হাইলাইটস
- সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ফ্রান্স।
- জোড়া গোল করে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন কিলিয়ান এমবাপে।
- প্রথমার্ধে চাপে থাকলেও বিরতির পর দুরন্ত প্রত্যাবর্তন লে ব্লুদের।
- মাইকেল অলিসের সৃজনশীল ফুটবল ফরাসি জয়ে বড় ভূমিকা নেয়।
- ৫৮তম আন্তর্জাতিক গোল করে অলিভিয়ে জিরুকে ছাপিয়ে গেলেন এমবাপে।
বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল ফ্রান্স। কিন্তু সেনেগালের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের শুরুটা মোটেই আশাব্যঞ্জক ছিল না। প্রথমার্ধে দিদিয়ের দেশঁর দলকে বেশ অগোছালো ও ছন্দহীন দেখায়। তবে বিরতির পর যেন সম্পূর্ণ অন্য এক ফ্রান্স মাঠে নামে। শারীরিক শক্তি, গতি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতার মিশেলে তারা শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে হারিয়ে দেয় আফ্রিকার শক্তিশালী দল সেনেগালকে।ম্যাচের নায়ক অবশ্যই কিলিয়ান এমবাপে। ফরাসি অধিনায়ক দুটি গোল করে শুধু দলকে জয়ই এনে দেননি, গড়েছেন নতুন ইতিহাসও। দেশের হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা পৌঁছেছে ৫৮-তে, ফলে তিনি ছাপিয়ে গেছেন ফ্রান্সের প্রাক্তন স্ট্রাইকার অলিভিয়ে জিরুকে। এখন তিনি ফরাসি জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।ম্যাচ শেষে দেশঁ স্বীকার করেন, প্রথমার্ধে তাঁর দল প্রত্যাশামতো খেলতে পারেনি। যদিও তিনি দাবি করেন, বিরতির সময় তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি করেননি। বরং খেলোয়াড়দের খোলাখুলি জানিয়েছেন কোথায় ভুল হচ্ছে।দেশঁ বলেন, “আমি আমার খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি কথা বলি। প্রথমার্ধে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই ভালো খেলতে পারতাম। আমি চিৎকার করিনি, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা শান্ত হয়েছি। তবে খেলোয়াড়দের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”
দ্বিতীয়ার্ধে বড় পরিবর্তন ছিল মাইকেল অলিসেকে আরও কেন্দ্রীয় ভূমিকায় নিয়ে আসা। ওসমান দেম্বেলের পরিবর্তে অলিসে মাঝমাঠে বেশি স্বাধীনতা পান এবং সেখান থেকেই বদলে যায় ম্যাচের রূপ।দেশঁর কথায়, “আমি চেয়েছিলাম অলিসে আরও বেশি বল পাক। ও যত বেশি বল ছোঁয়, আমাদের জন্য ততই ভালো। এতে আক্রমণে ধার বেড়েছে।”প্রথমার্ধে কিন্তু সেনেগালই এগিয়ে যাওয়ার বেশি সুযোগ তৈরি করেছিল। সাদিও মানের শট দারুণভাবে বাঁচান মাইক মেনিয়াঁ। পরে ইসমাইলা সার প্রায় নিশ্চিত একটি সুযোগ নষ্ট করেন। সেই সময় ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে বেশ নড়বড়ে দেখাচ্ছিল।কিন্তু বিরতির পর ফরাসিরা গতি বাড়াতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে আসে। ঘণ্টাখানেকের মাথায় সেই আধিপত্য গোলেও পরিণত হয়।একটি দ্রুত আক্রমণে অলিসে মাঝমাঠ থেকে অসাধারণ একটি থ্রু পাস বাড়ান। বাম দিক থেকে ছুটে আসা এমবাপে বল নিয়ন্ত্রণ করে সহজেই জাল খুঁজে নেন। গোলের আগে অবশ্য একটি বিতর্কিত মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। পেনাল্টি বক্সে সাদিও মানের ট্যাকলে এমবাপে পড়ে গেলে অনেকেই পেনাল্টির আশা করেছিলেন। ভিডিও রিপ্লে দেখার পরও রেফারি আলিরেজা ফাঘানি নিজের সিদ্ধান্ত বদলাননি।তবে সেই বিতর্ক ম্যাচের ফলাফলে কোনও প্রভাব ফেলেনি। অলিসে ও এমবাপের বোঝাপড়া ক্রমশ আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। অলিসের একের পর এক নিখুঁত পাসে সেনেগালের রক্ষণ চাপে পড়ে যায় ম্যাচের ৮২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বদলি খেলোয়াড় ব্র্যাডলি বারকোলা। আদ্রিয়ান রাবিওর দারুণ উদ্যোগ থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে তিনি গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্ডিকে পরাস্ত করেন।অতিরিক্ত সময়ে সেনেগালের বদলি ফুটবলার ইব্রাহিম এমবায়ে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করেন। তখন কিছুটা উত্তেজনা ফিরলেও শেষ হাসি হাসেন এমবাপে। যোগ করা সময়েই তাঁর বাঁক খাওয়া শক্তিশালী শট মেন্ডির হাত ফসকে জালে জড়িয়ে যায়। সেই গোলই তাঁকে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে দেয়।বিশ্বকাপে এমবাপের গোলসংখ্যাও আরও বেড়ে গেল। এখন তাঁর সামনে রয়েছেন শুধু ব্রাজিলের কিংবদন্তি Ronaldo Nazário এবং জার্মানির Miroslav Klose।সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও অবশ্য হতাশ হলেও ভেঙে পড়েননি। তাঁর মতে, প্রথমার্ধের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ছবিটা অন্যরকম হতে পারত।তিনি বলেন, “অর্ধসময়ের আগে আমরা এক বা দুই গোলে এগিয়ে থাকতে পারতাম। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স আমাদের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। তাদের মতো প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে এত সহজে বল হারালে শাস্তি পেতেই হয়।”তবে সেনেগালের সামনে এখনও নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ রয়েছে। তাদের পরের দুই প্রতিপক্ষ নরওয়ে ও ইরাক। থিয়াওর বিশ্বাস, ওই দুই ম্যাচ থেকে ছয় পয়েন্ট সংগ্রহ করেই তারা পরের রাউন্ডে যাওয়ার লড়াই চালিয়ে যাবে।প্রথম ম্যাচের শুরুটা নিখুঁত না হলেও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স দেখিয়ে দিল কেন তাদের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার ধরা হচ্ছে। আর এমবাপে জানিয়ে দিলেন, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনিও আছেন সবচেয়ে সামনে।