খবর

আইন পড়ুয়াদের শাস্তি দিতে পারে না বার কাউন্সিল, সীমারেখা টানল সুপ্রিম কোর্ট

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • আইনের ছাত্রছাত্রীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ বা তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও বিধিবদ্ধ ক্ষমতা বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া কিংবা রাজ্য বার কাউন্সিলগুলির নেই।
  • একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এ কথা স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
  • আদালত জানিয়েছে, কোনও পড়ুয়া আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার পরেই বার কাউন্সিলের শৃঙ্খলারক্ষার ক্ষমতার আওতায় আসেন।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

আইনের ছাত্রছাত্রীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ বা তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও বিধিবদ্ধ ক্ষমতা বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া কিংবা রাজ্য বার কাউন্সিলগুলির নেই। একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এ কথা স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, কোনও পড়ুয়া আইনজীবী হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার পরেই বার কাউন্সিলের শৃঙ্খলারক্ষার ক্ষমতার আওতায় আসেন। তার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মমাফিক ব্যবস্থা নিতে পারে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ বা নালসার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দিয়েছে। নালসারের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ জানানোর বিরোধিতা করেছিলেন একাংশের পড়ুয়া। তার পরেই বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মননকুমার মিশ্র তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

বার কাউন্সিলের তরফে পাঠানো চিঠিতে সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াদের ভবিষ্যতে আইনজীবী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও ছিল। বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে নির্দেশগুলি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু ক্ষমতার সীমা সংক্রান্ত প্রশ্নটি থেকেই যায়। সুপ্রিম কোর্ট এবার বার কাউন্সিলের সেই নির্দেশগুলিকে আইনগত কর্তৃত্বহীন ঘোষণা করে খারিজ করে দিয়েছে।

বেঞ্চ বলেছে, ১৯৬১ সালের আইনজীবী আইনে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া বা রাজ্য বার কাউন্সিলকে আইন পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। ওই আইনের ৩৫ ও ৩৬ ধারায় পেশাগত বা অন্য অসদাচরণের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রয়েছে যথাক্রমে রাজ্য বার কাউন্সিল এবং বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার। কিন্তু সেই ক্ষমতা কেবল নথিভুক্ত আইনজীবীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

আইনশিক্ষার মান নির্ধারণ, পাঠ্যক্রম বা কোনও প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি সংক্রান্ত বিষয়ে বার কাউন্সিলের ভূমিকা থাকলেও তা ছাত্রদের উপরে সার্বিক শৃঙ্খলারক্ষার ক্ষমতায় পরিণত হতে পারে না। ছাত্রদের আচরণ নিয়ে অভিযোগ উঠলে বিশ্ববিদ্যালয় বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের বিধি মেনে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। সেখানে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি—অভিযোগ জানানো, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া এবং নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত—মানতে হবে।

এই রায়ের তাৎপর্য শুধু নালসারের কয়েক জন পড়ুয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পেশাগত নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। ভবিষ্যতে ছাত্রদের প্রতিবাদ, মতপ্রকাশ কিংবা ক্যাম্পাসের কোনও ঘটনাকে কেন্দ্র করে বার কাউন্সিল সরাসরি শাস্তির হুমকি দিতে পারবে না। আদালতের মূল বার্তা—বিধিবদ্ধ সংস্থা যত শক্তিশালীই হোক, আইনে দেওয়া ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করতে পারে না।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles