Home খবর মিড-ডে মিলে ডিম বাদ, বিতর্কে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ: বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তে তোপ তৃণমূলের

মিড-ডে মিলে ডিম বাদ, বিতর্কে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ: বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তে তোপ তৃণমূলের

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
15 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকারি-পোষিত স্কুলের মিড-ডে মিলের মেনু থেকে ডিম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক।
  • রাজ্য সরকারের দাবি, এর পরিবর্তে নিরামিষভিত্তিক পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হবে।
  • তৃণমূলের অভিযোগ, বাংলার খাদ্যসংস্কৃতির ওপর আদর্শগত হস্তক্ষেপ করছে বিজেপি সরকার।
  • শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের আশঙ্কা, ডিম বাদ দিলে শিশুদের পুষ্টিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
  • সরকারের বক্তব্য, নতুন মেনুতে ডাল, সয়াবিন, ছোলা, দুধ ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ নিরামিষ খাদ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

রাজ্যের স্কুলগুলির মিড-ডে মিল বা মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি থেকে ডিম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, এটি শুধুমাত্র খাদ্যতালিকার পরিবর্তন নয়, বরং বাংলার দীর্ঘদিনের খাদ্যসংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর আদর্শগত হস্তক্ষেপের চেষ্টা। সরকারি সূত্রের দাবি, নতুন মেনু সম্পূর্ণ নিরামিষভিত্তিক হলেও পুষ্টির দিক থেকে কোনও ঘাটতি রাখা হবে না। ডিমের পরিবর্তে সয়াবিন, ছোলা, ডাল, দুধ, পনির-সহ বিভিন্ন প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সরকারের মতে, পুষ্টির মান বজায় রেখেই খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য, ডিম শিশুদের জন্য সহজলভ্য, সুলভ এবং উচ্চমানের প্রাণিজ প্রোটিনের অন্যতম উৎস। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের বহু ছাত্রছাত্রীর জন্য স্কুলের ডিমই সপ্তাহে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পাওয়ার অন্যতম ভরসা। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অভিযোগ করেছেন, বাংলার মানুষের খাদ্যাভ্যাসে মাছ, ডিম ও মাংসের গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। সেই বাস্তবতা উপেক্ষা করে আদর্শগত কারণে নিরামিষভিত্তিক মেনু চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, শিশুদের খাদ্যতালিকা বিজ্ঞানসম্মত পুষ্টির ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে নয়।

অন্যদিকে, শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, বহু পড়ুয়া অপুষ্টির ঝুঁকিতে থাকে এবং স্কুলের মধ্যাহ্নভোজই তাদের দৈনিক পুষ্টির বড় উৎস। ডিম বাদ দিলে সেই ঘাটতি পূরণ করা বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিকল্প খাদ্যতালিকা কার্যকরভাবে সব স্কুলে নিয়মিত পৌঁছাবে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। পুষ্টিবিদদের একাংশের মতে, ডিম একটি পূর্ণাঙ্গ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য, যাতে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। তবে সঠিক পরিকল্পনা করলে নিরামিষ খাদ্যের মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেওয়া সম্ভব। কিন্তু তার জন্য খাদ্যের বৈচিত্র্য, গুণমান এবং নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র ডিম বাদ দিয়ে অন্য কোনও ব্যবস্থা কার্যকর না হলে শিশুদের পুষ্টির ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি কোনও ধর্মীয় বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। প্রশাসনের দাবি, নতুন খাদ্যতালিকা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই তৈরি হয়েছে এবং সব শিশু যাতে সমানভাবে উপকৃত হয়, সেই লক্ষ্যেই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের আরও দাবি, বিভিন্ন নিরামিষ খাদ্যের সমন্বয়ে প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা সম্ভব। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র পুষ্টি বা খাদ্যতালিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পশ্চিমবঙ্গে খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ। ফলে ডিম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে খাদ্যসংস্কৃতি বনাম আদর্শগত রাজনীতির প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

এদিকে অভিভাবকদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, শিশুদের পুষ্টির প্রশ্নে কোনও ধরনের আপস করা উচিত নয়। আবার কেউ কেউ সরকারের আশ্বাসের ওপর আস্থা রেখে বিকল্প মেনুর কার্যকারিতা দেখার পক্ষেও মত দিয়েছেন। মিড-ডে মিল কর্মসূচি দেশের বৃহত্তম বিদ্যালয়ভিত্তিক পুষ্টি প্রকল্পগুলির একটি। এর মূল উদ্দেশ্য শুধু ক্ষুধা নিবারণ নয়, শিশুদের অপুষ্টি কমানো, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা। সেই কারণে এই প্রকল্পের খাদ্যতালিকায় যে কোনও পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই জনস্বার্থ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ডিম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয় এবং বিকল্প নিরামিষ খাদ্য বাস্তবে শিশুদের সমপরিমাণ পুষ্টি দিতে পারে কি না, তা এখন বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে। তবে আপাতত এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles