সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা প্রকাশ নিয়ে বিতর্কে সরব হলেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ এবং চিন-সংক্রান্ত কিছু অংশ বাদ দেওয়া বা বদলানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া অবশ্য জানিয়েছে, লেখক সম্পাদনার প্রস্তাব মানেননি বলেই তারা বইটি প্রকাশ করছে না—এমন দাবি ঘটনার যথাযথ প্রতিফলন নয়।

রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেন, “প্রকাশক মূলত চিন, মোদী এবং আরএসএস-সংক্রান্ত অংশগুলি সম্পাদনা করতে বা বাদ দিতে চেয়েছিল। সরকারি হস্তক্ষেপের কারণেই এমন হয়েছে। ওরা একজন মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শেষ করে দিতে চায়। তিনি এত বড় মাপের নেত্রী, বিরোধী দলনেত্রী এবং জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারপার্সন ছিলেন। তিনি তথ্য লিখছেন, গল্প লিখছেন না। নিজের জীবন ও অভিজ্ঞতার কথা লিখছেন। তথ্যকে অস্বীকার করবেন কী করে? তথ্যের উপর নিষেধাজ্ঞাই বা চাপাবেন কী করে?”

পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া যে সোনিয়াকে মোদী, আরএসএস এবং চিন-সংক্রান্ত অংশগুলি বদলাতে বলেছিল, তা তিনি কীভাবে জানলেন—এই প্রশ্নে গেহলট বলেন, “এমনটাই শুনেছি। দলের মধ্যে এই কথাই হচ্ছে। আমি পাণ্ডুলিপি দেখিনি বা পড়িনি।”

এ নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে গেহলট বলেন, “না, হয়নি।”

পেঙ্গুইনের বক্তব্য

এক বিবৃতিতে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া জানিয়েছে, “ভারতে ‘বিলংগিং’-এর প্রকাশক পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া নয়। লেখক সম্পাদনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া বইটি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন কোনও বক্তব্য ঘটনার যথাযথ প্রতিফলন নয়।

“প্রকাশক হিসেবে তথ্য যাচাই করা এবং বইয়ের স্বার্থে লেখকদের পরামর্শ দেওয়া আমাদের অধিকার ও দায়িত্ব। এটি প্রকাশনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অঙ্গ। সংশ্লিষ্ট আলোচনা চলাকালীন আমাদের অবস্থান ছিল, আমরা বইটি প্রকাশ করতে ইচ্ছুক ও আগ্রহী।

“লেখকের সঙ্গে গোপনীয় আলোচনা নিয়ে আমরা আর কোনও মন্তব্য করব না।”

এর আগে ওই দিন এক্স-এ গেহলট লেখেন, “কী এমন কারণ বা চাপ রয়েছে যে, যা গোটা বিশ্বে প্রকাশিত হচ্ছে, তা ভারতে প্রকাশ করা যাচ্ছে না? সোনিয়া গান্ধীজির জীবন ত্যাগ ও নিষ্ঠার উদাহরণ। যে সততা ও মর্যাদার সঙ্গে তিনি দেশের সেবা করেছেন, তা অনুকরণীয়।”

গেহলটের অভিযোগ, সোনিয়া গান্ধীর মতো “এত বড় মাপের ব্যক্তিত্ব, দেশের প্রবীণ নেত্রী এবং প্রাক্তন বিরোধী দলনেত্রীর” বই চাপের মুখে আটকে দেওয়া “মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হত্যা করার শামিল”।

তিনি আরও লেখেন, “আসল বিষয় হল, মোদী, আরএসএস এবং মোদীর শাসনকালে চিনের ভারতীয় ভূখণ্ড দখল-সংক্রান্ত অংশগুলি বাদ দেওয়ার জন্য পেঙ্গুইন ইন্ডিয়ার উপর চাপ দেওয়া হয়েছিল। এ গণতন্ত্রের হত্যা। ভারতের মানুষের কাছে এই সত্য গোপন করা হচ্ছে কেন? প্রকাশকদের উপর চাপ দিয়ে মোদী সরকার কি তথ্যও বদলে দেবে?”

উদ্বেগ প্রকাশ কমল নাথেরও

বিতর্কে মুখ খুলেছেন মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথও। প্রকাশকের সিদ্ধান্তকে তিনি “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” বলেছেন।

এক্স-এ তিনি লেখেন, “শ্রীমতী গান্ধীর মতো একজন প্রবীণ ব্যক্তিত্ব কী লিখবেন আর কী লিখবেন না, তা কি প্রকাশক ঠিক করে দেবে? প্রশ্ন উঠছে, প্রকাশক কি নিজের থেকেই এ কথা বলছে, নাকি তার উপর কারও চাপ রয়েছে? এর আগেও সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের প্রকাশ বন্ধ করা হয়েছে। এই প্রবণতাকে আমি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে গুরুতর বিপদ বলে মনে করি। শ্রীমতী গান্ধীর আত্মজীবনী দ্রুত প্রকাশিত হওয়া উচিত।”

পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া সরে যাওয়ায় এখন একাধিক ভারতীয় প্রকাশক বইটি প্রকাশের দৌড়ে রয়েছে। জানা যাচ্ছে, ভারতে সোনিয়া গান্ধীর স্মৃতিকথা প্রকাশ ও বিতরণের চুক্তি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি পৌঁছেছে হার্পারকলিন্স।