‘হাতে ৪৮ ঘণ্টা’, জয়পুরে হামলার অভিযোগে রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি সিজেপির

যা জানা জরুরি
- জয়পুরের একটি সরকারি বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে দলের স্বেচ্ছাসেবকদের উপর হামলার অভিযোগ তুলে রাজস্থান সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
- হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং সরকারি বিদ্যালয়ে প্রবেশ ও চিত্রগ্রহণে জারি করা বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা না হলে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের সহ-আহ্বায়ক…
- একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ারের পদত্যাগের দাবিও তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
জয়পুরের একটি সরকারি বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে দলের স্বেচ্ছাসেবকদের উপর হামলার অভিযোগ তুলে রাজস্থান সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। হামলাকারীদের গ্রেফতার এবং সরকারি বিদ্যালয়ে প্রবেশ ও চিত্রগ্রহণে জারি করা বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা না হলে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ারের পদত্যাগের দাবিও তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সিজেপির প্রতিনিধিরা জয়পুর জেলার সাঙ্গানের এলাকার রামপুরা-কানওয়ারপুরা গ্রামের একটি সরকারি বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি দেখতে গিয়েছিলেন। ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানের অংশ হিসেবেই ওই পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়েছিল। সিজেপির অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ভবন ব্যবহারযোগ্য না হওয়ায় কয়েক বছর ধরে একটি মোষের গোয়ালঘরে শিশুদের পড়ানো হচ্ছে। আগের বছরও সেখানে গিয়ে একই পরিস্থিতি দেখেছিলেন সংগঠনের সদস্যেরা।
রাঙ্কার দাবি, তাঁদের দলটি গ্রামে পৌঁছনোর আগেই একদল বিজেপি কর্মী সেখানে জড়ো হয়েছিল। বিদ্যালয়ের দিকে এগোতেই সিজেপি সদস্যদের মারধর করা হয়। গাড়ির কাচ ভাঙা, মোবাইল ফোন নষ্ট করা এবং পাথর ছোড়ারও অভিযোগ উঠেছে। এক মহিলা সদস্যকে হেনস্থা করা হয়েছে এবং এক স্বেচ্ছাসেবকের হাত ভেঙে গিয়েছে বলেও দাবি তাঁর। রাঙ্কা বলেন, পুলিশকে আগে থেকে জানানো হলেও তারা হামলা থামাতে কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। তবে অভিযোগগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষামন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাঙ্কা বলেন, ‘‘আপনার হাতে ৪৮ ঘণ্টা। হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে এবং বিদ্যালয় পরিদর্শনে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে গোটা রাজস্থানে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তখন আন্দোলন শুধু বিদ্যালয়ের দুরবস্থা নিয়ে থাকবে না, মদন দিলাওয়ারের পদত্যাগও দাবি করা হবে।’’ ঘটনাটিকে তিনি রাজস্থানের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে ‘কালো দিন’ বলে অভিহিত করেন।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয় মেরামতের কাজ শুরু এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা না হলে তিনি জয়পুরে গিয়ে ধর্নায় বসবেন। যন্তর মন্তরের আন্দোলনের আদলেই সেই কর্মসূচি হবে বলে তাঁর হুঁশিয়ারি।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ সিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিদ্যালয় নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই ১২ লক্ষ টাকা অনুমোদিত হয়েছে এবং গ্রামবাসীরা বিষয়টির রাজনৈতিকীকরণ চান না।
বিজেপিও দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। রাজ্যের মন্ত্রী জওহর সিং বেধমের পাল্টা দাবি, সিজেপির আড়ালে কংগ্রেস কর্মীরাই গ্রামে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। অন্য মন্ত্রী অবিনাশ গহলৌত সিজেপিকে ‘নৈরাজ্যবাদীদের দল’ বলে কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে, রাজস্থান কংগ্রেসের সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসরা এবং বিরোধী দলনেতা টিকারাম জুলি ঘটনার নিন্দা করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



