হাইলাইটস:
- তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা মোট ৪৪০.৪২ কোটি টাকা ফ্রিজ করল ইডি।
- অভিযোগ, দলীয় তহবিল থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা কলকাতার কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন নামে একটি সংস্থায় পাঠানো হয়েছিল।
- ইডির দাবি, ওই অর্থের একটি অংশ দিয়ে এমব্রেয়ার ৬০০ বিমান এবং আগুস্তা হেলিকপ্টার কেনা হয়।
- তদন্তে আরও অভিযোগ, কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের একটি সংস্থা থেকে ১৭ লক্ষ মার্কিন ডলারের অসুরক্ষিত ঋণও নেওয়া হয়েছিল।
- তৃণমূল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের সমস্ত আর্থিক লেনদেন নির্বাচন কমিশন ও আয়কর দপ্তরের কাছে স্বচ্ছভাবে জানানো হয়েছে এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।
বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় পদক্ষেপ হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা মোট ৪৪০.৪২ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছে। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, দলীয় তহবিলের একটি অংশ সন্দেহজনকভাবে কলকাতাভিত্তিক কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল এবং সেই অর্থের ব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
ইডির অভিযোগ, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন এবং তার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছে পাঠানো হয়। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, ওই অর্থের একটি অংশ দিয়ে প্রায় ১১২ কোটি টাকার একটি এমব্রেয়ার ৬০০ বিমান এবং একটি আগুস্তা হেলিকপ্টার কেনা হয়। এছাড়া ওই সংস্থার আর্থিক লেনদেনে বিদেশি অর্থের উৎস নিয়েও তদন্ত চলছে।
ইডি জানিয়েছে, কেয়ারওয়েল গোষ্ঠীর একাধিক দফতরে তল্লাশি চালিয়ে নথি, ডিজিটাল তথ্য এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অর্থের প্রবাহের একটি অংশ নতুন গঠিত অন্য একটি সংস্থার কাছেও পৌঁছেছে, যার উদ্দেশ্য ও ব্যবহার এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। দলের বক্তব্য, সমস্ত অনুদান, আয় এবং ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশন ও আয়কর দপ্তরের কাছে নিয়ম মেনে জমা দেওয়া হয়েছে। কোনও অর্থ পাচার বা বেআইনি লেনদেনের অভিযোগের ভিত্তি নেই বলেই তাদের দাবি।
এই ঘটনাকে রাজনৈতিক মহলেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কোনও স্বীকৃত জাতীয় বা আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এত বড় অঙ্কের অর্থ একসঙ্গে ফ্রিজ করার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে অর্থের উৎস, স্থানান্তরের বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখবে ইডি। তবে অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।