‘উপেক্ষা করো’—আজ আক্ষেপ

যা জানা জরুরি
- সাহিলের মৃত্যুতে জাতপাতের হেনস্থার অভিযোগ, তদন্তে নকলের দাবিও প্রমাণের দাবি বাবার মৃত্যুর কয়েক দিন আগে বাবা-মাকে জানিয়েছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাত তুলে কটাক্ষ করা হচ্ছে তাঁকে।
- বাবা-মা তখন ছেলেকে বুঝিয়েছিলেন, এসব উপেক্ষা করে পড়াশোনায় মন দিতে।
- কিন্তু আইআইটি বম্বের ছাত্র সাহিল ওয়াকোডের মৃত্যুর পর সেই পরামর্শই এখন তাঁদের কাছে গভীর আক্ষেপের কারণ।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
সাহিলের মৃত্যুতে জাতপাতের হেনস্থার অভিযোগ, তদন্তে নকলের দাবিও প্রমাণের দাবি বাবার
মৃত্যুর কয়েক দিন আগে বাবা-মাকে জানিয়েছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাত তুলে কটাক্ষ করা হচ্ছে তাঁকে। সহ্য করতে হচ্ছে ‘নির্যাতন’। বাবা-মা তখন ছেলেকে বুঝিয়েছিলেন, এসব উপেক্ষা করে পড়াশোনায় মন দিতে। কিন্তু আইআইটি বম্বের ছাত্র সাহিল ওয়াকোডের মৃত্যুর পর সেই পরামর্শই এখন তাঁদের কাছে গভীর আক্ষেপের কারণ।
বিটেকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন সাহিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ছেলের মৃত্যুর তদন্তে নিযুক্ত মুম্বই পুলিশের অপরাধ দমন শাখার আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে শহরে আসেন তাঁর বাবা রবীন্দ্র ও মা সোনালি ওয়াকোডে। তাঁদের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে সাহিল জাতপাতের ভিত্তিতে বৈষম্য ও হেনস্থার কথা জানিয়েছিলেন।
বান্দ্রায় অপরাধ দমন শাখার দফতরের বাইরে সাংবাদিকদের রবীন্দ্র বলেন, “১৩ সেপ্টেম্বর সাহিলের সঙ্গে যখন আমাদের দেখা হয়, ও বলেছিল, ওকে জাত তুলে কটাক্ষ করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা ওকে বুঝিয়েছিলাম, আইআইটিতে সুযোগ পাওয়া সহজ নয়, তাই ওর পড়াশোনায় মন দেওয়া উচিত। এখন মনে হচ্ছে, হয়তো সেটাই আমাদের ভুল হয়েছিল।”
তাঁর দাবি, আইআইটিতে সাহিলের প্রথম বছর নির্বিঘ্নেই কেটেছিল। বিটেকের দ্বিতীয় বর্ষে ওঠার পর থেকেই তিনি জাতপাতের ভিত্তিতে বৈষম্যের মুখে পড়তে শুরু করেন।
সোনালিও জানান, ছেলের মনোবল বাড়াতেই তাঁরা তাঁকে পরিস্থিতি উপেক্ষা করে পড়াশোনায় মন দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু ছেলের মৃত্যুর পর সেই কথাগুলিই তাঁদের মনে নতুন করে ফিরে আসছে।
অধ্যাপকদের গ্রেফতারের দাবি
জাতপাতের ভিত্তিতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সাহিলের পরিবার আইআইটি বম্বের অধিকর্তা অধ্যাপক শিরীষ কেদারে এবং অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ ডুল্লাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।
মৃত্যুর দিন পরীক্ষার হলে সাহিলকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই পরীক্ষার তত্ত্বাবধানে ছিলেন অধ্যাপক ডুল্লা।
সোনালি বলেন, “অপরাধ দমন শাখা এবং ভারতের সংবিধানের উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আইআইটি বম্বেতে অতীতের বিভিন্ন ঘটনার কথা মাথায় রেখে, সেখানে কী হচ্ছে তা তদন্ত করে দেখা দরকার। আত্মহত্যায় মৃত পড়ুয়াদের অধিকাংশই দলিত কেন?”
তাঁর বক্তব্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলিত পড়ুয়াদের অভিজ্ঞতা এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্নও উঠে এসেছে।
‘নকলের অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হোক’
সাহিল নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তাঁর পরিবার। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত বলে দাবি রবীন্দ্রের।
তাঁর কথায়, “আইআইটি কর্তৃপক্ষ প্রথমে বলেছিলেন, ও নকল করেছে। পরে তাঁরা ক্ষমা চেয়ে জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন। তাই এই দাবিগুলি তদন্তে প্রমাণিত হওয়া দরকার। আমার ছেলে মেধাবী ছিল। নিজের যোগ্যতায় আইআইটি বম্বেতে জায়গা করে নিয়েছিল।”
পরিবারের বক্তব্য, সাহিলের মৃত্যুর জন্য যাঁদের দায়ী মনে করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেই ন্যায়বিচার মিলবে। ছেলের মৃত্যুর নেপথ্যে জাতপাতের বৈষম্য ও হেনস্থার অভিযোগের পাশাপাশি পরীক্ষায় নকলের দাবি-সহ গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানাচ্ছেন তাঁরা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



