নেপালে নিখোঁজদের পরিজনদের সঙ্গে কথা শুভেন্দুর, চিনের ভিসা পেতেও সাহায্যের আশ্বাস

যা জানা জরুরি
- নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানের পর থেকে নিখোঁজ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
- শুক্রবার ভবানী ভবন থেকে আয়োজিত এক বৈদ্যুতিন বৈঠকে উদ্বিগ্ন পরিজনদের কথা শোনেন তিনি।
- নিখোঁজদের সন্ধানে নেপাল বা চিনে যেতে ইচ্ছুক পরিবারের সদস্যদের ভিসা দ্রুত পাওয়ার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার সাহায্য করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানের পর থেকে নিখোঁজ পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ভবানী ভবন থেকে আয়োজিত এক বৈদ্যুতিন বৈঠকে উদ্বিগ্ন পরিজনদের কথা শোনেন তিনি। নিখোঁজদের সন্ধানে নেপাল বা চিনে যেতে ইচ্ছুক পরিবারের সদস্যদের ভিসা দ্রুত পাওয়ার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার সাহায্য করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু জানান, নেপালের বিপর্যয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের মোট ৩৯ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁদের মধ্যে বসিরহাটের অনুকূল পোদ্দার ও তাঁর স্ত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁরা কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন এবং শনিবার কলকাতায় ফেরার কথা। বাকি ৩৭ জনের এখনও সন্ধান মেলেনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘শক্ত থাকুন, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন। কখনও ভাববেন না, আপনারা একা এই সঙ্কটের মোকাবিলা করছেন। গোটা রাজ্য আপনাদের পাশে রয়েছে।’’
নিখোঁজদের মধ্যে ৩২ জন ‘চলো যাই’ নামে দক্ষিণ কলকাতার একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন। ওই দলে ৩০ জন পর্যটক এবং দু’জন ভ্রমণ-পরিচালক ছিলেন। নেপালের অভিবাসন দফতরের নথি অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা ৮ মিনিট থেকে ৮টা ২৪ মিনিটের মধ্যে দলের সদস্যেরা সীমান্তে নেপালি অভিবাসন কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন। মাত্র ছয় মিনিট পরে, সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ প্রবল বন্যা ওই এলাকায় আঘাত হানে। কিন্তু তাঁরা চিনের অভিবাসন কেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। এই সময়ের ব্যবধানই পরিজনদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
বৈঠকে নিখোঁজ অরিন্দম ও মৌসুমী গঙ্গোপাধ্যায়ের মেয়ে চিনের তিব্বত অঞ্চলে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৫০০ জনের নামের তালিকা প্রকাশের ব্যবস্থা করার আবেদন জানান। অন্য এক পরিজন উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ছবি ও তথ্য নিয়মিত জানানোর জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গোষ্ঠী তৈরির প্রস্তাব দেন। শুভেন্দু জানান, বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও পরিবারের সদস্য নেপাল বা তিব্বতে গিয়ে সরাসরি খোঁজ নিতে চাইলে দিল্লিতে রাজ্যের আবাসিক আয়ুক্ত তাঁদের ভিসার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সাহায্য করবেন। বিদেশ মন্ত্রকের অনুমতি পাওয়া গেলে রাজ্যের আধিকারিকদের একটি দলও দুর্গত এলাকায় পাঠানো হবে। এ বিষয়ে মুখ্যসচিবকে বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দনেপাল ও চিন—দুই দেশের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়ার চেষ্টা করছে রাজ্য।
কলকাতায় নেপালের কনসাল জেনারেল ঝক্কা প্রসাদ আচার্যও জানিয়েছেন, বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর দফতর নেপাল সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছে। নিখোঁজ বাঙালি পর্যটকদের সম্পর্কে কোনও নতুন তথ্য পাওয়া গেলেই তা রাজ্য সরকারের মাধ্যমে পরিবারগুলিকে জানানো হবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



