আমেরিকায় খুন, আট মাস পরে আগ্রায় ধৃত

যা জানা জরুরি
- আমেরিকায় এক তরুণীকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে প্রায় আট মাস পরে আগ্রার একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
- নিহত তরুণীর বাবার করা আর্থিক প্রতারণার মামলায় অভিযুক্তের খোঁজ চালাচ্ছিল হায়দরাবাদ পুলিশ।
- সেই তদন্তের সূত্র ধরেই আগ্রায় সন্ধান মেলে অর্জুন শর্মার।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
আমেরিকায় এক তরুণীকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে প্রায় আট মাস পরে আগ্রার একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। নিহত তরুণীর বাবার করা আর্থিক প্রতারণার মামলায় অভিযুক্তের খোঁজ চালাচ্ছিল হায়দরাবাদ পুলিশ। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই আগ্রায় সন্ধান মেলে অর্জুন শর্মার।
গত ২ জানুয়ারি আমেরিকার মেরিল্যান্ডের পুলিশের কাছে অর্জুন নিজেই অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা নববর্ষের আগের সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ। পরের দিন, ২৬ বছরের অর্জুনের অ্যাপার্টমেন্ট থেকেই উদ্ধার হয় সেকেন্দরাবাদের বাসিন্দা ২৭ বছরের নিকিতা রাও গোদিশালার দেহ। পুলিশের দাবি, তত ক্ষণে আমেরিকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন অর্জুন।
প্রায় আট মাস পরে হায়দরাবাদের লালাগুড়া থানার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আগ্রার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
লালাগুড়া থানার পরিদর্শক বি রবি কিরণ জানান, নিকিতার বাবা আনন্দ গোদিশালা তাঁদের কাছে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।
তাঁর কথায়, “আমেরিকায় কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে আমরা সিআইডি এবং সিবিআইয়ের সাহায্য নিয়েছিলাম। তবে ওই খুনের মামলার সঙ্গে আমাদের তদন্তের কোনও যোগ নেই।”
কিরণ জানান, নিকিতার বাবার অভিযোগ ছিল, শর্মা তাঁর মেয়ের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন এবং তা ফেরত না দিয়ে প্রতারণা করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই হায়দরাবাদে পৃথক এফআইআর করা হয়।
তিনি বলেন, “প্রতারণার মামলায় জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় আমরা তাঁর খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছিলাম। খুনের পরে তিনি আমেরিকা থেকে ভারতে পালিয়ে এসেছেন জানতে পেরে তাঁর অবস্থান খুঁজতে শুরু করি। আগ্রার একটি ফ্ল্যাটে তাঁর সন্ধান পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাই।”
পুলিশ জানিয়েছে, অর্জুনকে নয়াদিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতে হাজির করানো হয়েছে। প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত মামলার শুনানি এই আদালতেই হয়।
কিরণের কথায়, “এখন পরবর্তী পদক্ষেপ করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের।”
এ দিকে ভারত-আমেরিকা প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় অর্জুনকে আমেরিকায় ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
থেমে গেল সম্ভাবনাময় জীবন
মেরিল্যান্ডের এলিকট সিটিতে থাকতেন নিকিতা। পেশায় ছিলেন তথ্য বিশ্লেষক। হায়দরাবাদের জওহরলাল নেহরু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ওষুধবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকায় যান। পরে মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বাস্থ্য তথ্যপ্রযুক্তিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
গত ৪ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হাওয়ার্ড কাউন্টি পুলিশ জানায়, ২ জানুয়ারি নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকের অ্যাপার্টমেন্টে তরুণীর দেহ পাওয়া যায়। দেহে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। শর্মার বিরুদ্ধে প্রথম ও দ্বিতীয় মাত্রার হত্যার অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানাও সংগ্রহ করে পুলিশ।
মার্কিন পুলিশের দাবি, নিখোঁজের অভিযোগটি অর্জুন নিজেই করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ৩১ ডিসেম্বর নিজের অ্যাপার্টমেন্টে শেষ বার নিকিতাকে দেখেছিলেন। পরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, অভিযোগ দায়ের করার দিনই ভারতের উদ্দেশে বিমানে দেশ ছেড়েছিলেন তিনি।
তদন্তকারীদের অনুমান, ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার কিছু পরেই নিকিতাকে খুন করা হয়।
‘প্রাক্তন প্রেমিক ছিলেন না’
তবে মার্কিন পুলিশের বর্ণনার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন নিকিতার বাবা। তাঁর দাবি, অর্জুন নিকিতার প্রাক্তন প্রেমিক ছিলেন না। একসময় তাঁরা একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। দু’জনের মধ্যে টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ ছিল বলেও দাবি তাঁর।
আনন্দ গোদিশালা ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে জানিয়েছিলেন, ২০২১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকায় যান নিকিতা। পরে সেখানেই চাকরি শুরু করেন।
তাঁর কথায়, “ও উচ্চশিক্ষার জন্য গিয়েছিল। পরে সেখানেই কাজ শুরু করে। অভিযুক্তকে ওর প্রাক্তন প্রেমিক বলা ঠিক নয়। ওরা আগে একই ফ্ল্যাটে থাকত।”
তিনি জানান, ওই অ্যাপার্টমেন্টে মোট চার জন থাকতেন। চাকরি শুরু করার প্রায় দু’বছর পরে নিকিতা আলাদা ফ্ল্যাটে চলে যান।
অর্জুনের সঙ্গে তাঁর মেয়ের টাকা-পয়সা নিয়ে কোনও বিরোধ ছিল বলেই তাঁর ধারণা।
ফলে এক দিকে মার্কিন পুলিশের খুনের তদন্ত, অন্য দিকে ভারতে দায়ের হওয়া প্রতারণার মামলা—দুই সূত্রেই এগিয়েছে অর্জুনের খোঁজ। আট মাস পরে আগ্রা থেকে গ্রেফতারির পর এখন নজর প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার দিকে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



