বাংলাস্ফিয়ার: পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান থেকে জইশ-ই-মহম্মদের এক সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। পুলিশ সূত্রের দাবি, ধৃত হামিদ মণ্ডলের মোবাইল ফোন থেকে এমন তথ্য মিলেছে, যা থেকে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বর্ধমান শহরের একটি আবাসন থেকে এসটিএফের অভিযানে হামিদ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের ওই এলাকায় গত দু’মাস ধরে তিনি ভাড়া থাকছিলেন এবং একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর আদি বাড়ি হাওড়ায়।
পুলিশ সূত্রের দাবি, হামিদের জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার সন্দেহ রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি পাকিস্তানে থাকা এক হ্যান্ডলারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। বর্তমানে এসটিএফ এবং বর্ধমান জেলা পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
গ্রেপ্তারের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। এসটিএফ এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তারা বিষয়টি দেখছেন। আন্তর্জাতিক যোগ থাকতে পারে। তদন্ত চলছে। শনিবার এসটিএফ সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্তারিত জানাবে।”
তদন্তকারীদের দাবি, বর্ধমানে আসার আগে হামিদ কলকাতার নিউ টাউনের একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে থাকতেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চলাফেরা এবং তাঁর কনভয়ের যাতায়াতের রুট সম্পর্কে নজরদারি চালাচ্ছিলেন।
পুলিশ সূত্রের আরও দাবি, ধৃতের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে পাকিস্তানভিত্তিক যোগাযোগের সূত্র মিলেছে। হামিদ ভারতীয় নাগরিক কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, তিনি যেসব বাড়িতে ভাড়া ছিলেন, সেসব বাড়ির মালিকরা ভাড়াটিয়ার পরিচয় যাচাইয়ের জন্য পুলিশের আনুষ্ঠানিক যাচাইকরণ (পুলিশ ভেরিফিকেশন) করিয়েছিলেন কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।