বাংলাস্ফিয়ার: শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ এবং ছাত্রছাত্রীদের আত্মহত্যার ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের অনশনে থাকা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করার পর এবার মুখ খুললেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে অ্যাংমো। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর বা পরিবারের সম্মতি ছাড়া ওয়াংচুককে কোনও ধরনের ওষুধ বা চিকিৎসা দেওয়া যাবে না।
শনিবার অনশনের ২১তম দিনে দিল্লি পুলিশ ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশের দাবি, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে এবং আদালতের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতালে পৌঁছে সামাজিক মাধ্যমে গীতাঞ্জলি লেখেন, তিনি এখন সফদরজং হাসপাতালেই রয়েছেন এবং ওয়াংচুকের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে পরিবারের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, “আমার, পরিবারের সদস্যদের এবং গত ২০ দিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা চিকিৎসকদের সম্মতি ছাড়া তাঁকে মুখে বা শিরায় কোনও ওষুধ বা তরল দেওয়া যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে আসার সিদ্ধান্তেও তাঁর সম্মতি নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, অনশন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ওয়াংচুক সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত ছিল।
ওয়াংচুক গত তিন সপ্তাহ ধরে অনশন করছেন। তাঁর প্রধান দাবি, সাম্প্রতিক একাধিক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সংস্কার করা।
ওয়াংচুকের সমর্থকদের অভিযোগ, অনশন চলাকালীন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও আন্দোলন ভাঙার উদ্দেশ্যেই তাঁকে হাসপাতালে সরানো হয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং আদালতের নির্দেশ অনুসারেই তাঁর স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী নেতারা বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, কোনও আন্দোলনকারীর জীবন বিপন্ন হতে দেওয়া যায় না এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
ওয়াংচুক হাসপাতালে থাকলেও তাঁর আন্দোলনকে ঘিরে কর্মসূচি আপাতত বন্ধ হচ্ছে না। সমর্থকদের দাবি, শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে নির্ধারিত কর্মসূচিগুলি আগের মতোই চলবে।
স্ত্রীর এই প্রকাশ্য আবেদন নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। এখন নজর, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারের সম্মতির প্রশ্নে কী অবস্থান নেয় এবং ওয়াংচুকের চিকিৎসা ও আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোয়।