দেশ

সফেদ সাগর থেকে সিঁদুর: বায়ুসেনার পরবর্তী প্রধান আশুতোষ দীক্ষিত কে?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • কার্গিল যুদ্ধের ‘অপারেশন সফেদ সাগর’ থেকে ‘অপারেশন সিঁদুর’—ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
  • প্রায় চার দশকের সেই কর্মজীবনের পর ভারতীয় বায়ুসেনার সর্বোচ্চ পদে আসছেন এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত।
  • মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে পরবর্তী বায়ুসেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

কার্গিল যুদ্ধের ‘অপারেশন সফেদ সাগর’ থেকে ‘অপারেশন সিঁদুর’—ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। প্রায় চার দশকের সেই কর্মজীবনের পর ভারতীয় বায়ুসেনার সর্বোচ্চ পদে আসছেন এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে পরবর্তী বায়ুসেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে। আগামী ৩১ অক্টোবর বিকেলে এয়ার চিফ মার্শাল পদমর্যাদায় দায়িত্ব নেবেন তিনি। হবেন দেশের ২৯তম বায়ুসেনাপ্রধান। বর্তমান প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিংহ ওই দিনই অবসর নেবেন।

বর্তমানে বায়ুসেনার ভাইস চিফ পদে রয়েছেন দীক্ষিত। চলতি বছরের ১ জুলাই এই দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর জন্ম ১৯৬৬ সালের ৯ ডিসেম্বর। ১৯৮৬ সালের ৬ ডিসেম্বর বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান শাখায় অফিসার হিসেবে যোগ দেন। ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি, বাংলাদেশের ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ এবং ভারতের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে তাঁর সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ হয়েছে।

দীক্ষিতের অভিজ্ঞতার বিশেষ দিক হল যুদ্ধবিমান চালানোর পাশাপাশি বিমান পরীক্ষা ও পাইলট প্রশিক্ষণে দক্ষতা। তিনি পরীক্ষামূলক বিমানের স্বীকৃত টেস্ট পাইলট এবং যোগ্য উড্ডয়ন প্রশিক্ষক। সাড়ে তিন হাজার ঘণ্টার বেশি বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। মিরাজ-২০০০, বিভিন্ন ধরনের মিগ, জাগুয়ার, তেজস, হক, কিরণ ও আইএল-৭৮-সহ বহু ধরনের বিমান উড়িয়েছেন। ফলে যুদ্ধবিমান, প্রশিক্ষণ বিমান এবং অন্যান্য সামরিক বিমানের কার্যক্ষমতা সম্পর্কে তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। টেস্ট পাইলটের কাজ শুধু বিমান ওড়ানো নয়। নতুন বা পরিবর্তিত বিমানের আচরণ, সক্ষমতা এবং সীমাবদ্ধতা যাচাই করাও এই দায়িত্বের অংশ। সেই অভিজ্ঞতা নতুন বিমান গ্রহণ, পুরনো বিমানের উন্নয়ন এবং পাইলটদের প্রয়োজন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। দীক্ষিতের কর্মজীবনে উড্ডয়ন ও প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের এই দুই ধারা পাশাপাশি চলেছে।

বায়ুসেনার ন’নম্বর স্কোয়াড্রনের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় সেটিকে মিরাজ-২০০০ দিয়ে নতুনভাবে সজ্জিত করার দায়িত্ব পালন করেন দীক্ষিত। এয়ার ফোর্স টেস্ট পাইলটস স্কুলেও প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান ঘাঁটি এবং দক্ষিণাঞ্চলের একটি প্রধান যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ ঘাঁটির দায়িত্ব সামলেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে বিমান পরিচালনা, প্রস্তুতি এবং প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত রেখেছে।

তাঁর কর্মজীবনে উল্লেখযোগ্য সামরিক অভিযানগুলির মধ্যে রয়েছে অপারেশন সফেদ সাগর, অপারেশন রক্ষক এবং অপারেশন সিঁদুর। ‘কোপ ইন্ডিয়া’ মহড়ার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। যুদ্ধের প্রস্তুতি, মহড়া এবং বাস্তব অভিযানের এই অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাতেও কাজ করেছেন। সদর দফতরে প্রকল্প ও পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী প্রধান এবং পরে ডেপুটি চিফ অব দ্য এয়ার স্টাফের দায়িত্ব পালন করেন।

উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও তাঁর অভিজ্ঞতা বিস্তৃত। সেন্ট্রাল এয়ার কমান্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরে তিনি চিফ অব ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ হন। এই পদে স্থলসেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁর মেয়াদে একাধিক যৌথ সামরিক নীতিপত্র ও নির্দেশ প্রকাশিত হয়। তিন বাহিনীর কার্যক্রমকে আরও সংহত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়।

দেশীয় প্রযুক্তির সঙ্গে তাঁর সংযোগও উল্লেখযোগ্য। হালকা যুদ্ধবিমান তেজস এবং অন্যান্য দেশীয় বিমান প্রকল্পে দীক্ষিতের ভূমিকা রয়েছে। আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক কাজের উদাহরণও পাওয়া যায়। সেপ্টেম্বরে পোখরানে বায়ুসেনার প্রথম ‘ড্রোনাথন-২০২৬’ উদ্বোধন করেন তিনি। চালকবিহীন সামরিক ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে ওই উদ্যোগে কুড়িটির বেশি প্রতিরক্ষা সংস্থা, স্টার্টআপ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ছিল।

দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে দীক্ষিত ২০০৬ সালে বায়ুসেনা পদক, ২০১১ সালে বিশিষ্ট সেবা পদক, ২০২৩ সালে অতি বিশিষ্ট সেবা পদক এবং ২০২৬ সালে পরম বিশিষ্ট সেবা পদক পেয়েছেন। যুদ্ধবিমানের ককপিট, পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন, ঘাঁটির পরিচালনা এবং তিন বাহিনীর সমন্বয়—এই বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা নিয়েই বায়ুসেনার নেতৃত্বে আসছেন তিনি। তাঁর নতুন দায়িত্বে সেই অভিজ্ঞতার প্রয়োগের ক্ষেত্র হবে সমগ্র বাহিনীর প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles