হাইলাইটস:
- আদালতের অনুমতি নিয়েই যুব সমাবেশ করা হয়েছিল বলে দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
- বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে মহিলা কর্মীদের উপর হামলা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ।
- অন্তত ২৫ জনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে দাবি টিএমসি নেত্রীর।
- ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলে আদালত অবমাননার মামলা করার ঘোষণা।
- অভিযোগের সমর্থনে এখনও পর্যন্ত কোনও ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেনি তৃণমূল।
বাংলাস্ফিয়ার: তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সংগঠনের মিছিলকে ঘিরে বুধবার কলকাতার রাজনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল। দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, আদালতের অনুমতি নিয়ে দক্ষিণ কলকাতায় অনুষ্ঠিত যুব সমাবেশে বিজেপি সমর্থকরা হামলা চালায়। তাঁর দাবি, হামলায় বহু মহিলা কর্মী শারীরিকভাবে নিগৃহীত হন এবং অন্তত ২৫ জনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
ফেসবুক লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আদালতের অনুমতি সত্ত্বেও পুলিশের সামনেই বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা তৃণমূলের যুব ও ছাত্রনেতাদের উপর চড়াও হয়। তাঁর অভিযোগ, মহিলা কর্মীদের লক্ষ্য করে লাঠি, রড, ইটসহ বিভিন্ন বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয় এবং তাঁদের শ্লীলতাহানি করা হয়। এমনকি কয়েকজন মহিলার গোপনাঙ্গেও আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন।
মমতার কথায়, “যা ঘটেছে তা শুধু রাজনৈতিক হিংসা নয়, নারীর মর্যাদার উপর আঘাত। আমি অত্যন্ত মর্মাহত। পুলিশের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটেছে, অথচ তারা কার্যত কোনও পদক্ষেপ করেনি।”
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, এই সমাবেশের উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যে ধারাবাহিক ধর্ষণ, নারীদের উপর অত্যাচার, হকার উচ্ছেদ এবং অন্যান্য জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরা। কিন্তু সেই কর্মসূচিকে ভণ্ডুল করতেই বিজেপি পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় বলে তাঁর দাবি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই তাঁর বাড়ির সামনে বিজেপি একটি মোটরবাইক মিছিল বের করে। শুধু তাই নয়, মিছিলের সম্ভাব্য আটটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে উচ্চস্বরে ডিজে বাজিয়ে কর্মসূচিকে বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হয়। তাঁর বক্তব্য, এসবই ছিল পরিকল্পিত উসকানি এবং প্রশাসন তা রোখার কোনও উদ্যোগ নেয়নি।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মমতা বলেন, “আদালতের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যারা হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে পুলিশ নির্বিকার দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।”
এই ঘটনার জেরে আদালত অবমাননার মামলা করার কথাও ঘোষণা করেছেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে এবং সেই কারণেই উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবে তাঁর দল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশের মাথায় গুরুতর চোট লেগেছে বলে তিনি দাবি করেন। কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। যদিও আহতদের নাম বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছে। দলের বক্তব্য, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখতেই এই ধরনের হামলার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের দাবি, রাজ্যে বিরোধী রাজনীতির পরিবেশ নষ্ট করার জন্য বিজেপি ধারাবাহিকভাবে সংঘাতের পথ বেছে নিচ্ছে।
অন্যদিকে, মমতার অভিযোগের সমর্থনে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের তরফে কোনও ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লেও অভিযোগের প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রকাশ না হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিজেপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট নয়। পুলিশের তরফ থেকেও এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি জারি করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ঘটনা নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি করতে পারে। আদালতের অনুমতি নিয়ে হওয়া একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যদি সত্যিই হামলা হয়ে থাকে, তবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। আবার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এবং আদালতে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন। তবে অভিযোগের স্বাধীন যাচাই, পুলিশি তদন্ত এবং সম্ভাব্য দৃশ্যপ্রমাণ সামনে আসার পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। রাজনৈতিক উত্তেজনার এই আবহে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আদালতের ভূমিকার দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।