Home খবর উত্তরাখণ্ডে ফের প্রশ্নফাঁস কাণ্ড: টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সেমেস্টার পরীক্ষা বাতিল, গ্রেফতার প্রশ্নপ্রণেতা

উত্তরাখণ্ডে ফের প্রশ্নফাঁস কাণ্ড: টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সেমেস্টার পরীক্ষা বাতিল, গ্রেফতার প্রশ্নপ্রণেতা

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
4 views 3 minutes read
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: উত্তরাখণ্ডে আবারও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে শিক্ষা মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভীর মাধো সিং ভান্ডারি উত্তরাখণ্ড টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি (ভিএমএসবিইউটিইউ), দেরাদুন চলতি সেমেস্টারের দুটি পরীক্ষা বাতিল করেছে। অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিযুক্ত এক বহিরাগত প্রশ্নপ্রণেতা পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায় এমন প্রশ্ন ছাত্রদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ ও কলেজের অভ্যন্তরীণ পোর্টালের মাধ্যমে পৌঁছে দিয়েছিলেন। ঘটনার তদন্তের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কন্ট্রোলার অব এক্সামিনেশন ড. ভি কে প্যাটেল জারি করা নির্দেশে জানান, প্রথমে ‘মেশিন লার্নিং ফর ইন্টারনেট অব থিংস’ (Machine Learning for Internet of Things) বিষয়ের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পৃথকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে উঠে আসে, ওই বিষয়ের বহিরাগত প্রশ্নপ্রণেতা পরীক্ষার আগেই ছাত্রদের কাছে এমন প্রশ্ন পাঠিয়েছিলেন, যা পরে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে প্রায় হুবহু উঠে আসে।

তদন্তের সময় আরও একটি গুরুতর তথ্য সামনে আসে। একই অধ্যাপক ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড থিয়োরি’ (Electromagnetic Field Theory) বিষয়ের প্রশ্নপত্রও তৈরি করেছিলেন এবং সেই প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে তদন্ত কমিটি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় দুটি বিষয়ের পরীক্ষাই বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাতিল হওয়া দুটি পরীক্ষা আগামী আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা এই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হবেন। সংশ্লিষ্ট সব কলেজকে অবিলম্বে ছাত্রছাত্রীদের নতুন পরীক্ষার সূচি সম্পর্কে জানিয়ে প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় অভিযুক্ত প্রশ্নপ্রণেতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। তাঁকে আগামী সাত বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষা-সংক্রান্ত কাজ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট কলেজকে পর্যাপ্ত নজরদারি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছে।

শিবালিক কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিরেক্টর ড. টি এস সিধু জানান, অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রায় ৫০টি প্রশ্ন ছাত্রদের পাঠিয়েছিলেন। পরে দেখা যায়, সেই প্রশ্নগুলির উল্লেখযোগ্য অংশ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে উঠে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ার পর তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষের বরখাস্তের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৮ জুলাই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ পাওয়ার পর ১০ জুলাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ১৩ জুলাই তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ে এবং ১৪ জুলাই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে প্রথম দফায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তখন তাঁকে তিন বছরের জন্য প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব তদন্ত সম্পন্ন করে ২২ জুলাই জানায়, প্রশ্নফাঁসের জন্য ওই অধ্যাপকই দায়ী। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাত বছরের জন্য পরীক্ষা-সংক্রান্ত সমস্ত কাজ থেকে নিষিদ্ধ করে। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।

বরখাস্তের চিঠিতে কলেজ জানায়, অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশ্বাসভঙ্গ, পেশাগত নীতিবোধের গুরুতর লঙ্ঘন এবং প্রতিষ্ঠানের সুনামের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই নিয়োগপত্রের সংশ্লিষ্ট ধারার ক্ষমতাবলে তাঁর চাকরি অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে।

এই ঘটনা উত্তরাখণ্ডে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রশ্নফাঁসের একাধিক ঘটনার স্মৃতি আবারও উসকে দিয়েছে। গত বছর উত্তরাখণ্ড সাবঅর্ডিনেট সার্ভিসেস সিলেকশন কমিশনের একটি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। তারও আগে ২০২৩ সালে ইউকেপিএসসি-র পাটওয়ারি ও অ্যাকাউন্ট্যান্ট নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত সেই পরীক্ষাও বাতিল করতে বাধ্য হয় সরকার।

এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলির পর পরীক্ষায় জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁস রুখতে উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকার কঠোর আইন প্রণয়ন করেছিল। তবুও ফের বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসায় পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়া এবং ডিজিটাল মাধ্যমে গোপনীয় তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কঠোর আইন করলেই হবে না, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, জবাবদিহি এবং দায়বদ্ধতা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles