‘টক্সিক’ নিয়ে রিভিউ, আইনি নোটিস ইউটিউবারকে

যা জানা জরুরি
- ছবি মুক্তির আগেই আদালতের একতরফা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’-এর নির্মাতারা।
- ছবিটি নিয়ে মিথ্যা বা মানহানিকর কোনও বিষয়বস্তু প্রকাশ বা প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বেঙ্গালুরুর একটি আদালত।
- এ বার ছবি মুক্তির এক দিন পরেই সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ছবি মুক্তির আগেই আদালতের একতরফা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’-এর নির্মাতারা। ছবিটি নিয়ে মিথ্যা বা মানহানিকর কোনও বিষয়বস্তু প্রকাশ বা প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বেঙ্গালুরুর একটি আদালত। এ বার ছবি মুক্তির এক দিন পরেই সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা। বৃহস্পতিবার ইউটিউবার সুরজ কুমার দাবি করলেন, তাঁর করা ছবির পর্যালোচনার জন্য নির্মাতাদের তরফে তাঁকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিসটির ছবিও সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন তিনি।
রিভিউ করেই নোটিস?
সুরজ বেঙ্গালুরুর সংস্থা আইপ্লেক্স সফটওয়্যার প্রাইভেট লিমিটেডের পাঠানো একটি ইমেলের ছবি প্রকাশ করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, কেভিএন মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনস এলএলপি-র হয়ে ওই নোটিস পাঠানো হয়েছে। সংস্থাটিকে ছবিটির প্রযোজক ও স্বত্বাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিসে অভিযোগ করা হয়েছে, সুরজ ডিজিটাল বা অনলাইন মাধ্যমে ‘টক্সিক’-সংক্রান্ত বিষয়বস্তু প্রকাশ, প্রচার, ভাগ করে নেওয়া, পোস্ট করা কিংবা অন্য কোনও ভাবে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর ছবির পর্যালোচনার একটি অনলাইন সংযোগও নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত অবশ্য সেই ভিডিয়োটি দেখা যাচ্ছিল।
নোটিসে আরও বলা হয়েছে, প্রযোজকদের হয়ে আইনি নোটিস পাঠানো, সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো, সার্চ ফল থেকে তা বাদ দেওয়ার অনুরোধ করা এবং প্রয়োজনে তা আটকে দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ করার ক্ষমতা আইপ্লেক্সকে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও অনলাইন মধ্যস্থতাকারী সংস্থা, ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী, সার্চ ইঞ্জিন, ডোমেন নিবন্ধক, অ্যাকাউন্ট বা চ্যানেলের প্রশাসক, ওয়েবসাইটে তথ্য সংরক্ষণকারী সংস্থা, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতিও রয়েছে ওই সংস্থার।
প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ১৩ জুলাই থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রযোজকদের হয়ে এই পদক্ষেপগুলি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এক্সে নোটিসের ছবি পোস্ট করে সুরজ কটাক্ষের সুরে লিখেছেন, “আমার পর্যালোচনার জন্য আইনি নোটিস পাঠানোয় টিম #Toxic-কে ধন্যবাদ।”
তবে আইপ্লেক্সের মাধ্যমে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ‘বারবেল পিচ মিটিংস’ নামে একটি চ্যানেলের তেলুগু ইউটিউবার সুশান্ত অভিযোগ করেছিলেন, ছবি মুক্তির পর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহান্তে নেতিবাচক পর্যালোচনা সাময়িক ভাবে ঠেকাতে সংস্থাটি স্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং আইনি নোটিসকে হাতিয়ার করছে।
আদালতের নিষেধাজ্ঞায় কী বলা হয়েছিল?
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ‘টক্সিক’ নিয়ে মিথ্যা বা মানহানিকর বিষয়বস্তু প্রকাশ কিংবা প্রচারের বিরুদ্ধে একতরফা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বেঙ্গালুরুর একটি আদালত।
এক্স কর্প-সহ একাধিক বিবাদীর বিরুদ্ধে কেভিএন প্রোডাকশনস এলএলপি-র করা মামলায় ২২ অগস্ট এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় অতিরিক্ত সিটি সিভিল ও দায়রা আদালত। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বোঝাতে মামলায় ‘জন ডো’ পক্ষকেও বিবাদী করা হয়েছে।
আদালত জানিয়েছে, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত, অর্থাৎ ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। তবে যে উদ্দেশ্যে নির্দেশটি দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে অন্য কোনও কাজে তা ব্যবহার করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করেছে আদালত।
আদালতের আরও শর্ত, মামলাকারী নির্ধারিত শর্তগুলি মেনে না চললে কোনও অতিরিক্ত নোটিস ছাড়াই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে।
অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি-সহ বিবাদীদের বিরুদ্ধে একতরফা নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছিলেন প্রযোজকেরা। দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৯ নম্বর আদেশের ১ ও ২ নম্বর বিধির আওতায় ওই আবেদন করা হয়েছিল।
‘টক্সিক’-এ কারা?
গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’-এর প্রযোজক বেঙ্কট কে নারায়ণ এবং যশ। কেভিএন প্রোডাকশনস এবং মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনস এলএলপির ব্যানারে ছবিটি প্রযোজনা করেছেন তাঁরা।
ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছেন যশ। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন কিয়ারা আডবাণী, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া এবং রুক্মিণী বসন্ত।
ছবি মুক্তির আগেই আদালতের নিষেধাজ্ঞা, আর মুক্তির পরেই ইউটিউবারকে আইনি নোটিস—‘টক্সিক’ ঘিরে বিতর্ক যে পর্দার বাইরেও বেশ জোরালো, তা বলাই যায়।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



