোলে কংগ্রেস।
গত ১৩ আগস্ট রাজ্যসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন খাড়্গে। জবাবে সভার নেতা নাড্ডা ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেন। বিজেপি এই ধরনের কাজ সমর্থন করে না জানিয়ে তিনি তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণনও ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তার পরে ২৪ দিন কেটে গেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর হয়নি বলে ২ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে জানিয়েছেন খাড়্গে।
খাড়্গের বক্তব্য, তাঁর সভাস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ’ চালানো ভারতীয় সংবিধানের চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। সাধারণ ভাবে এই ধরনের ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রথার সঙ্গে অস্পৃশ্যতার প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। বিষয়টি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অপমান অথবা কংগ্রেস সভাপতির পদমর্যাদার প্রশ্ন নয়; প্রতিদিন জাতপাতের নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া দেশের কোটি কোটি মানুষের মর্যাদা ও অনুভূতির সঙ্গে এটি জড়িত।
চিঠিতে ঐতিহাসিক মাহাড় সত্যাগ্রহের প্রসঙ্গও এনেছেন খাড়্গে। তাঁর বক্তব্য, বাবাসাহেব ভীমরাও অম্বেডকর মাহাড়ের সর্বজনীন জলাশয় থেকে জল পান করার পরে জাতপাতের সমর্থকেরা গোবর ও গোমূত্রের ১০৮টি কলস ব্যবহার করে সেই জলাশয় ‘শুদ্ধ’ করেছিলেন। মন্ত্রোচ্চারণ কিংবা যজ্ঞ করলেই কোনও জাতিবিদ্বেষী কাজ পবিত্র হয়ে যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাড্ডাকে তাঁর সংসদীয় প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে খাড়্গে অনুরোধ করেছেন, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামিকে যেন অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কংগ্রেস রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছেও বিষয়টি নিয়ে ফের অভিযোগ জানাবে বলে জানিয়েছেন খাড়্গে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



