সংস্কৃতি ও বিনোদন

‘দ্য রানার’ : ছেলেকে বাঁচাতে গ্যাল গ্যাডটের দৌড়, কিন্তু চেনা ছকের বাইরে যেতে পারল না কাহিনি

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • বাংলাস্ফিয়ার: সকালবেলা দৌড়তে বেরিয়েছেন লন্ডনের সফল আইনজীবী তথা একা মা মায়া মার্টেন।
  • হঠাৎ একটি ফোন কল তাঁর গোটা জীবন ওলটপালট করে দেয়।
  • অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি জানায়, মায়ার ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ছেলে নোয়া এখন তাদের কবজায়।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

বাংলাস্ফিয়ার: সকালবেলা দৌড়তে বেরিয়েছেন লন্ডনের সফল আইনজীবী তথা একা মা মায়া মার্টেন। হঠাৎ একটি ফোন কল তাঁর গোটা জীবন ওলটপালট করে দেয়। অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি জানায়, মায়ার ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ছেলে নোয়া এখন তাদের কবজায়। তার শরীরে বসানো ইনসুলিন সরবরাহের যন্ত্রটিও নিয়ন্ত্রণ করছে অপহরণকারীরা। ছেলেকে বাঁচাতে হলে মায়াকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের নির্দেশ পালন করতে হবে। থামা যাবে না, কারও সাহায্য নেওয়া যাবে না—শুধু ছুটে যেতে হবে লন্ডনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতিই পরিচালক কেভিন ম্যাকডোনাল্ডের ‘দ্য রানার’-এর মূল অবলম্বন। বাস্তব সময়ের কাছাকাছি গতিতে গল্প এগিয়ে নিয়ে গিয়ে তিনি শুরু থেকেই দর্শকের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি করেন। পর্দায় মাঝেমধ্যে ভেসে ওঠে সময়ের হিসাব। প্রতিটি মিনিট ফুরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে মায়ার ছেলের জীবনও আরও বিপন্ন হয়ে পড়ে। ফলে কাহিনির অভিনবত্ব কম হলেও প্রথম দিকে উত্তেজনার অভাব হয় না।

কিন্তু সমস্যা হল, এমন গল্প দর্শক আগেও বহুবার দেখেছেন। একটি ফোন, অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক, পণবন্দি প্রিয়জন এবং সময়ের বিরুদ্ধে প্রধান চরিত্রের মরিয়া লড়াই—‘ফোন বুথ’, ‘স্পিড’ কিংবা ‘ডাই হার্ড উইথ আ ভেনজেন্স’-এর মতো ছবিতে এই সূত্রের নানা রূপ পাওয়া গেছে। ‘দ্য রানার’ সেই পরিচিত কাঠামোয় নতুন কোনও বাঁক যোগ করতে পারে না। অপরাধীদের প্রযুক্তিগত ক্ষমতা কখনও সর্বব্যাপী, আবার কাহিনির প্রয়োজনেই কখনও আশ্চর্যজনকভাবে সীমিত। এই অসংগতি রহস্যের বিশ্বাসযোগ্যতা কমায়।

গ্যাল গ্যাডটকে প্রায় গোটা ছবিতেই দৌড়তে হয়েছে। ভিড়, যানবাহন ও অলিগলি পেরিয়ে তাঁর শারীরিক পরিশ্রম বিশ্বাসযোগ্য। ক্লান্তি, আতঙ্ক এবং সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে এক মায়ের মরিয়া ভাবও কয়েকটি দৃশ্যে ফুটে ওঠে। কিন্তু চরিত্রটির আবেগগত গভীরতা তৈরির মতো অবকাশ চিত্রনাট্য তাঁকে দেয়নি। ফলে মায়াকে অনেক সময় রক্তমাংসের মানুষ না ভেবে একটি নিরন্তর ছুটে চলা শরীর বলেই মনে হয়। গ্যাডটের অভিনয়ও সেই সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি অতিক্রম করতে পারে না।

রহস্যময় ফোনকারীর কণ্ঠে ড্যামিয়ান লুইস সংযত শীতলতা এনেছেন। তাঁর উপস্থিতি আরও বেশি ব্যবহার করা গেলে খলচরিত্রটি ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারত। অ্যান্টনি ডড ম্যান্টলের ক্যামেরায় লন্ডনের রাস্তা ছবির অন্যতম আকর্ষণ। দ্রুত সম্পাদনা, অস্থির ক্যামেরা এবং উচ্চকিত আবহসঙ্গীত অবশ্য কিছু সময় পরে উত্তেজনা বাড়ানোর পরিবর্তে ক্লান্তি তৈরি করে।

মাত্র ৮৪ মিনিটের ‘দ্য রানার’ দ্রুত এগোয় এবং মাঝপথে দর্শককে থামতে দেয় না। তবু চূড়ান্ত বাঁকটি অতিরিক্ত সুবিধাজনক এবং অনুমানযোগ্য। গ্যাল গ্যাডট প্রাণপণ দৌড়েছেন, পরিচালকও গতি ধরে রেখেছেন; কিন্তু ছবিটি শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছেও কোনও স্থায়ী ছাপ রেখে যেতে পারে না। এটি উত্তেজনাপূর্ণ অথচ নিতান্তই মামুলি একবার-দেখার ছবি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles