দেশ

চামোলিতে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্প, রাতের দিল্লি-এনসিআরেও অনুভূত কম্পন

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় মঙ্গলবার রাতে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা।
  • ৬ অক্টোবর রাতের এই কম্পনের পর অনেকেই সমাজমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা জানান।
  • প্রাথমিক সংবাদ অনুযায়ী, ভূমিকম্পে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় মঙ্গলবার রাতে ৪.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা। ৬ অক্টোবর রাতের এই কম্পনের পর অনেকেই সমাজমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা জানান। প্রাথমিক সংবাদ অনুযায়ী, ভূমিকম্পে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্রথম দফার তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ চিত্র নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

জাতীয় ভূকম্পবিজ্ঞান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি হয়। মাটির ১৩ কিলোমিটার গভীরে ছিল কম্পনের উৎস। উপকেন্দ্রের অবস্থান ছিল ৩০.১০৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৭৯.৫৬১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। সরকারি নথিতে ঘটনাটির তথ্য পর্যালোচিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রটির হিসাব অনুযায়ী, উপকেন্দ্র নয়াদিল্লি থেকে প্রায় ২৮২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং নয়ডা থেকে প্রায় ২৭৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

কম্পনের পরপরই দিল্লির বাসিন্দাদের মধ্যে সমাজমাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়। কেউ জানতে চান, অন্যরাও একই সময়ে কাঁপুনি অনুভব করেছেন কি না। দক্ষিণ দিল্লির সফদরজং এলাকার এক ব্যবহারকারী জানান, তাঁর সোফা নড়ে উঠেছিল।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাত প্রায় ১০টা ৪০ মিনিটে জাতীয় ভূকম্পবিজ্ঞান কেন্দ্রের নিশ্চিত তথ্য সামনে আসে। তার আগে অনেকেই নিজেদের অনুভূতি মিলিয়ে দেখছিলেন অন্যদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে। উদ্বেগের পাশাপাশি এক্সে ভূমিকম্প নিয়ে নানা রসিকতা ও মিমও ছড়িয়ে পড়ে।

জাতীয় ভূকম্পবিজ্ঞান কেন্দ্রের ওয়েবসাইটে এই ভূমিকম্প অনুভব করার অভিজ্ঞতা জানানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। সেখানে বাসিন্দারা কম্পনের সময় কোথায় ছিলেন, ঘরের ভিতরে না বাইরে ছিলেন এবং কী ধরনের ভবনে ছিলেন, সেই তথ্য দিতে পারেন। অবস্থানও মানচিত্রে চিহ্নিত করা যায়।

দিল্লি থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও রাজধানী অঞ্চলে তার প্রভাব অনুভূত হয়েছে। তবে কোথায় কতটা কাঁপুনি হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর শুধু ভূমিকম্পের মাত্রা দিয়ে পাওয়া যায় না। একই ভূমিকম্পের অভিঘাত স্থানভেদে আলাদা হতে পারে। উপকেন্দ্র থেকে দূরত্বের পাশাপাশি স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক গঠনও কাঁপুনির তারতম্যে ভূমিকা রাখে। ফলে একজন বাসিন্দার অভিজ্ঞতাকে গোটা শহরের পরিস্থিতির সমতুল্য ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ভূকম্পবিজ্ঞানে ভূমিকম্পের মাত্রা এবং কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় অনুভূত কম্পনের তীব্রতা আলাদা বিষয়। মাত্রা দিয়ে উৎসে ভূমিকম্পের আকার বোঝানো হয়। অন্যদিকে, তীব্রতা বোঝায় কোনও স্থানে মানুষ, বাড়িঘর বা অন্যান্য বস্তুর উপর কম্পনের কী প্রভাব পড়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএসজিএসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একটি ভূমিকম্পের মাত্রা এক হলেও বিভিন্ন স্থানে তার তীব্রতা ভিন্ন হতে পারে। তাই চামোলির ভূমিকম্পের মাত্রা ৪.৯ বলার অর্থ দিল্লির সর্বত্র একই রকম কাঁপুনি হয়েছে, এমন নয়।

উত্তরাখণ্ডের এই ঘটনা হিমালয় অঞ্চলের ভূমিকম্পপ্রবণতার বিষয়টিও সামনে আনল। ইউএসজিএসের গবেষণা অনুযায়ী, ভারতীয় ও ইউরেশীয় ভূত্বকীয় পাতের সংঘর্ষ এই অঞ্চলের ভূমিকম্পের প্রধান কারণ। পাত দু’টি বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিলিমিটার আপেক্ষিক গতিতে পরস্পরের দিকে এগোচ্ছে। ভারতীয় পাত উত্তরদিকে ইউরেশীয় পাতের নীচে প্রবেশ করতে থাকায় এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভূমিকম্প ঘটে। এই ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে হিমালয় বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল।

একই দিনে অসমের নগাঁও জেলাতেও ভূমিকম্প হয়েছিল। জাতীয় ভূকম্পবিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, ভোর ৪টা ২৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে সেখানে ৪.৫ মাত্রার কম্পন রেকর্ড হয়। তার উৎস ছিল মাটির ৩৩ কিলোমিটার গভীরে। অর্থাৎ, মঙ্গলবার ভোরে উত্তর-পূর্ব ভারতে এবং রাতে উত্তরাখণ্ডে পৃথক দুটি ভূকম্পনের খবর পাওয়া গেল। সময়, অবস্থান ও গভীরতার নিরিখে দুটি ঘটনার সরকারি তথ্যও আলাদা।

চামোলির ঘটনায় আপাতত নিশ্চিত তথ্য হল কম্পনের সময়, মাত্রা, উৎসের গভীরতা এবং দিল্লি-এনসিআরে তার অনুভূত হওয়ার খবর। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বড় ক্ষতির খবর না থাকলেও সেটিকে চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে স্থানীয় পর্যায়ের যাচাই করা তথ্যই প্রয়োজন।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles