Home খবর ইরানিদের মধ্য আফ্রিকায় পাঠাতে চায় আমেরিকা, মানবাধিকার নিয়ে তীব্র উদ্বেগ

ইরানিদের মধ্য আফ্রিকায় পাঠাতে চায় আমেরিকা, মানবাধিকার নিয়ে তীব্র উদ্বেগ

0 comments 8 views 2 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • কয়েকজন ইরানি নাগরিককে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে (Central African Republic) পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে মার্কিন প্রশাসন।
  • নির্বাসিতদের মধ্যে দুই ইরানি নারী রয়েছেন, যাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হলে নির্যাতন ও নিপীড়নের আশঙ্কা রয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি।
  • আইনজীবী ও অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বা নিরাপত্তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
  • ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে এই পদক্ষেপকে।

মার্কিন প্রশাসন কয়েকজন ইরানি নাগরিককে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে নির্বাসিত করার পরিকল্পনা নেওয়ায় নতুন করে মানবাধিকার বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এই দলে অন্তত দুইজন ইরানি নারী রয়েছেন, যাঁরা ইরানে ফিরে গেলে গ্রেফতার, নির্যাতন এমনকি যৌন নিপীড়নের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের যুক্তি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনি ভিত্তি নেই। কিন্তু সমালোচকদের বক্তব্য, কাউকে এমন একটি দেশে পাঠানো উচিত নয় যেখানে তাঁর জীবন, স্বাধীনতা বা মৌলিক অধিকারের ওপর গুরুতর হুমকি তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে ইরানে নারী অধিকার, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া বা সামাজিক বিধিনিষেধের প্রতিবাদ করা বহু নারীকে গ্রেফতার ও কারাবন্দি করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই দুই নারীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

অধিকারকর্মীদের মতে, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র নিজেও রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য এবং নিরাপত্তা সংকটে জর্জরিত একটি দেশ। ফলে সেখানে নির্বাসিতদের পুনর্বাসন বা সুরক্ষা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কোনও ব্যক্তি যদি নিজের দেশে ফিরে যেতে না পারেন, তবে তাঁকে এমন একটি তৃতীয় দেশে পাঠানোর নৈতিক ও আইনি ভিত্তি কী।

এই ঘটনাকে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানোর উদ্যোগ বাড়িয়েছে। প্রশাসনের দাবি, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য এই ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, এতে আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন এবং ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতির লঙ্ঘন হতে পারে। এই নীতি অনুযায়ী, কাউকে এমন জায়গায় ফেরত পাঠানো যায় না যেখানে তাঁর নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে।

আইনজীবীরা ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং নির্বাসন প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রত্যেক ব্যক্তির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পৃথকভাবে বিচার না করে গণহারে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা গুরুতর মানবাধিকার সংকট তৈরি করতে পারে।

ফলে ইরানি নাগরিকদের এই সম্ভাব্য নির্বাসন শুধু অভিবাসন নীতির প্রশ্ন নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শরণার্থী সুরক্ষা ব্যবস্থার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার বিষয় হয়ে উঠেছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles