হাইলাইটস:

  • কলকাতায় তৃণমূলের বিক্ষোভ মিছিলকে ঘিরে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ।
  • পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপ, লাঠিচার্জের অভিযোগ।
  • তৃণমূলের দাবি, তাদের বহু কর্মী আহত হয়েছেন; বিজেপিও পাল্টা অভিযোগ তোলে।
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ও পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেন।
  • একই সভা থেকে দলীয় বিদ্রোহীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন—‘মাঝনদীতে দাঁড়িয়ে থাকা চলবে না।’

বাংলাস্ফিয়ার: কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বুধবার রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে। শহরের একাধিক এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মুখোমুখি অবস্থান থেকে বচসা, ধাক্কাধাক্কি এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। কয়েকটি জায়গায় লাঠিচার্জের অভিযোগও ওঠে।

এই বিক্ষোভ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিরোধীদের অভিযোগে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। তবে একই সময়ে বিজেপিও পাল্টা কর্মসূচি নেওয়ায় শহরের কয়েকটি এলাকায় দুই পক্ষের কর্মীরা মুখোমুখি হয়ে পড়েন।

তৃণমূলের অভিযোগ, আদালতের অনুমতি নিয়ে মিছিল করা হলেও বিজেপি কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। দলের দাবি, বহু কর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের মাথায় গুরুতর চোট লেগেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি রাজ্যে ‘পুলিশ রাজ’ ও ‘আইনশৃঙ্খলার ভাঙন’-এর অভিযোগও তোলেন।

অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলই সংঘর্ষ উসকে দিয়েছে। বিজেপি নেতারা দাবি করেন, তাদের কর্মীদের উপরও হামলা হয়েছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য তৃণমূলই দায়ী। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে উসকানি ও হামলার অভিযোগ তোলায় ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।

দিনের রাজনৈতিক নাটকের মধ্যে আরও একটি ঘটনা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। মিছিল চলাকালীন একটি ভিডিও সামনে আসে, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক ব্যক্তিকে ধাক্কা বা চড় মারতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়। বিরোধীরা এই ভিডিও নিয়ে আক্রমণ শানালেও তৃণমূলের পক্ষ থেকে ঘটনাটির ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

তবে দিনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা আসে মমতার বক্তব্যে। সাম্প্রতিক দলীয় ভাঙন ও বিদ্রোহের আবহে তিনি প্রকাশ্যে অসন্তুষ্ট নেতাদের উদ্দেশে বলেন, যারা দলের সঙ্গে থাকতে চান না, তারা স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিন। তাঁর কথায়, ‘দলে থাকুন, না হলে বিজেপিতে যোগ দিন। মাঝনদীতে দাঁড়িয়ে থাকা চলবে না।’ এই মন্তব্যকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্য কেবল বিদ্রোহীদের উদ্দেশেই নয়, তৃণমূলের সংগঠনের বাকি অংশের কাছেও একটি স্পষ্ট বার্তা। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দলীয় আনুগত্য নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তার জবাব দিতেই মমতা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে বিজেপির সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং দলীয় শৃঙ্খলা—এই দুই লড়াই একসঙ্গে মোকাবিলা করার কৌশলও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।