Home খবর অনশনের ২১তম দিনে সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ

অনশনের ২১তম দিনে সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে গেল দিল্লি পুলিশ

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
9 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে ২০ দিন ধরে অনশনে ছিলেন সোনম ওয়াংচুক।
  • শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ তাঁকে যন্তর মন্তর থেকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়।
  • পুলিশের দাবি, আদালতের নির্দেশ ও চিকিৎসকদের পরামর্শেই এই পদক্ষেপ।
  • সমর্থকদের অভিযোগ, ওয়াংচুককে জোর করে সরিয়ে আন্দোলন ভাঙার চেষ্টা হয়েছে।
  • শিক্ষা সংস্কার, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদারের ঘোষণা।

বাংলাস্ফিয়ার: শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ধারাবাহিক অনিয়মের অভিযোগে ২০ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাওয়ার পর সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে শনিবার সকালে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পুলিশ বলছে, তাঁর দ্রুত অবনতিশীল শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সরকারের সমালোচনামুখর আন্দোলন স্তব্ধ করতেই তাঁকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন ওয়াংচুক। তাঁর মূল দাবি ছিল, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং এই ঘটনার রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তাঁর বক্তব্য, লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও আপস করা যায় না এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কঠোর সংস্কার অপরিহার্য।

অনশনের দিন যত গড়িয়েছে, ততই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে এবং শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণও দেখা দিয়েছে। তবুও ওয়াংচুক ঘোষণা করেছিলেন, নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন।

শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ ও চিকিৎসকদের একটি দল যন্তর মন্তরে পৌঁছয়। পুলিশের বক্তব্য, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিদিন তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা জানালে যে তাঁর অবস্থা আর অনশনের উপযোগী নয়, তখনই তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে ঘটনাস্থলের চিত্র ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশ ঘিরে ফেলে ওয়াংচুককে স্ট্রেচারে তুলে নিয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। সমর্থকদের অভিযোগ, কাউকে কিছু না জানিয়েই তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আন্দোলন কার্যত ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পুরো পদক্ষেপই নেওয়া হয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং আদালতের নির্দেশ মেনে। পুলিশের দাবি, কোনও ধরনের বলপ্রয়োগের উদ্দেশ্য ছিল না; একজন অনশনরত ব্যক্তির জীবন রক্ষা করাই ছিল একমাত্র লক্ষ্য।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়াংচুককে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁর বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আপাতত তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও দীর্ঘ অনশনের প্রভাব কাটতে সময় লাগবে।

ওয়াংচুকের অনুপস্থিতিতেও আন্দোলন থামছে না বলে জানিয়েছেন তাঁর সহযোগীরা। আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দিপকে ঘোষণা করেছেন, আন্দোলন চলবে এবং ছাত্রছাত্রীদের দাবিতে সংসদ অভিযানের কর্মসূচিও বহাল থাকবে। ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে তিনিও অনশন শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।

এই আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ব্যবস্থা। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একাধিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, মূল্যায়নে ত্রুটি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ সামনে এসেছে। ওয়াংচুকের বক্তব্য, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহির অভাব রয়েছে। তাই কেবল কোনও একটি ঘটনার তদন্ত নয়, প্রয়োজন সামগ্রিক সংস্কার।

আন্দোলনটি ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বহু ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রকাশ্যে ওয়াংচুকের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর অনশনকে তাঁরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরছেন।

অন্যদিকে সরকারের সমর্থকদের বক্তব্য, দীর্ঘ অনশনের ফলে যদি কারও প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করাই স্বাভাবিক। তাঁদের মতে, জীবন রক্ষা এবং আইনের শাসন বজায় রাখার দায়িত্ব থেকে সরকার সরে দাঁড়াতে পারে না।

ফলে ঘটনাটি এখন শুধুমাত্র একজন আন্দোলনকারীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার এবং প্রশাসনের ভূমিকা—এই তিনটি প্রশ্নকে একসঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে। আগামী কয়েক দিনে সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে কি না, কিংবা শিক্ষা সংস্কার নিয়ে কোনও নতুন ঘোষণা করে কি না, সেদিকেই এখন নজর দেশের ছাত্রসমাজ ও রাজনৈতিক মহলের।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles