মোড়কেই বিপত্তি, সিপলার লাইসেন্স বাতিল

যা জানা জরুরি
- পুণে: ওষুধের মোড়কে অনুমোদনহীন প্রচারমূলক দাবি, সংরক্ষণবিধিতে গাফিলতি এবং বাজার থেকে ওষুধ প্রত্যাহারের নির্দেশ ঠিকমতো কার্যকর না করার অভিযোগ—সব মিলিয়ে বিপাকে সিপলা।
- পুণের ওয়াডকি এলাকার সংস্থাটির ওষুধ মজুত ও বণ্টনকারী কেন্দ্রের বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করেছে মহারাষ্ট্র খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)।
- তবে এই পদক্ষেপ সিপলার কোনও ওষুধ তৈরির কারখানার বিরুদ্ধে নয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
পুণে: ওষুধের মোড়কে অনুমোদনহীন প্রচারমূলক দাবি, সংরক্ষণবিধিতে গাফিলতি এবং বাজার থেকে ওষুধ প্রত্যাহারের নির্দেশ ঠিকমতো কার্যকর না করার অভিযোগ—সব মিলিয়ে বিপাকে সিপলা। পুণের ওয়াডকি এলাকার সংস্থাটির ওষুধ মজুত ও বণ্টনকারী কেন্দ্রের বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করেছে মহারাষ্ট্র খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (FDA)। ২৭ আগস্ট থেকে সিদ্ধান্তটি কার্যকর হয়েছে।
তবে এই পদক্ষেপ সিপলার কোনও ওষুধ তৈরির কারখানার বিরুদ্ধে নয়। প্রশাসনের কোপ পড়েছে সংস্থার হয়ে পরিচালিত ‘ক্যারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং’ (C&F) কেন্দ্রটির উপর, যেখানে ওষুধ মজুত ও বণ্টন করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের জুনে। ওই গুদাম পরিদর্শনের সময় সিপলার ‘রিঅ্যাক্টিন প্লাস’ ট্যাবলেটের মোড়কে অনিয়ম নজরে আসে। এটি ‘শিডিউল এইচ’ শ্রেণির ওষুধ—অর্থাৎ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি করার কথা নয়। কিন্তু মোড়কে লেখা ছিল, এটি ‘ব্যথানাশক ও জ্বর কমানোর ওষুধ’। প্রশাসনের দাবি, এই ধরনের প্রচারমূলক বক্তব্য ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
নিয়ামক সংস্থার যুক্তি, ব্যবস্থাপত্র-নির্ভর ওষুধের গায়ে এমন দাবি থাকলে রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই তা খাওয়ার দিকে উৎসাহিত হতে পারেন। তাতে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা বাড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। বিষয়টিকে ১৯৪০ সালের ওষুধ ও প্রসাধনী আইন এবং ১৯৪৫ সালের সংশ্লিষ্ট বিধির লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
পরিদর্শনের সময় প্রায় ১১ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা মূল্যের ‘রিঅ্যাক্টিন প্লাস’ ট্যাবলেট বাজেয়াপ্ত করা হয়। বাজারে ইতিমধ্যে পৌঁছে যাওয়া সংশ্লিষ্ট ওষুধ ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ প্রশাসনের।
এর পরের পরিদর্শনে ধরা পড়ে আরও একাধিক গরমিল। গুদামে বাস্তবে থাকা ওষুধের পরিমাণের সঙ্গে কম্পিউটারে নথিভুক্ত হিসাবের মিল পাওয়া যায়নি। ক্রয়-বিক্রয়ের নথিতেও ছিল অসঙ্গতি। কয়েকটি ওষুধ সরাসরি মেঝেতে রাখা হয়েছিল। পর্যাপ্ত কাঠের পাটাতন ও তাকের ব্যবস্থাও ছিল না। এমনকি মেয়াদ-উত্তীর্ণ ওষুধ আলাদা করে রাখা এবং তার হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থাতেও ঘাটতি ধরা পড়ে।
এর পর লাইসেন্সধারী সংস্থাকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠায় প্রশাসন। সংস্থার জবাব খতিয়ে দেখার পর FDA-র সিদ্ধান্ত, চিহ্নিত ত্রুটিগুলি যথেষ্টভাবে সংশোধন করা হয়নি। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত ওষুধ বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের কমিশনার তুকারাম মুন্ডে জানিয়েছেন, ওষুধের বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে বিক্রি, সংরক্ষণ ও বণ্টন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিয়ম মানতে হবে। জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করা হবে না এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ চলবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্য দিকে, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে সিপলা। সংস্থার দাবি, বিষয়টি এখন বিচারাধীন। তাদের আরও বক্তব্য, প্রশাসনের নির্দেশে সিপলার ওষুধের নিরাপত্তা, গুণমান বা কার্যকারিতা নিয়ে কোনও অভিযোগ তোলা হয়নি। রোগীর নিরাপত্তা বিপন্ন হওয়ার কথাও বলা হয়নি। তাদের মতে, বিতর্কের কেন্দ্র মূলত ওষুধের মোড়ক, মজুতের নিয়ম, নথিপত্র এবং প্রত্যাহার প্রক্রিয়া।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



