হাইলাইটস:

  • যুদ্ধবিরতির অন্তর্বর্তী সমঝোতা শেষ বলে ঘোষণা করে ফের ইরানে হামলার নির্দেশ দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
  • হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর, লক্ষ্যবস্তু বন্দর ও সামরিক পরিকাঠামো।
  • মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান।
  • ইরানের দাবি, বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনও ক্ষতি হয়নি।
  • ট্রাম্পকে কড়া আক্রমণ বার্নি স্যান্ডার্সের, পাল্টা হুঁশিয়ারি ইরানের সংসদ-স্পিকারের।

বাংলাস্ফিয়ার: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ বলে ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির মুখে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর বান্দার আব্বাস, দক্ষিণ উপকূলের সিরিক এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের বুশেহর প্রদেশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বুশেহরেই রয়েছে ইরানের একমাত্র পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র।

ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাবাহারে একটি বিস্ফোরণের ছবি পোস্ট করে লেখেন, “গতকাল ইরান যে বাণিজ্যিক জাহাজগুলিতে হামলা চালিয়েছে, তারই জবাব এটি। আবার এমন হলে প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হবে।”

মার্কিন কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। উদ্দেশ্য, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল ব্যাহত করার ইরানের সক্ষমতা আরও দুর্বল করে দেওয়া।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বাণিজ্যিক জাহাজ ও নিরীহ নাবিকদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অযৌক্তিক হামলার জন্য ইরানকে জবাবদিহি করানো হচ্ছে।”

মার্কিন এক প্রশাসনিক আধিকারিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বুধবার রাতের হামলা মঙ্গলবারের তুলনায় আরও ব্যাপক হওয়ার কথা ছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, আবু মুসা দ্বীপেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই দ্বীপের ওপর দাবি জানিয়ে এলেও বহুদিন ধরেই এটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে। হরমুজ প্রণালির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণে দ্বীপটির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

ইরানের মেহর সংবাদসংস্থার দাবি, বুশেহর প্রদেশে হামলা হলেও পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনও ক্ষতি হয়নি।

এদিকে মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “ইরানের বিরুদ্ধে এই বেপরোয়া যুদ্ধ আবার শুরু করলে আমেরিকা শক্তিশালী হবে না। বরং আরও প্রাণহানি হবে এবং করদাতাদের বিপুল অর্থ অপচয় হবে।” তিনি আরও বলেন, মিথ্যা অজুহাতে যুদ্ধ শুরু করার পর ট্রাম্প এক মাসও না পেরোতেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে দিয়েছেন।

মঙ্গলবারও আমেরিকা ইরানের একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও বন্দর অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছিল। তার আগে ওমান উপকূলের কাছে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের হামলার অভিযোগ তোলে ওয়াশিংটন।

তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আজ রাতেই সম্ভবত ইরানকে আবার কঠোরভাবে আঘাত করা হবে।” তবে একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই সামরিক পদক্ষেপ দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেবে না।

ট্রাম্প বলেন, “যা হওয়ার, খুব দ্রুতই হবে। প্রয়োজনে আমরা কাজ শেষ করেই ফিরব।”

অন্যদিকে ইরানের অবস্থান, অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার তাদের রয়েছে।

ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ভয় দেখিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে আর কিছু আদায় করা যাবে না। সেই যুগ শেষ। আমরা মাথা নত করব না।”