Table of Contents
হাইলাইটস:
- সকালেই ইউরোপীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
- অভিযোগ, ইরান অভিযানে অধিকাংশ ন্যাটো সদস্য যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করেনি।
- কয়েক ঘণ্টা পরই নাটো নেতাদের সঙ্গে বৈঠককে বলেন “ভালোবাসা” ও “ঐক্যের” প্রতীক।
- যৌথ ঘোষণায় অনুচ্ছেদ–৫-এর প্রতি অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল ৩২ সদস্য দেশ।
- স্পেনকে বাণিজ্যিক হুমকি, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পুরনো দাবি ফের তুললেন ট্রাম্প।
- ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাবও দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সকালে ক্ষোভ, বিকেলে প্রশংসা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নাটো শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চেই সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দিনের শুরুতে ইউরোপীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করলেও, সম্মেলনের শেষভাগে তিনি একই জোটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন, “ঘরভর্তি ছিল ভালোবাসা ও ঐক্য।”
তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত দুই দিনের নাটো শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে ট্রাম্পের এই অবস্থান বদল আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
সকালেই ইউরোপের বিরুদ্ধে তোপ
দিনের শুরুতে নাটো মহাসচিব মার্ক রুটের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে কার্যত একা ফেলে দিয়েছে।
তাঁর দাবি, “সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আমরা লড়ছিলাম, অথচ আমাদের মিত্ররা পাশে দাঁড়ায়নি।”
বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রথমদিকে ব্রিটেন ইরানে হামলার জন্য তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি। ফলে মার্কিন যুদ্ধবিমানকে অনেক দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়েছে।
কয়েক ঘণ্টায় বদলে গেল সুর
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্পের বক্তব্যে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি।
তিনি বলেন, “এটি ছিল অসাধারণ বৈঠক। পুরো ঘরজুড়ে ছিল ভালোবাসা ও ঐক্য। আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গেই থাকতে চাই।”
সম্মেলনের শেষ সংবাদ সম্মেলনেও ট্রাম্প দাবি করেন, “আজকের সবচেয়ে বড় বার্তা হলো ঐক্য।”
এই মন্তব্যকে নাটোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক মহল। কারণ গত কয়েক মাস ধরে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে ইউরোপে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল।
অনুচ্ছেদ–৫-এ ফের জোর
সম্মেলনের শেষে গৃহীত যৌথ ঘোষণায় ৩২টি সদস্য দেশের নেতারা নাটোর অনুচ্ছেদ–৫-এর প্রতি অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনও একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা মানেই পুরো জোটের ওপর হামলা বলে গণ্য হবে।
ইউক্রেনকে বড় প্রস্তাব
জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ইউক্রেনকে দেশেই প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাগুলির মধ্যে এটিকে ধরা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
গ্রিনল্যান্ড ও স্পেনকে নিয়েও বিতর্ক
সম্মেলনে আবারও গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, ডেনমার্কের জন্য নয়।”
এর জবাবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। আমাদের ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি আমরা রক্ষা করব।”
অন্যদিকে প্রতিরক্ষা ব্যয় না বাড়ানোর অভিযোগ তুলে স্পেনকেও নিশানা করেন ট্রাম্প। এমনকি তিনি বলেন, “আমি স্পেনের সঙ্গে কোনও বাণিজ্য করতে চাই না।”
রুটের কূটনৈতিক ভারসাম্য
সম্মেলন জুড়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রশমিত করার চেষ্টা করেন নাটো মহাসচিব মার্ক রুটে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলিকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে বাধ্য করার কৃতিত্ব ট্রাম্পেরই।
রুটের মন্তব্য, “আপনি সেই কাজটি করেছেন, যা একসময় প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ারও করতে চেয়েছিলেন।”
জবাবে হাসতে হাসতেই ট্রাম্প বলেন, “এই কারণেই আমি ওঁকে পছন্দ করি।”
ইরানকে নিয়ে ফের কড়া মন্তব্য
এক সাংবাদিক যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি আর ইরানের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখতে চান না।
তাঁর মন্তব্য, “আমি আর ওদের নিয়ে মাথা ঘামাতে চাই না।”
অস্ত্রচুক্তিতে বড় ঘোষণা
ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক চললেও সম্মেলনে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। নাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৫,০০০ কোটি ডলারেরও বেশি আন্তর্জাতিক অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া ১২টি দেশ যৌথভাবে ৩০০ কিলোমিটার থেকে ২,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার নতুন প্রজন্মের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্যোগে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে স্পষ্ট, রাজনৈতিক বিতর্কের আড়ালেও সামরিক সহযোগিতা জোরদার করাই ছিল এবারের সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।