২৬/১১ মামলায় নতুন পদক্ষেপ, হাফিজ সইদ-সহ ছয় পাক অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতেই বিচারের প্রস্তুতি

যা জানা জরুরি
- মুম্বইয়ে ২৬ নভেম্বর ২০০৮-এর সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রায় ১৮ বছর পরে পাকিস্তানে থাকা মূল ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া শুরু করল ভারত।
- লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ মহম্মদ সইদ এবং জাকিউর রহমান লখভি-সহ ছয় পলাতক পাকিস্তানি অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতেই বিচার চালানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সহায়তা চেয়েছে মুম্বই পুলিশ।
- শুক্রবার মুম্বইয়ের বিশেষ আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ সরকারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
মুম্বইয়ে ২৬ নভেম্বর ২০০৮-এর সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রায় ১৮ বছর পরে পাকিস্তানে থাকা মূল ষড়যন্ত্রকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রক্রিয়া শুরু করল ভারত। লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ মহম্মদ সইদ এবং জাকিউর রহমান লখভি-সহ ছয় পলাতক পাকিস্তানি অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতেই বিচার চালানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সহায়তা চেয়েছে মুম্বই পুলিশ।
শুক্রবার মুম্বইয়ের বিশেষ আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ সরকারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেন। তিনি জানান, আদালতের জারি করা ঘোষণাপত্র পাকিস্তানে থাকা অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে সেই নির্দেশ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গত ৩ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে এ বিষয়ে অবস্থান জানাতে সময় চেয়েছিল।
ছয় অভিযুক্ত হলেন হাফিজ সইদ, জাকিউর রহমান লখভি, সাজিদ মির, আবু আলকামা, আসিম ওরফে আবু কাহাফা এবং মেজর আবদুর রহমান পাশা। এঁরা প্রত্যেকেই পাকিস্তানের নাগরিক। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার পরিকল্পনা, জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ এবং অভিযান চলাকালীন নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। জীবিত অবস্থায় ধরা পড়া একমাত্র হামলাকারী আজমল কাসভের জবানবন্দি এবং পরে রাজসাক্ষী হওয়া ডেভিড কোলম্যান হেডলির বক্তব্যেও তাঁদের ভূমিকার উল্লেখ রয়েছে।
মুম্বইয়ের বিশেষ আদালত চলতি বছরের জুলাইয়ে ছয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ঘোষণাপত্র জারি করেছিল। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫৬ নম্বর ধারায় কোনও ঘোষিত পলাতক অপরাধী ইচ্ছাকৃতভাবে বিচার এড়িয়ে গেলে এবং শীঘ্র তাঁকে গ্রেফতারের সম্ভাবনা না থাকলে তাঁর অনুপস্থিতিতেই পূর্ণাঙ্গ বিচার চালানো যায়। তবে বিচার শুরুর আগে আদালতকে অভিযুক্তের পলাতক থাকার কারণ নথিবদ্ধ করতে হবে এবং নির্ধারিত অপেক্ষার সময় অতিক্রান্ত হওয়া-সহ একাধিক আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে। অভিযুক্তের আইনজীবী না থাকলে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থাও রয়েছে।
অতএব, বিচার এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে না। ঘোষণাপত্র যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা এবং তার প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়ার পরেই পরবর্তী পর্যায়ে যাবে মামলা। সব শর্ত পূরণ হলে অভিযুক্তরা হাজির না থাকলেও সাক্ষ্যগ্রহণ, প্রমাণ পেশ এবং রায়দান সম্ভব হবে। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে তাঁদের ভারতে আনা গেলে সঙ্গে সঙ্গে সাজা কার্যকর করা যাবে।
২০০৮ সালের ওই হামলায় দশ পাকিস্তানি জঙ্গি সমুদ্রপথে মুম্বইয়ে ঢুকে তাজমহল প্যালেস, ওবেরয়-ট্রাইডেন্ট, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস ও নরিম্যান হাউস-সহ একাধিক জায়গায় আক্রমণ চালায়। ষাট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা হামলায় ১৬৬ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। কাসভকে দোষী সাব্যস্ত করার পরে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর পুণের ইয়েরওয়াড়া কারাগারে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। নতুন উদ্যোগটির লক্ষ্য, সীমান্তের ওপারে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধেও ভারতীয় আদালতে বিচার সম্পূর্ণ করা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



