International

বন্ধ হয়ে ফের খুলল ‘অ্যাহেড’

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতকে নিয়ে আয়োজিত হতে চলা একটি অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ‘আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’ বা ‘অ্যাহেড…
  • বৃহস্পতিবার অল্প সময়ের জন্য অ্যাকাউন্টটি ব্যবহারকারীদের কাছে অনুপলব্ধ হয়ে যায়।
  • অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার পরেই ‘অ্যাহেড ফোরাম’ জানায়, তারা আবার ‘ফিরে এসেছে’।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতকে নিয়ে আয়োজিত হতে চলা একটি অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ‘আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’ বা ‘অ্যাহেড ফোরাম’-এর ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ফের চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবার অল্প সময়ের জন্য অ্যাকাউন্টটি ব্যবহারকারীদের কাছে অনুপলব্ধ হয়ে যায়।

অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার পরেই ‘অ্যাহেড ফোরাম’ জানায়, তারা আবার ‘ফিরে এসেছে’। সংগঠনটির অভিযোগ, কয়েক জন ‘বিভ্রান্ত বিরোধী’ স্বয়ংক্রিয় ভুয়ো অ্যাকাউন্ট বা ‘বট’ ব্যবহার করে এক্স-এর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তার জেরেই তাদের অ্যাকাউন্টটি সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যায় বলে দাবি সংগঠনটির।

অ্যাকাউন্ট দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং ওই ভুয়ো অ্যাকাউন্টগুলি সরিয়ে দেওয়ার জন্য এক্স-এর কর্তৃপক্ষ ও তাদের সহায়তা বিভাগকে ধন্যবাদও জানিয়েছে অ্যাহেড ফোরাম।

সংগঠনটির পোস্টে বলা হয়েছে, “আমরা আবার ফিরে এসেছি!” তাদের দাবি, কয়েক জন বিরোধী বট ব্যবহার করে এক্স-এর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করানোর চেষ্টা করেছিলেন। এরপরেই পোস্টে সংগঠনটি জানিয়েছে, এখন তারা ফের ‘বিশ্বজনীন সম্প্রীতি ও বিশ্বজনীন একাত্মতা উদ্‌যাপন’-এর মূল কর্মসূচিতে মন দিতে চায়।

অ্যাকাউন্টটি সাময়িক ভাবে বন্ধ থাকার সময়ে ব্যবহারকারীদের কাছে সেটি ‘অনুপলব্ধ’ দেখাচ্ছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাহেড ফোরাম প্রথমে ঘটনাটিকে এক্স-এর একটি ভুল বলেই দাবি করেছিল।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ওই অনুষ্ঠান ও আরএসএসের প্রকাশ্য সমালোচনা করার দু’দিনও কাটেনি। যদিও একই সঙ্গে মামদানি স্বীকার করেছেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার আইনি ক্ষমতা নিউ ইয়র্ক নগর প্রশাসনের সম্ভবত নেই।

আগামী ২৯ আগস্ট নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে মোহন ভাগবতকে নিয়ে ওই সমাবেশ হওয়ার কথা।

সাংবাদিক বৈঠকে ভাগবতের সফর এবং অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে মামদানি বলেন, ভারতে এমন একটি আন্দোলনের উত্থান দেখা ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’, যা তাঁর মতে ‘বর্জনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি’র উপর প্রতিষ্ঠিত।

তবে সমালোচনার পাশাপাশি নিজের ভারতীয় পারিবারিক পরিচয়ের কথাও তুলে ধরেছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র। মামদানি বলেন, “আমি এই শহরের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান মেয়র হিসাবেও এখানে দাঁড়িয়ে আছি। আমার মায়ের পরিবারের সকলেই এখনও ভারতে থাকেন।”

তাঁর কথায়, পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া এবং শৈশব থেকে পরিচিত ভারতের ধারণা হল একটি বহুত্ববাদী সমাজ ও ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রের—যেখানে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিতে বিশ্বাস করা হয়।

এ দিকে, ভাগবতের সফর ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমেরিকার আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের কয়েক জন সদস্যও। তাঁদের দাবি, ভাগবতকে যেন কোনও কূটনৈতিক সৌজন্য দেওয়া না হয়। পাশাপাশি আরএসএসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিও উঠেছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিশনের অভিযোগ, আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সংগঠন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক হামলায় জড়িত।

তবে এই সমালোচনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট এবং ভারত সম্পর্কে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে তাদের।

অর্থাৎ, ২৯ আগস্টের সমাবেশ এখনও মাঠেই নামেনি—কিন্তু তাকে ঘিরে বিতর্ক ইতিমধ্যেই অনলাইনের পর্দা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চেও পৌঁছে গিয়েছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles