বাংলাস্ফিয়ার: বিহারে নিট প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডকে ঘিরে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যে বড় সিদ্ধান্ত নিল নীতীশ কুমার সরকার। সিওয়ানে ছাত্র বিক্ষোভ চলাকালীন একে-৪৭ থেকে গুলি চালানোর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুবকদের বিরুদ্ধে আর কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং ইতিমধ্যে দায়ের হওয়া এফআইআরও প্রত্যাহার করা হবে।

গত ২৫ জুলাই বিহার বন্‌ধ চলাকালীন সিওয়ানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ বাধে। সেই সময় এক পুলিশকর্মীকে একে-৪৭ রাইফেল থেকে আকাশে গুলি চালাতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে প্রশাসন। বিহারের ডিজিপি বিনয় কুমার জানান, ওই কনস্টেবল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়াই অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। এই কারণে তাঁকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তারক্ষীদের ঘিরে ফেলায় সরকারি ও জনসম্পত্তি রক্ষার স্বার্থে আকাশে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, একে-৪৭ ব্যবহারের কোনও অনুমতি ছিল না। ঘটনার সময় তিন জন আহত হন। তাঁদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার উৎস পুলিশি গুলি নাকি অন্য কোথাও থেকে, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

এদিকে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রশমিত করতে সোমবার সন্ধ্যায় বিহার সরকার বড়সড় ছাড় দেয়। সরকার জানায়, ২৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার আগে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কারও বিরুদ্ধে কোনও প্রতিশোধমূলক বা শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে দায়ের হওয়া এফআইআর, ফৌজদারি অভিযোগ এবং শোকজ নোটিস প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। যাঁদের গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়েছে, তাঁদেরও মুক্তি দেওয়া হবে।

এই সিদ্ধান্তকে ছাত্র আন্দোলনের বড় সাফল্য বলে দাবি করেছে আন্দোলনের নেতৃত্ব। তবে তারা জানিয়েছে, সরকারের আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রাখা হবে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি অভিযোগ করেছে, ছাত্রদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনায় শুধু এক পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করলেই দায় শেষ হয় না; গোটা ঘটনার নির্দেশদাতা এবং দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।